ঢাকা ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
লালমনিরহাটে ভারত গজলডোবা ব্যারাজের ৪০টি গেট খুলে দেওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি কুমিল্লায় স্কুল ছাত্র গুলিবিদ্ধের ঘটনায় বিদেশি পিস্তল ও গুলি সহ গ্রেফতার-৪ ফতুল্লা উত্তর দেলপাড়ায় স্ত্রী ধারালো অস্ত্র দিয়ে স্বামীকে নির্মম হত্যা ঘাতক স্ত্রী গ্রেফতার অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের কর্মকাণ্ড তদন্তের দাবি সংসদে, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চট্টগ্রামে ব্যাংকের ১৭ লক্ষ টাকা চুরির রহস্য উদ্ঘাটন নিরাপত্তা প্রহরী রংপুর থেকে গ্রেফতার কক্সবাজার ইয়াবা সহ আটক ১ ভোলায় ফুটপাতের পাগলী মা হলেও বাবা হলোনা কেউ নবীনগরে গাঁজা সহ আটক-১ দুধকুমার নদের পানি বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপরে

ফেনীতে স্বামীর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভোট দেওয়ার অপরাধে গৃহবধূকে তালাক

জান্নাতুল ফাহিমা তানহা, নিজেস্ব প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১২:১৭:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৪৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

জান্নাতুল ফাহিমা তানহা,
নিজেস্ব প্রতিনিধি:

ফেনীতে স্বামীর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভোট দেওয়ার অপরাধে বিবি জহুরা নামে এক গৃহবধূকে তালাক দিয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক নেতা।

১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর বাঁশতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় জনতার তোপের মুখে পালিয়ে গিয়েছেন ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের নয় নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন কাওসার।

এর আগে ঘটনার পর পর স্থানীয় লোকজন কাওসারকে মারধর করে আটক রাখেন।

স্ত্রীকে দেওয়া মৌখিক তালাক ফিরিয়ে নেবেন এমন কথা বলে কৌশলে পালিয়ে যান তিনি, কাওসার ওই এলাকার মৃত ইউসূফ হাজারীর ছেলে।

এ ঘটনার পর বিবি জহুরাকে ঘিরে এলাকায় নারী-পুরুষের ভিড় চলছে, অন্য দিকে তিন সন্তান নিয়ে জহুরা পড়েছেন অনিশ্চিত ভবিষ্যতে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায় যে, ১১ ফেব্রুয়ারি বুধবার বিকেলে জহুরাকে ভোট কেন্দ্রে না যেতে নিষেধ করেন তার স্বামী কাওসার, কিন্তু জহুরা প্রথম বার ভোটার হওয়ায় উৎসাহের সঙ্গে তিন সন্তানকে নিয়ে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেন সকাল সাড়ে ৯টায় তখন কাওসার ঘুমিয়ে ছিলেন, ভোট দিয়ে সকাল ১০টায় ঘরে ফিরে স্বামী সহ সবার জন্য নাশতা বানান।

কাওসার ঘুম থেকে উঠে সকাল ১১টার দিকে নাশতা খায়, এরপর এলাকায় ঘোরাফেরা করে দুপুরে ভাত খেয়ে ফের ঘুমিয়ে পড়েন তিনি, বিকেলে ঘুম থেকে উঠে বাড়ির পাশের রাস্তায় গিয়ে জানতে পারেন তার স্ত্রী ভোট দিতে কেন্দ্রে গিযেছিলেন, এ খবর শুনে সন্ধ্যার সময় স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করেন ভোটের বিষয়ে জহুরা তার জীবনের প্রথম ভোট দেওয়ার কথা জানান।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বাড়ির পাশের রাস্তায় জহুরাকে মৌখিক তিন তালাক দেন কাওসার, এ সময় স্ত্রীকে তার ঘরে যেতে বারণ করেন, আশপাশের লোকজন এ নিয়ে ক্ষোভ জানিয়ে কাওসারকে আটক করে রাখে, এক পর্যায়ে জনসমাগম বাড়তে থাকলে বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে কাওসার কৌশলে পালিয়ে যান।

২০১৩ সালে ফেনী সদর উপজেলার মধুয়াবাজার এলাকার নুর আহম্মদের মেয়ে বিবি জহুরার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন কাওসার, এর মধ্যে তাদের সংসারে আবদুল আলিম শুভ (১২), সাবিনা আফরিস ইভানা (৮), ইসরাত জাহান ইসমাত (৪) নামে তিন সন্তান জন্ম নেয়।

নুরুল আফছার নামে এক গ্রামবাসী জানান, বিয়ের পর থেকেই জহুরাকে সবসময় মারধর করতেন কাওসার। এ নিয়ে কয়েকবার সামাজিক ভাবে বিচার বৈঠক হয়।

আলী আহম্মদ নামে আরেকজন জানান, শ্বশুরকেও মারধর করেন কয়েকবার কাওসার।

মোহাম্মদ আজাদ নামে স্থানীয় এক সালিশদার জানান, কয়েকবার বিচারে তিনি উপস্থিত ছিলেন।

কাওসার একজন উগ্র লোক উল্লেখ করে তিনি জানান, আওয়ামী লীগের শাসনামলে তিনি এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে মানুষকে জিম্মি করতেন।

আরেকটি সূত্রে জানা যায় যে, বাবার পরিবার অসচ্ছল হওয়ায় সন্তানদের কথা বিবেচনা করে স্ত্রী অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালান, কাওসার ফেনী শহরের রেলগেট এলাকায় বেডিং কারিগর হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।

তবে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি অনেকটা ঘরে আবদ্ধ থাকতেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

ফেনীতে স্বামীর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভোট দেওয়ার অপরাধে গৃহবধূকে তালাক

আপডেট সময় : ১২:১৭:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
print news

জান্নাতুল ফাহিমা তানহা,
নিজেস্ব প্রতিনিধি:

ফেনীতে স্বামীর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভোট দেওয়ার অপরাধে বিবি জহুরা নামে এক গৃহবধূকে তালাক দিয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক নেতা।

১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর বাঁশতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় জনতার তোপের মুখে পালিয়ে গিয়েছেন ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের নয় নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন কাওসার।

এর আগে ঘটনার পর পর স্থানীয় লোকজন কাওসারকে মারধর করে আটক রাখেন।

স্ত্রীকে দেওয়া মৌখিক তালাক ফিরিয়ে নেবেন এমন কথা বলে কৌশলে পালিয়ে যান তিনি, কাওসার ওই এলাকার মৃত ইউসূফ হাজারীর ছেলে।

এ ঘটনার পর বিবি জহুরাকে ঘিরে এলাকায় নারী-পুরুষের ভিড় চলছে, অন্য দিকে তিন সন্তান নিয়ে জহুরা পড়েছেন অনিশ্চিত ভবিষ্যতে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায় যে, ১১ ফেব্রুয়ারি বুধবার বিকেলে জহুরাকে ভোট কেন্দ্রে না যেতে নিষেধ করেন তার স্বামী কাওসার, কিন্তু জহুরা প্রথম বার ভোটার হওয়ায় উৎসাহের সঙ্গে তিন সন্তানকে নিয়ে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেন সকাল সাড়ে ৯টায় তখন কাওসার ঘুমিয়ে ছিলেন, ভোট দিয়ে সকাল ১০টায় ঘরে ফিরে স্বামী সহ সবার জন্য নাশতা বানান।

কাওসার ঘুম থেকে উঠে সকাল ১১টার দিকে নাশতা খায়, এরপর এলাকায় ঘোরাফেরা করে দুপুরে ভাত খেয়ে ফের ঘুমিয়ে পড়েন তিনি, বিকেলে ঘুম থেকে উঠে বাড়ির পাশের রাস্তায় গিয়ে জানতে পারেন তার স্ত্রী ভোট দিতে কেন্দ্রে গিযেছিলেন, এ খবর শুনে সন্ধ্যার সময় স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করেন ভোটের বিষয়ে জহুরা তার জীবনের প্রথম ভোট দেওয়ার কথা জানান।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বাড়ির পাশের রাস্তায় জহুরাকে মৌখিক তিন তালাক দেন কাওসার, এ সময় স্ত্রীকে তার ঘরে যেতে বারণ করেন, আশপাশের লোকজন এ নিয়ে ক্ষোভ জানিয়ে কাওসারকে আটক করে রাখে, এক পর্যায়ে জনসমাগম বাড়তে থাকলে বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে কাওসার কৌশলে পালিয়ে যান।

২০১৩ সালে ফেনী সদর উপজেলার মধুয়াবাজার এলাকার নুর আহম্মদের মেয়ে বিবি জহুরার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন কাওসার, এর মধ্যে তাদের সংসারে আবদুল আলিম শুভ (১২), সাবিনা আফরিস ইভানা (৮), ইসরাত জাহান ইসমাত (৪) নামে তিন সন্তান জন্ম নেয়।

নুরুল আফছার নামে এক গ্রামবাসী জানান, বিয়ের পর থেকেই জহুরাকে সবসময় মারধর করতেন কাওসার। এ নিয়ে কয়েকবার সামাজিক ভাবে বিচার বৈঠক হয়।

আলী আহম্মদ নামে আরেকজন জানান, শ্বশুরকেও মারধর করেন কয়েকবার কাওসার।

মোহাম্মদ আজাদ নামে স্থানীয় এক সালিশদার জানান, কয়েকবার বিচারে তিনি উপস্থিত ছিলেন।

কাওসার একজন উগ্র লোক উল্লেখ করে তিনি জানান, আওয়ামী লীগের শাসনামলে তিনি এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে মানুষকে জিম্মি করতেন।

আরেকটি সূত্রে জানা যায় যে, বাবার পরিবার অসচ্ছল হওয়ায় সন্তানদের কথা বিবেচনা করে স্ত্রী অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালান, কাওসার ফেনী শহরের রেলগেট এলাকায় বেডিং কারিগর হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।

তবে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি অনেকটা ঘরে আবদ্ধ থাকতেন।