মধুখালীতে ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে বৃদ্ধের ৫ বছরের কারাদণ্ড
- আপডেট সময় : ০৬:৪৪:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে

ফরিদপুরের মধুখালীতে আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে জামাল মোল্লা নামের ৬৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং পরে পুলিশ পাহারায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, আসামি জামাল মোল্লা মধুখালী উপজেলার মাবকান্দি পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা। ভুক্তভোগী শিশুটি রাজবাড়ী সদর থানার বানিয়াবহু হুগলাডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা এবং তার বাবার নাম মো. সৈয়দ মণ্ডল। ঘটনার সূত্রপাত ২০২৬ সালের ৩ মে বিকেলে, যখন শিশুটি বাড়ির পাশে এক দর্জির বাড়িতে নতুন জামা-কাপড় আনতে গিয়েছিল। দর্জি বাড়িতে না থাকায় শিশুটি আসামির বাড়ির উঠানে তার নাতনিসহ অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল। এই সুযোগে জামাল মোল্লা শিশুটিকে তার বসতঘরের ভেতরে নিয়ে যান এবং মুখ চেপে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
একপর্যায়ে শিশুটি আসামির হাত থেকে ছুটে পালানোর সময় বাড়ির সিঁড়িতে পড়ে গিয়ে চিৎকার করতে শুরু করে। তার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। মামলার নথিতে আরও উল্লেখ রয়েছে যে, ঘটনার পরপরই আসামি কৌশলে বাড়ি থেকে পালিয়ে আত্মগোপন করেছিলেন।
দীর্ঘ সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আদালত আসামি জামাল মোল্লাকে দোষী সাব্যস্ত করে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার অর্থ অনাদায়ী থাকলে তাকে আরও তিন বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে রায়ে জানানো হয়। মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) গোলাম রব্বানী বলেন, সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই আদালত আসামিকে সাজা দিয়েছেন। তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে আইনের যথাযথ প্রয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


























