ঝুঁকি নিয়ে চলছে কালীগঞ্জের শতবর্ষী বিদ্যালয়ের পাঠদান
- আপডেট সময় : ০৫:৫৩:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সরকারি নলডাঙ্গা ভূষণ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রায় একশ বছরের পুরোনো একটি ভবন ব্যবহারের অনুপযোগী ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এরপরও ভবনটির ভেতরেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পাঠদান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, ১৪ কক্ষবিশিষ্ট এই পুরোনো দুইতলা ভবনটিতে প্রধান শিক্ষকের কক্ষ, সহকারী শিক্ষকদের কক্ষ, নামাজঘর এবং একাধিক শ্রেণিকক্ষ রয়েছে। ফলে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীকে এই ভবনের ভেতরেই অবস্থান করতে হয়।
ভবনটির বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। ছাদের বিভিন্ন অংশ থেকে কংক্রিট খসে পড়ছে এবং কোথাও কোথাও ছাদের ভেতরের রড উন্মুক্ত হয়ে গেছে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও কাঠামোগত দুর্বলতার স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। ছাদ থেকে খসে পড়া কংক্রিটের টুকরো মেঝেতে পড়ে থাকতেও দেখা গেছে। বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক রুহুল আমীন জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা ভবনটি পরিদর্শন করে সেটিকে ব্যবহারের অনুপযোগী বা পরিত্যক্ত হিসেবে মতামত দিয়েছেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মকবুল হোসেন তোতা জানান, ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার বিষয়টি একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তিনি দ্রুত পুরোনো ভবনটি অপসারণ করে নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। ঝিনাইদহ জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত কুমার পালও নিশ্চিত করেছেন যে, ভবনটি পরিদর্শনের পর পরিত্যক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা এই পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, দেড় শতাব্দীর ঐতিহ্যবাহী এই সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা দাবি তুলেছেন, কোনো দুর্ঘটনার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি অপসারণ করে আধুনিক ও নিরাপদ একাডেমিক ভবন নির্মাণ করতে হবে।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৮৬৯ সালে রাজা ইন্দু ভূষণ দেব রায়ের উদ্যোগে ‘মিডিল ইংলিশ স্কুল’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসছে। পরবর্তীতে ১৮৮২ সালে রাজা বাহাদুর প্রমথ ভূষণ দেব রায় এটিকে ‘ইংলিশ হাই স্কুল’-এ উন্নীত করেন। ১৯০৯ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতি পাওয়া এই বিদ্যালয়টি ১৯৩৫ সালে বর্তমান কালীগঞ্জ থানা সদরে স্থানান্তরিত হয়। ১৯৩৬ সালে কবিরাজ মহেন্দ্রনাথ সরকার মাঠের জন্য ৩.৪১ একর জমি দান করেন। ১৯৯২ সালে জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া বিদ্যালয়টি ২০১৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয়করণ করা হয়। তবে গৌরবময় ইতিহাসের সাক্ষী এই বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবনটি এখন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য মারাত্মক নিরাপত্তাঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
১৯১৫ সালের পূর্ব পর্যন্ত এখানে কোনো মুসলমান শিক্ষক বা শিক্ষার্থী না থাকায় পরবর্তীতে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
১৯৫৭ সাল থেকে বিদ্যালয়টি সরকারি মঞ্জুরীপ্রাপ্ত হয় এবং পরবর্তীতে বিজ্ঞান, কৃষি, বাণিজ্য ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল আর্টসহ বিভিন্ন শাখা চালু হয়।


























