বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার নিয়ন্ত্রণ ও ‘নিজস্ব প্রশাসন’ নিয়ে রাজউককে সংসদীয় কমিটির প্রশ্ন
- আপডেট সময় : ১১:২৫:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার নিয়ন্ত্রণ, সেখানে জমি বেচাকেনা এবং নিজস্ব প্রশাসন গড়ে তোলার বিষয়ে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) কাছে জবাব চেয়েছে জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান-সম্পর্কিত কমিটি। কমিটির বৈঠকে সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, বসুন্ধরা এলাকায় নিজস্ব ট্রাফিক ব্যবস্থা ও কর আদায়ের মাধ্যমে কার্যত ‘রাষ্ট্রের ভেতর আরেকটি রাষ্ট্র’ তৈরি করা হয়েছে।
জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে রাজউকের সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনাকালে এই প্রসঙ্গটি ওঠে। বৈঠক সূত্র জানায়, একাধিক সংসদ সদস্য বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ওপর রাজউক বা সরকারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। একজন সদস্য বৈঠকে বলেন, ওই এলাকায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করে বসুন্ধরার নিজস্ব কর্মীরা। সেখানে জমি কেনাবেচা করতে গেলে বসুন্ধরা গ্রুপকে মোটা অঙ্কের কমিশন দিতে হয় এবং ডিশ লাইনের সংযোগও তাদের কাছ থেকেই নিতে হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটির সদস্য খোন্দকার আবু আশফাক বলেন, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা নিয়ে সাধারণ মানুষের বহু অভিযোগ রয়েছে। তারা সেখানে একটি আলাদা রাজত্ব ও নিজস্ব প্রশাসন গড়ে তুলেছে। সেখানে জমি বিক্রি করতে গেলে কাঠাপ্রতি বসুন্ধরাকে টাকা দিতে হয় এবং তারা হোল্ডিং করও আদায় করে। এমনকি ড্রেন নির্মাণ বা ডিশ লাইনের সংযোগ দেওয়ার মতো কাজও তাদের অনুমতি ছাড়া করা যায় না। তিনি এই বিষয়গুলো কমিটির বৈঠকে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন। বৈঠকে রাজউকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কাগজে-কলমে এলাকাটি সিটি করপোরেশনের আওতাধীন হলেও এখনো সেখানে সিটি করপোরেশনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
বৈঠকে রাজউকের অন্যান্য কার্যক্রমের পাশাপাশি ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে পূর্বাচলে বরাদ্দ দেওয়া প্লট বাতিল এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়। রাজউক কমিটিকে জানায়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকায় নতুন করে আর কোনো প্লট বরাদ্দ দেওয়া যাবে না। তবে রাজউকের জমিতে বহুতল অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিং নির্মাণ করে ফ্ল্যাট দেওয়া যেতে পারে।
বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পূর্বাচল নতুন শহর项目中 জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রাপ্য প্লট দ্রুত নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে কমিটি। একই সঙ্গে অতীতে প্লট বরাদ্দে অনিয়ম ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন ভূমিনির্ভর প্রকল্পের বদলে বহুতল ভবন নির্মাণের মাধ্যমে আবাসন সুবিধা সম্প্রসারণের পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। বৈঠকে রাজউকের সার্বিক কার্যক্রম, চলমান প্রকল্প, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও নিরীক্ষা প্রতিবেদনও পর্যালোচনা করা হয়।
কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের চিহফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে অংশ নেন হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, তাহসিনা রুশদীর, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া এবং মোহাম্মদ কামাল হোসেন।
সূত্র জানায়, ২০০১-০৬ সালে পূর্বাচলে রাজউকের বরাদ্দ দেওয়া প্লট বাতিল করার বিষয়ে আলোচনা হয়।





























