ভিডিও কলে স্বামীর গালাগালের পর গৃহবধূর বিষপান, ঢামেকে মৃত্যু
- আপডেট সময় : ১২:১৯:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

কুয়েতপ্রবাসী স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে বিষপান করা ঝুমুর খানম সেতু (২৭) নামের এক গৃহবধূ মারা গেছেন। সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত ঝুমুর বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের উত্তর শিহিপাশা গ্রামের আব্দুল করিম খানের মেয়ে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার (৪ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১১টার দিকে বাবার বাড়িতে বিষপান করেন ঝুমুর। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে আগৈলঝাড়া উপজেলা হাসপাতালে এবং পরে রাতেই বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে সোমবার বেলা ১১টার দিকে চিকিৎসকেরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠান। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে তার মৃত্যু হয়।
প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর আগে গৌরনদী পৌর এলাকার চরগাধাতলী গ্রামের মৃত হারুন কাজীর ছেলে শাহারিয়া কাজী ওরফে শাহাবুদ্দিনের সঙ্গে ঝুমুরের বিয়ে হয়েছিল। তাদের চার বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। ঝুমুরের বাবা আব্দুল করিম খানের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই যৌতুক, প্রত্যাশা অনুযায়ী বরযাত্রী না হওয়া এবং ঝুমুরের গায়ের রঙ ও চেহারা নিয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে মানসিক নির্যাতন করে আসছিলেন। জীবিকার তাগিদে শাহারিয়া কুয়েত যাওয়ার পরও দূর থেকে নির্যাতন থামেনি।
আব্দুল করিম খান আরও দাবি করেন, শাহারিয়ারের মা রুনু বেগম, বোন নাজমিন বেগম, শারমিন ও রিয়া এবং নাজমিনের স্বামী সাইদুল হাওলাদারের প্ররোচনায় নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। একপর্যায়ে ঝুমুরকে তার শিশুকন্যাসহ বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হলে তিনি বাবার বাড়িতে এসে আশ্রয় নেন। ঘটনার রাতে স্বামীর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলার সময় ঝুমুরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং একপর্যায়ে বিষপান করে মরতে বলা হয়। এরপরই পরিবারের সবার অজান্তে তিনি বিষপান করেন। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নিহতের বাবা। তবে এ বিষয়ে শাহারিয়ারের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।





























