নবাবগঞ্জে ৯ অক্টোবর ঐতিহ্যবাহী শরৎকালীন নাড়ু উৎসব
- আপডেট সময় : ১২:২১:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

বাংলার মাটি, ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি এবং শেকড়ের খাবারের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের মেলবন্ধন ঘটাতে ঢাকার নবাবগঞ্জে আয়োজন করা হচ্ছে ‘শরৎকালীন নাড়ু উৎসব ২০২৬’। আগামী শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেল ৪টা থেকে নবাবগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ উৎসব শুরু হবে। এবারের উৎসবের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘মাটির সংস্কৃতি ধরে রাখবো আমরা, ছড়িয়ে দেব সারা বিশ্বে’।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, গ্রামীণ ঐতিহ্য, লোকজ সংস্কৃতি ও পারিবারিক মূল্যবোধকে একসূত্রে গেঁথে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। দিনব্যাপী এই উৎসবের মূল আকর্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ঐতিহ্যবাহী নাড়ু প্রতিযোগিতা, গুণীজন সম্মাননা ও পুরস্কার বিতরণী।
উৎসবে আয়োজিত নাড়ু প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আগ্রহীদের অনুষ্ঠানস্থলেই ১০০ টাকা ফি দিয়ে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হবে। প্রতিযোগীদের নিজেদের তৈরি পর্যাপ্ত পরিমাণ নাড়ু এবং এর রেসিপি সঙ্গে নিয়ে আসতে হবে। নাড়ুর পরিচ্ছন্নতা, স্বাদ ও পরিবেশনের (ডেকোরেশন) ওপর ভিত্তি করে বিজয়ীদের নির্বাচন করা হবে। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া প্রত্যেকেই সার্টিফিকেট পাবেন এবং প্রথম তিন স্থানাধিকারীকে বিশেষ সম্মাননা ও পুরস্কার দেওয়া হবে। এই প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সেলিব্রিটি রন্ধনশিল্পী ও আয়ুর্বেদিক এক্সপার্ট রাহিমা সুলতানা রীতা এবং ফুড অ্যান্ড কুলিনারি এক্সপার্ট ইতি মিজান。
উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা এবং নবাবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের প্রাক্তন ছাত্র সমিতির সভাপতি মাহমুদ আলী খান টুলু। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ইয়াসিন খন্দকার, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম খন্দকার, দপ্তর সম্পাদক খন্দকার মাহমুদ আরশীন এবং স্ক্রিপ্ট রাইটার সাদিয়া খালিদ রীতি। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও চেয়ারপার্সন তামান্না রহমানকে অনুষ্ঠানে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হবে।
অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের স্বনামধন্য উদ্যোক্তা, শেফ, লেখক ও শিল্পীরা সশরীরে উপস্থিত থাকবেন। পাশাপাশি ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকবেন ভারতের কণ্ঠশিল্পী ও অভিনেত্রী ইন্দ্রাণী ভট্টাচার্য এবং উদ্যোক্তা অমৃতা দত্ত। নবাবগঞ্জ ললিতকলা একাডেমির (নাফা) ব্যবস্থাপনা পরিচালক লতিফা রহমান লতার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি পরিকল্পনা ও পরিচালনা করছেন নাফার সাধারণ সম্পাদক এবং ইয়ারার প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি সায়মা রহমান তুলি।
আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি কেবল কোনো খাবারের উৎসব নয়, বরং নাড়ুর স্বাদ ও ঐতিহ্যের মধ্য দিয়ে বাংলার সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দেওয়ার এক অনন্য প্রয়াস। ‘এসো, নাড়ুর স্বাদে শেকড়ের গল্প বলি—এসো, বাংলার ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিই’—এই আহ্বানের মধ্য দিয়েই মুখরিত হবে এবারের শরৎকালীন নাড়ু উৎসবের প্রাঙ্গণ।




























