ঢাকা ০২:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ওয়াহাজ-ইয়ুমনার ‘তেরে বিন ২’ নিয়ে শুটিংয়ের নতুন খবর রংপুরে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপিত, মর্যাদা রক্ষার আহ্বান আবরার হত্যা মামলা: আপিল নিষ্পত্তিতে আরও ৫ বছর লাগার শঙ্কা ৪২ জেলায় ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযানে ১১৯ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা সিরাজগঞ্জে বাবার লাঠির আঘাতে ৯ মাসের শিশুর মৃত্যু ‘ঘুষ খাওয়ার জন্যই পোশাক লাগিয়েছি’, চুনারুঘাটের এএসআইয়ের ভিডিও ভাইরাল মেসির বিদায়ী ম্যাচে বেনিনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ আগে ফ্যাসিস্টদের বিচার, পরে জাতীয় পুনর্মিলন: ডেপুটি স্পিকার অতীত পেরিয়ে নতুন বছরে মোনালিসা, জন্মদিনে জানালেন কৃতজ্ঞতা বোমা হামলার হুমকি পেল ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, তদন্তে গোয়েন্দারা

ব্রিটেনের ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে সব বোমারু বিমান সরাল যুক্তরাষ্ট্র

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৪:১৯:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ব্রিটেনের মাটিতে অবস্থিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি রয়্যাল এয়ার ফোর্স (আরএএফ) ফেয়ারফোর্ড থেকে সব ধরনের বোমারু বিমান সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত রবিবার (৪ অক্টোবর) মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন নিশ্চিত করেছে যে, ওই ঘাঁটিতে মোতায়েন থাকা বি-১, বি-২ এবং বি-৫২ বোমারু বিমানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ঘাঁটিতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক অভিযানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই ঘাঁটি থেকে হঠাৎ বিমান সরিয়ে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ পেন্টাগন বিস্তারিত প্রকাশ করেনি।

তবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর এই সিদ্ধান্তটি এসেছে ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিকে কেন্দ্র করে একটি সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী হামলার তদন্ত শুরু হওয়ার এক সপ্তাহের মাথায়। গত ২৭ সেপ্টেম্বর ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির কাছে কয়েকটি সন্দেহজনক যানবাহন ও মানুষের উপস্থিতি নজরে আসার পর পাঁচ ব্রিটিশ নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। বিস্ফোরক সংক্রান্ত অপরাধ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সন্দেহে তাদের গ্রেপ্তার করা হলেও তল্লাশিতে তিনটি ভ্যানে পেট্রল ছাড়া কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে তাদের জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। এরপর ১ অক্টোবর একই তদন্তের অংশ হিসেবে লন্ডনে এক ব্রিটিশ-ইরানি নাগরিককেও গ্রেপ্তার করে পরে জামিনে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এই ঘটনার সঙ্গে ইরানের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। ইংল্যান্ডের সরকারের প্রধান অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেছেন, এই ঘটনায় ইরানের জড়িত থাকার ‘জোরালো ইঙ্গিত’ রয়েছে। অবশ্য তেহরান এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। ব্রিটিশ সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ জানিয়েছে, তারা বিদেশি রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতাসহ সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখছে। ফলে ইরানের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন একটি অভিযোগ হিসেবেই রয়েছে, যা প্রমাণিত হয়নি।

ইউরোপে মার্কিন বোমারু বিমানের অন্যতম প্রধান অগ্রবর্তী ঘাঁটি হিসেবে ফেয়ারফোর্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে মার্কিন বি-১ বোমারু বিমানগুলো এই ঘাঁটি থেকেই উড্ডয়ন করে অভিযান চালাত। ফলে এই ঘাঁটিটি কেবল ব্রিটেনের জন্যই নয়, বরং ওয়াশিংটনের ইরানবিরোধী সামরিক কৌশলেরও একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। এমন একটি কৌশলগত স্থান থেকে বিমান সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে তাই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পেন্টাগন অবশ্য বিষয়টিকে একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে সামরিক প্রস্তুতি ও অভিযান পরিচালনার প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী মার্কিন বোমারু বিমান নিয়মিত বিভিন্ন ঘাঁটিতে মোতায়েন ও প্রত্যাহার করা হয়। বিমানগুলো যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গেলেও সেগুলো দূরপাল্লার যেকোনো হামলার জন্য সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। তবে সম্প্রতি আসা কিছু বিমানকে এত দ্রুত ফেরত পাঠানো এবং ঘাঁটির নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হওয়া আশঙ্কার কারণে এই সিদ্ধান্তের সময়কাল নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠছে।

এরই মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুদ্ধের পরবর্তী ধাপ কী হতে পারে, তা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো ইরানের বিরুদ্ধে আরও সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। গত শনিবার তিনি মন্তব্য করেছেন যে, ইরান নিয়ে তাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—তিনি ‘সহজ পথ’ নাকি ‘কঠিন পথ’ বেছে নেবেন। ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের পর ফেয়ারফোর্ড থেকে বিমান প্রত্যাহারকে কেবল নিরাপত্তাজনিত ব্যবস্থা হিসেবে দেখছেন না অনেকে। এটি যদি সাময়িক পদক্ষেপ হয়, তবে বিমানগুলো আবার ইউরোপে ফিরতে পারে; আর যদি এটি ইরান কৌশলে পরিবর্তনের অংশ হয়, তবে এর প্রভাব হবে আরও সুদূরপ্রসারী।

বর্তমানে বোমারু বিমানগুলো যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গেলেও ফেয়ারফোর্ডকে ঘিরে তৈরি হওয়া নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক প্রশ্নগুলো এখনো রয়ে গেছে। তবে এই উদ্ভূত পরিস্থিতির মধ্যেও ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সামরিক সম্পর্ক আগের মতোই ঘনিষ্ঠ রয়েছে এবং ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিটি মার্কিন সামরিক কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেই বহাল থাকছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

ব্রিটেনের ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে সব বোমারু বিমান সরাল যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট সময় : ০৪:১৯:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

ব্রিটেনের মাটিতে অবস্থিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি রয়্যাল এয়ার ফোর্স (আরএএফ) ফেয়ারফোর্ড থেকে সব ধরনের বোমারু বিমান সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত রবিবার (৪ অক্টোবর) মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন নিশ্চিত করেছে যে, ওই ঘাঁটিতে মোতায়েন থাকা বি-১, বি-২ এবং বি-৫২ বোমারু বিমানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ঘাঁটিতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক অভিযানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই ঘাঁটি থেকে হঠাৎ বিমান সরিয়ে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ পেন্টাগন বিস্তারিত প্রকাশ করেনি।

তবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর এই সিদ্ধান্তটি এসেছে ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিকে কেন্দ্র করে একটি সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী হামলার তদন্ত শুরু হওয়ার এক সপ্তাহের মাথায়। গত ২৭ সেপ্টেম্বর ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির কাছে কয়েকটি সন্দেহজনক যানবাহন ও মানুষের উপস্থিতি নজরে আসার পর পাঁচ ব্রিটিশ নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। বিস্ফোরক সংক্রান্ত অপরাধ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সন্দেহে তাদের গ্রেপ্তার করা হলেও তল্লাশিতে তিনটি ভ্যানে পেট্রল ছাড়া কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে তাদের জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। এরপর ১ অক্টোবর একই তদন্তের অংশ হিসেবে লন্ডনে এক ব্রিটিশ-ইরানি নাগরিককেও গ্রেপ্তার করে পরে জামিনে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এই ঘটনার সঙ্গে ইরানের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। ইংল্যান্ডের সরকারের প্রধান অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেছেন, এই ঘটনায় ইরানের জড়িত থাকার ‘জোরালো ইঙ্গিত’ রয়েছে। অবশ্য তেহরান এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। ব্রিটিশ সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ জানিয়েছে, তারা বিদেশি রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতাসহ সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখছে। ফলে ইরানের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন একটি অভিযোগ হিসেবেই রয়েছে, যা প্রমাণিত হয়নি।

ইউরোপে মার্কিন বোমারু বিমানের অন্যতম প্রধান অগ্রবর্তী ঘাঁটি হিসেবে ফেয়ারফোর্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে মার্কিন বি-১ বোমারু বিমানগুলো এই ঘাঁটি থেকেই উড্ডয়ন করে অভিযান চালাত। ফলে এই ঘাঁটিটি কেবল ব্রিটেনের জন্যই নয়, বরং ওয়াশিংটনের ইরানবিরোধী সামরিক কৌশলেরও একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। এমন একটি কৌশলগত স্থান থেকে বিমান সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে তাই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পেন্টাগন অবশ্য বিষয়টিকে একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে সামরিক প্রস্তুতি ও অভিযান পরিচালনার প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী মার্কিন বোমারু বিমান নিয়মিত বিভিন্ন ঘাঁটিতে মোতায়েন ও প্রত্যাহার করা হয়। বিমানগুলো যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গেলেও সেগুলো দূরপাল্লার যেকোনো হামলার জন্য সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। তবে সম্প্রতি আসা কিছু বিমানকে এত দ্রুত ফেরত পাঠানো এবং ঘাঁটির নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হওয়া আশঙ্কার কারণে এই সিদ্ধান্তের সময়কাল নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠছে।

এরই মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুদ্ধের পরবর্তী ধাপ কী হতে পারে, তা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো ইরানের বিরুদ্ধে আরও সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। গত শনিবার তিনি মন্তব্য করেছেন যে, ইরান নিয়ে তাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—তিনি ‘সহজ পথ’ নাকি ‘কঠিন পথ’ বেছে নেবেন। ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের পর ফেয়ারফোর্ড থেকে বিমান প্রত্যাহারকে কেবল নিরাপত্তাজনিত ব্যবস্থা হিসেবে দেখছেন না অনেকে। এটি যদি সাময়িক পদক্ষেপ হয়, তবে বিমানগুলো আবার ইউরোপে ফিরতে পারে; আর যদি এটি ইরান কৌশলে পরিবর্তনের অংশ হয়, তবে এর প্রভাব হবে আরও সুদূরপ্রসারী।

বর্তমানে বোমারু বিমানগুলো যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গেলেও ফেয়ারফোর্ডকে ঘিরে তৈরি হওয়া নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক প্রশ্নগুলো এখনো রয়ে গেছে। তবে এই উদ্ভূত পরিস্থিতির মধ্যেও ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সামরিক সম্পর্ক আগের মতোই ঘনিষ্ঠ রয়েছে এবং ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিটি মার্কিন সামরিক কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেই বহাল থাকছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin