ইয়েমেনে যুদ্ধের দামামা, মধ্যপ্রাচ্যে কূটনীতির জায়গা নিচ্ছে সংঘাত
- আপডেট সময় : ১২:১৬:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

ইয়েমেনে হুতি-সৌদি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসে হুতিরা আকস্মিক অভিযানে লোহিত সাগরের উপকূলীয় যে কৌশলগত এলাকা দখল করেছিল, তা পুনর্দখলে নিতে ইয়েমেন সরকারকে সহায়তার পরিকল্পনা করছে রিয়াদ। এই সংঘাতের রেশ ধরে শনিবার রিয়াদ ও সানায় হামলার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া ইয়েমেনের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির সদস্য দেশগুলো জরুরি বৈঠক করতে যাচ্ছে।
একই সময়ে ইরানের চারপাশে মার্কিন সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ওয়াশিংটন উপসাগরীয় অঞ্চলে আরও কয়েক হাজার সেনা এবং একটি বিমানবাহী রণতরী বহর পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান-ইসরাইল সংঘাতের আগে যেভাবে মার্কিন সামরিক শক্তি জড়ো করা হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে তার মিল রয়েছে। ইয়েমেন ও ইরান পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তারা ক্যাম্প ডেভিডে বৈঠক করেছেন বলেও জানা গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে কূটনীতির জায়গা ক্রমেই যুদ্ধ দখল করে নিচ্ছে। ইয়েমেনের মানবিক পরিস্থিতি বর্তমানে ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, দেশটিতে ২০ লাখের বেশি শিশুসহ লাখ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটের সম্মুখীন এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এই যুদ্ধে আরও আঞ্চলিক দেশ জড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংকট নিরসনে মুসলিম ও আরব দেশগুলোর উচিত সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি পুনর্বহালে মধ্যস্থতা করা। হুতি আনসারুল্লাহ গোষ্ঠীর উচিত সৌদি আরবে হামলা বন্ধের প্রতিশ্রুতি দেওয়া এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা। অন্যদিকে, সৌদি আরবের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে হুতি নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে এবং সব পক্ষকে অভ্যন্তরীণ সংঘাত শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের পথ বেছে নিতে।
ইয়েমেনের এই যুদ্ধ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলছে এবং বিভিন্ন দেশের হস্তক্ষেপ সত্ত্বেও তা থামেনি। ইরানের ক্ষেত্রেও ট্রাম্প প্রশাসনের কৌশল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ডনাল্ড ট্রাম্প নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত সামরিক অভিযান স্থগিত রেখে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সংঘাত শুরুর পরিকল্পনা করছেন বলে মনে করা হচ্ছে, যা বড় ধরনের ভুল হতে পারে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের আগ্রাসনে ইরানে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো নতুন করে যুদ্ধের ধকল সামলানোর অবস্থায় নেই। ট্রাম্প সম্প্রতি হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন, যা পুনর্বিবেচনা করে তেহরানের সঙ্গে পুনরায় সংলাপ শুরুর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইরানেরও উচিত প্রতিশ্রুতি দেওয়া যে, নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হলে তারা হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে। ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি প্রশংসিত হলেও, উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য জায়গা থেকেও মার্কিন সেনাদের ফিরিয়ে নেওয়া এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানে একই ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।


























