নতুন হুমকির মুখে যুক্তরাজ্য থেকে মার্কিন বোমারু বিমান প্রত্যাহার
- আপডেট সময় : ১০:২৭:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

অজ্ঞাত নতুন হুমকির মুখে যুক্তরাজ্যে মোতায়েন থাকা সব দূরপাল্লার মার্কিন বোমারু বিমান ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে অবস্থানরত বিমানগুলো সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সাধারণত নিরাপত্তা ঝুঁকির ক্ষেত্রে বিমানগুলো ওই অঞ্চলের অন্য কোনো ঘাঁটিতে স্থানান্তর করা হয়, তবে এবার সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বেশ অস্বাভাবিক বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র এই পরিস্থিতিকে ‘বাস্তব হুমকি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে ঠিক কী ধরনের হুমকির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
এর আগে আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে মার্কিন বি-১ বোমারু বিমান পরিচালনা করা হচ্ছিল, যা ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত হয়েছে। ঘাঁটিটি মার্কিন গ্লোবাল স্ট্রাইক কমান্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ অপারেটিং লোকেশন হিসেবে পরিচিত। বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়ার এই ঘটনা এমন সময়ে ঘটল যখন ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি ঘিরে কথিত একটি ষড়যন্ত্রের তদন্ত চলছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর বিস্ফোরক-সংক্রান্ত অপরাধ ও সন্ত্রাসবাদের সন্দেহে ব্রিটিশ পুলিশ ২৩ থেকে ২৫ বছর বয়সী পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছিল। যদিও পরে তাদের জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং তাদের ব্যবহৃত ভ্যানে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি, তবুও তারা এখনো তদন্তের আওতায় রয়েছেন। এই পাঁচজনকে দ্রুত জামিনে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার ২৫ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ-ইরানি দ্বৈত নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম জানিয়েছেন, এই ঘটনায় ইরানের সম্পৃক্ততার ‘জোরালো ইঙ্গিত’ রয়েছে, যদিও তদন্ত এখনো চলমান। এদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই ষড়যন্ত্রে বিদেশি শক্তির সংশ্লিষ্টতার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিলেন। তবে তেহরান এই অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা এবং চলমান তদন্তের কারণে যুক্তরাজ্যে অবস্থিত এই গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাটির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।



























