আখতারুজ্জামানের ১ দিনের রিমান্ড, উত্তরায় জামায়াতের বিক্ষোভ
- আপডেট সময় : ০৩:৪২:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মারধর ও হুমকির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে এক দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। এদিকে তাঁর গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ও অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
শুক্রবার বিকেলে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের উদ্যোগে উত্তরা এলাকায় এই বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি উত্তরার জসিম উদ্দিন সড়কের মোড় থেকে শুরু হয়ে বিমানবন্দর সড়কে গিয়ে শেষ হয় এবং সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ইয়াসিন আরাফাত, উত্তরা মডেল থানার আমির ইব্রাহীম খলীল, উত্তরা পশ্চিম থানার আমির মাজহারুল ইসলাম এবং উত্তরা পূর্ব থানার আমির মাহফুজুর রহমানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির সেলিম উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সামান্য কথা-কাটাকাটির জের ধরে কোনো দায়িত্বশীল সংস্থার পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ না করে উল্টো মামলা দিয়ে দ্রুত গ্রেপ্তার করা কোনোভাবেই দায়িত্বশীল আচরণ হতে পারে না। এর আগে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে এই গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা জানান। তিনি অভিযোগ করেন, গত ১ অক্টোবর ওমরাহ পালন শেষে বিমানবন্দরে ফেরার পর আখতারুজ্জামান অন্য যাত্রীদের মতো হয়রানির শিকার হন। কোনো তদন্ত ছাড়াই উদ্দেশ্যমূলকভাবে মামলা দিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিমানবন্দরে দীর্ঘদিন ধরে চলা যাত্রী হয়রানি ও লাগেজ ভোগান্তির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও জানান তিনি।
ঘটনার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার ওমরাহ শেষ করে দেশে ফেরার পর ট্রলি ও জমজমের পানি নিয়ে বিমানবন্দর কর্মকর্তাদের সঙ্গে আখতারুজ্জামানের কথা-কাটাকাটি হয়। জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই সময় তাঁর সঙ্গে দলটির ৩৪ জন সংসদ সদস্যও ছিলেন। একটি ভিডিওতে তাঁকে বিমানবন্দরের এক কর্মকর্তার সঙ্গে উচ্চবাচ্য করতে দেখা যায়। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, আখতারুজ্জামান কর্মকর্তাদের পদায়ন নিয়ে মন্তব্য করেন এবং তাঁদের ঘাড় ধরে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন। এছাড়া নিরাপত্তাকর্মীদের মারধরের অভিযোগও আনা হয় তাঁর বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে হুমকি এবং নিরাপত্তা সুপারভাইজারকে মারধরের অভিযোগ আনা হয়েছে। এই মামলার পরই আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ এবং আদালত তাঁর এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তবে পুলিশ জানিয়েছে, মামলার অভিযোগগুলো এখন তদন্তাধীন রয়েছে।
রাজনৈতিক জীবনে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে বিএনপির টিকিটে কিশোরগঞ্জ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে একাধিকবার দল থেকে বহিষ্কৃত হন তিনি। ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে আবারও বিএনপিতে ফিরে মনোনয়ন পান। তবে ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেওয়ার পর দল থেকে আবারও বহিষ্কৃত হন। পরবর্তীতে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন।





























