ঢাকা ০৪:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি ছুটির তালিকায় যুক্ত হলো দুই ঈদ মনপুরায় ১০০ ইয়াবাসহ দুই যুবক আটক রণবীরের জন্মদিনে আলিয়ার বিশেষ পোস্ট, নেটদুনিয়ায় মুগ্ধতা ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা সংসার সাজানোর আগেই ডেঙ্গুতে প্রাণ হারালেন চিকিৎসক আঁচল রায় জয়পুরহাটে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ধ্বংসস্তূপের মাঝেও টিকে আছে গাজার মানুষের জীবন ও স্বপ্ন উগান্ডায় নতুন রাজা হিসেবে অভিষিক্ত হচ্ছেন সাংবাদিক এডওয়ার্ড রুকিদি স্কুল পর্যায়ে ফুটবলের প্রসারে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়-ফিফার যৌথ উদ্যোগ সালমান শাহ হত্যা মামলা: প্রতিবেদন জমার নতুন তারিখ ৫ নভেম্বর

যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষিণ এশীয়দের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বেড়েছে ২৪০ শতাংশ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১২:৩৮:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূতদের, বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের নাগরিকদের লক্ষ্য করে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বা 'হেট স্পিচ' আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। অলাভজনক সংস্থা 'সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব অর্গানাইজড হেট' (সিএসওএইচ)-এর এক গবেষণা প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে, যা অনলাইন আল জাজিরা প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন মাসের মধ্যে এই বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের হার অন্তত ২৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে দক্ষিণ এশীয়দের নিশানা করে বিদ্বেষমূলক পোস্টের সংখ্যা ছিল ১২ হাজার ৯০৪টি, যা ২০২৬ সালের জুনে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩ হাজার ৮৪৩টিতে। কেবল ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এ সংক্রান্ত ৫ লাখ ৪২ হাজারের বেশি পোস্ট শনাক্ত করা হয়েছে। এসব পোস্টের প্রায় অর্ধেক অংশেই দক্ষিণ এশীয়দের 'অনুপ্রবেশকারী', 'চাকরি দখলকারী' কিংবা জনসংখ্যার জন্য হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

গবেষকরা এই বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়ার পেছনে কয়েকটি মূল কারণ চিহ্নিত করেছেন। এর মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযান ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য, অর্থনীতি নিয়ে স্থানীয়দের উদ্বেগ এবং মার্কিন সমাজে দক্ষিণ এশীয়দের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এছাড়া, জাতপাত ও বর্ণবিদ্বেষমূলক বিভিন্ন গালি এবং অপরিচ্ছন্ন বা অস্বাস্থ্যকর হিসেবে কটাক্ষ করে দেওয়া পোস্টের হারও ১৭১ শতাংশ বেড়েছে।

গবেষকরা আরও উল্লেখ করেছেন যে, এইচ-১বি ভিসা বিতর্ক এবং মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর কাজ ভারতে আউটসোর্সিং করার বিরুদ্ধে ট্রাম্পের কড়া বক্তব্য এই বিদ্বেষকে মারাত্মকভাবে উসকে দিয়েছে। অতীতে যাদের 'মডেল মাইনরিটি' বলা হতো, এখন স্থানীয় আমেরিকানদের চাকরির সংকট দেখিয়ে তাদের 'সুবিধাবাদী ও প্রতারক' হিসেবে দাঁড় করানো হচ্ছে। এমনকি কমলা হ্যারিস, নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি বা ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের স্ত্রী ঊষা ভ্যান্সের মতো দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও উভয় রাজনৈতিক দল থেকেই এমন ঘৃণার শিকার হচ্ছেন।

অনলাইন বিদ্বেষের পাশাপাশি বাস্তবেও এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি উটাহ ও ওয়াইওমিংয়ে শিখ ও মুসলিমদের ওপর প্রাণঘাতী ছুরিকাঘাতের মতো ঘটনা ঘটেছে। গবেষকরা সতর্ক করেছেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি বিকৃত ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে এই জাতিগত বিদ্বেষকে আরও বিপজ্জনক রূপ দেওয়া হচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষিণ এশীয়দের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বেড়েছে ২৪০ শতাংশ

আপডেট সময় : ১২:৩৮:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূতদের, বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের নাগরিকদের লক্ষ্য করে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বা 'হেট স্পিচ' আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। অলাভজনক সংস্থা 'সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব অর্গানাইজড হেট' (সিএসওএইচ)-এর এক গবেষণা প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে, যা অনলাইন আল জাজিরা প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন মাসের মধ্যে এই বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের হার অন্তত ২৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে দক্ষিণ এশীয়দের নিশানা করে বিদ্বেষমূলক পোস্টের সংখ্যা ছিল ১২ হাজার ৯০৪টি, যা ২০২৬ সালের জুনে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩ হাজার ৮৪৩টিতে। কেবল ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এ সংক্রান্ত ৫ লাখ ৪২ হাজারের বেশি পোস্ট শনাক্ত করা হয়েছে। এসব পোস্টের প্রায় অর্ধেক অংশেই দক্ষিণ এশীয়দের 'অনুপ্রবেশকারী', 'চাকরি দখলকারী' কিংবা জনসংখ্যার জন্য হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

গবেষকরা এই বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়ার পেছনে কয়েকটি মূল কারণ চিহ্নিত করেছেন। এর মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযান ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য, অর্থনীতি নিয়ে স্থানীয়দের উদ্বেগ এবং মার্কিন সমাজে দক্ষিণ এশীয়দের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এছাড়া, জাতপাত ও বর্ণবিদ্বেষমূলক বিভিন্ন গালি এবং অপরিচ্ছন্ন বা অস্বাস্থ্যকর হিসেবে কটাক্ষ করে দেওয়া পোস্টের হারও ১৭১ শতাংশ বেড়েছে।

গবেষকরা আরও উল্লেখ করেছেন যে, এইচ-১বি ভিসা বিতর্ক এবং মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর কাজ ভারতে আউটসোর্সিং করার বিরুদ্ধে ট্রাম্পের কড়া বক্তব্য এই বিদ্বেষকে মারাত্মকভাবে উসকে দিয়েছে। অতীতে যাদের 'মডেল মাইনরিটি' বলা হতো, এখন স্থানীয় আমেরিকানদের চাকরির সংকট দেখিয়ে তাদের 'সুবিধাবাদী ও প্রতারক' হিসেবে দাঁড় করানো হচ্ছে। এমনকি কমলা হ্যারিস, নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি বা ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের স্ত্রী ঊষা ভ্যান্সের মতো দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও উভয় রাজনৈতিক দল থেকেই এমন ঘৃণার শিকার হচ্ছেন।

অনলাইন বিদ্বেষের পাশাপাশি বাস্তবেও এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি উটাহ ও ওয়াইওমিংয়ে শিখ ও মুসলিমদের ওপর প্রাণঘাতী ছুরিকাঘাতের মতো ঘটনা ঘটেছে। গবেষকরা সতর্ক করেছেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি বিকৃত ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে এই জাতিগত বিদ্বেষকে আরও বিপজ্জনক রূপ দেওয়া হচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin