কারাবন্দিদের জন্য ভিডিও কলে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ
- আপডেট সময় : ০৭:৩৮:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

কারাগারের চার দেয়ালের বন্দিজীবনে স্বজনদের সরাসরি দেখার আকুলতা দূর করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে কারা অধিদপ্তর। এখন থেকে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে কয়েদি ও হাজতিরা সপ্তাহে একবার ১০ মিনিট ভিডিও কলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাবেন। মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ইতিমধ্যে এই সুবিধা চালু হয়েছে এবং শিগগিরই তা সারা দেশে সম্প্রসারিত করা হবে।
ঢাকা কারা অধিদপ্তরের জেলার (লজিস্টিক অ্যান্ড মিডিয়া) মাসুদ হাসান জুয়েল জানিয়েছেন, এই আধুনিক ও মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গোপনীয়তা বজায় রাখা হবে। তিনি আরও জানান, বন্দিদের দক্ষ করে তুলতে উৎপাদনশীল কাজের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এ সাবান উৎপাদন কার্যক্রম চলছে, যা বন্দি ও স্টাফদের সরবরাহ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে বন্দিদের প্রশিক্ষণ ও উৎপাদনমুখী কার্যক্রম আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের।
কারাগারের মৌলিক সেবার মানোন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বন্দি ও কর্মীদের নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এ মিনারেল ড্রিংকিং ওয়াটার প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা বাড়াতে কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারা হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ এবং কারা সদর দপ্তরে প্যাথলজি ল্যাব চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ৫৫ জন ডিপ্লোমা নার্সের সুপারিশ পাওয়া গেছে, যারা নিয়োগ পেলে স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত হবে।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ফারুক আহমেদ জানান, ঢাকা জেলে রুটি তৈরির প্রক্রিয়া আধুনিক ও সুশৃঙ্খল করতে চীন থেকে রুটি মেকার আমদানি করা হয়েছে। এর ফলে কম সময়ে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে বিপুল সংখ্যক বন্দির জন্য রুটি প্রস্তুত করা সম্ভব হচ্ছে। এছাড়া বিশেষ দিবসে উন্নত খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা এবং খাদ্য প্রস্তুত ও পরিবেশন ব্যবস্থা আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কারা অধিদপ্তর জানিয়েছে, একটি আধুনিক কারা ব্যবস্থা গড়তে প্রযুক্তিনির্ভর সেবা ও প্রশিক্ষিত জনবল অপরিহার্য। তাই কারারক্ষী থেকে শুরু করে জেল সুপার পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পেশাগত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।




























