ঢাকা ০১:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দাখিলের ট্রান্সক্রিপ্ট ও টেবুলেশন শিট বিতরণ শুরু আজ ১ অক্টোবরের মধ্যে নিয়োগ পাবেন বঞ্চিত ৮১৭ জন শিক্ষক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ৭ কর্মী গ্রেপ্তার, শেখ হাসিনার জন্মদিন উদ্‌যাপন করছিলেন মোহাম্মদপুর ও আদাবরে জমি দখল ও হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ১৩ সমুদ্রপথের সীমাবদ্ধতায় স্থলবাণিজ্যের দিকে ঝুঁকছে ইরান পুলিশি হেফাজত থেকে পালানোর ঘটনায় ৫ পুলিশ সদস্য বরখাস্ত খুলনার রূপসায় মাছের ঘের থেকে যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার দাপ্তরিক দায়িত্বহীন ১১ সচিব: সরকারি কোষাগারে কোটি টাকার বোঝা লক্ষ্মীপুরে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ২৪৪ জন আটক ওয়াশিংটনে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী, মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তুতি

নেপাল সীমান্তে হিমালয় কন্যার বুকে প্রলয়ংকরী জলবোমার আঘাত

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১২:০৮:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



প্রকৃতির নির্মম ও আকস্মিক তাণ্ডবে নেপাল-তিব্বত সীমান্ত অঞ্চল এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে, যা যেকোনো কল্পবিজ্ঞান বা হরর মুভির বিভীষিকাকেও হার মানিয়েছে। কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই মুহূর্তের মধ্যে এক বিশাল বরফ-কাদা ও পানির দানবীয় ঢেউ আছড়ে পড়ে শত শত প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এবং হাজারেরও বেশি মানুষকে নিমিষে উধাও করে দিয়েছে। নুয়াকোটের ত্রিশূলী বাজারের এক ব্যবসায়ী জানান, কোনো বৃষ্টিপাত ছাড়াই হঠাৎ প্রশাসনের অস্পষ্ট সতর্কবার্তা পাওয়ার পরপরই বিশাল এক পলির প্রাচীর জনপদকে গ্রাস করে। চোখের সামনেই তাঁর স্ত্রী ও সন্তান নদীর প্রবল স্রোতে ভেসে যান। বাঁচার জন্য অনেকে উঁচু স্থানে দৌড় দিলেও জলোচ্ছ্বাসের প্রবল স্রোত মুহূর্তের মধ্যে তাদের চাপা দিয়ে চলে যায়।

এই ট্র্যাজেডি নেপালের রাসুয়া, নুয়াকোট এবং ধাদিং জেলায় এক গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে। রাসুয়ার প্রধান শুল্ক কর্মকর্তা রাজেন্দ্র ধুঙ্গানা জানান, তিনি প্রায় ১০০ মিটার উঁচু ঢেউয়ের মতো পানি ধেয়ে আসতে দেখেছেন, যা চোখের পলকে আস্ত একটি বাজার ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) এবং নেপালের আবহাওয়া ও জলবিজ্ঞান বিভাগের যৌথ সিসমিক বিশ্লেষণ নিশ্চিত করেছে যে, ঘটনাটি ভূকম্পনজাত নয়। পাহাড়ের চূড়া থেকে বিশাল আকৃতির বরফখণ্ড (Glacier Ice) এবং শিলাখণ্ড ধসে পড়ে এক ভয়াবহ ভূ-ধসের (Landslide) সৃষ্টি করে।

এই বিশাল ধস ভোতেকোশি ও তার উপনদী লেন্দে খোলার স্বাভাবিক গতিপথ রুদ্ধ করে একটি অস্থায়ী জলাধার বা ‘জলবোমা’ তৈরি করেছিল। আধা ঘণ্টার মধ্যে নদী অববাহিকায় আটকে থাকা সেই বিপুল জলরাশি বরফের প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে তাণ্ডব চালিয়ে নিচের দিকে ধেয়ে আসে। কাঠমান্ডুভিত্তিক ‘আইসিমোড’ (ICIMOD)-এর তথ্যানুযায়ী, মাত্র ৩০ মিনিটে ত্রিশূলী নদীর পানির উচ্চতা ৯ মিটার (প্রায় ৩০ ফুট) পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।

নেপাল পুলিশ ইতিমধ্যে চার শতাধিক মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, তবে বাস্তব পরিস্থিতি বহুগুণ ভয়াবহ। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের হিসাব মতে, নিহত ও আহত মিলে সম্ভাব্য সংখ্যা অন্তত কয়েক হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার চরম আশঙ্কা রয়েছে। কাদামাটি, পাথর ও প্রলয়ঙ্করী স্রোতের নিচে চাপা পড়ে আছে শত শত বহুতল ভবন, পাহাড়ি সড়ক, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু। এই বিপর্যয়ের বড় শিকার হয়েছেন ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া এবং মালয়েশিয়া থেকে আসা শত শত বিদেশি পর্যটক এবং কৈলাস মানস সরোবরের পুণ্যার্থী তীর্থযাত্রীরা। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ২৮৮ জন ভারতীয় নাগরিকের সাথে কোনো যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

আন্তর্জাতিক পাহাড়ি পরিবেশ গবেষণা সংস্থা ‘আইসিমোড’-এর বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছিলেন যে, হিমালয় অঞ্চল বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। জলবায়ু ঝুঁকি হ্রাস বিশেষজ্ঞ শাশ্বত সান্যাল উল্লেখ করেছেন, লেন্দে খোলা নদীতে গত ১৪ মাসের মধ্যে এটি দ্বিতীয়বারের মতো ভয়াবহ বন্যার ঘটনা। পাহাড়ের চূড়ায় অস্বাভাবিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও অতিবৃষ্টির ফলে হিমবাহগুলো অতি দ্রুত গলে যাচ্ছে এবং ভেতরের বরফের বাঁধ শক্তি হারাচ্ছে। এর ফলে সৃষ্ট হিমবাহ হ্রদ ভেঙে আছড়ে পড়ছে হাজার হাজার টন কাদা ও বরফগলিত পানি (GLOF)। এটি কেবল প্রকৃতির খামখেয়ালিপনা নয়, বরং মানবসৃষ্ট দূষণ এবং অনিয়ন্ত্রিত জলবায়ু পরিবর্তনের সুদূরপ্রসারী ফল।

ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সেন্টার ফর ডিজাস্টার স্টাডিজ’-এর পরিচালক বসন্ত রাজ অধিকারী সতর্ক করেছেন যে, নতুন করে ভারী বৃষ্টিপাত না হলেও পাহাড়ের গায়ে ঝুলে থাকা হাজার হাজার টন শিথিল পাথর ও কাদা যেকোনো মুহূর্তে আবারও খসে পড়তে পারে। এর ফলে বন্যা ও ভূমিধসের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ঢেউ’ আঘাত হানার চরম ঝুঁকি রয়েছে। বর্তমানে উপদ্রুত অঞ্চলগুলো সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকায় কাদা-পানি পেরিয়ে উদ্ধারকর্মীরা জীবনবাজি রেখে অনুসন্ধান চালাচ্ছেন। পাহাড় চূড়ায় আটকে পড়া পর্যটক ও তীর্থযাত্রীদের হেলিকপ্টারে উদ্ধারের চেষ্টা করা হলেও আবহাওয়ার প্রতিকূলতা বারবার বাধা সৃষ্টি করছে।

নেপালের এই চরম বিপদের দিনে প্রথম সাড়া দানকারী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ-এর নিকট প্রেরিত এক বার্তায় গভীর শোক প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, সংকটময় মুহূর্তে যেকোনো সহায়তায় বাংলাদেশ প্রস্তুত। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানালের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন এবং উদ্ধারকাজে অংশ নিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও স্পেশালাইজড মেডিকেল টিম পাঠানোর প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি, বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয় এবং এক মিনিট নীরবতা পালনসহ নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় মোনাজাত করা হয়। ভারত, চীন, যুক্তরাজ্য ও আন্তর্জাতিক রেডক্রসসহ (IFRC) বিশ্ব সম্প্রদায় এই ট্র্যাজেডিতে নেপালের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

নেপাল সীমান্তে হিমালয় কন্যার বুকে প্রলয়ংকরী জলবোমার আঘাত

আপডেট সময় : ১২:০৮:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

প্রকৃতির নির্মম ও আকস্মিক তাণ্ডবে নেপাল-তিব্বত সীমান্ত অঞ্চল এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে, যা যেকোনো কল্পবিজ্ঞান বা হরর মুভির বিভীষিকাকেও হার মানিয়েছে। কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই মুহূর্তের মধ্যে এক বিশাল বরফ-কাদা ও পানির দানবীয় ঢেউ আছড়ে পড়ে শত শত প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এবং হাজারেরও বেশি মানুষকে নিমিষে উধাও করে দিয়েছে। নুয়াকোটের ত্রিশূলী বাজারের এক ব্যবসায়ী জানান, কোনো বৃষ্টিপাত ছাড়াই হঠাৎ প্রশাসনের অস্পষ্ট সতর্কবার্তা পাওয়ার পরপরই বিশাল এক পলির প্রাচীর জনপদকে গ্রাস করে। চোখের সামনেই তাঁর স্ত্রী ও সন্তান নদীর প্রবল স্রোতে ভেসে যান। বাঁচার জন্য অনেকে উঁচু স্থানে দৌড় দিলেও জলোচ্ছ্বাসের প্রবল স্রোত মুহূর্তের মধ্যে তাদের চাপা দিয়ে চলে যায়।

এই ট্র্যাজেডি নেপালের রাসুয়া, নুয়াকোট এবং ধাদিং জেলায় এক গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে। রাসুয়ার প্রধান শুল্ক কর্মকর্তা রাজেন্দ্র ধুঙ্গানা জানান, তিনি প্রায় ১০০ মিটার উঁচু ঢেউয়ের মতো পানি ধেয়ে আসতে দেখেছেন, যা চোখের পলকে আস্ত একটি বাজার ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) এবং নেপালের আবহাওয়া ও জলবিজ্ঞান বিভাগের যৌথ সিসমিক বিশ্লেষণ নিশ্চিত করেছে যে, ঘটনাটি ভূকম্পনজাত নয়। পাহাড়ের চূড়া থেকে বিশাল আকৃতির বরফখণ্ড (Glacier Ice) এবং শিলাখণ্ড ধসে পড়ে এক ভয়াবহ ভূ-ধসের (Landslide) সৃষ্টি করে।

এই বিশাল ধস ভোতেকোশি ও তার উপনদী লেন্দে খোলার স্বাভাবিক গতিপথ রুদ্ধ করে একটি অস্থায়ী জলাধার বা ‘জলবোমা’ তৈরি করেছিল। আধা ঘণ্টার মধ্যে নদী অববাহিকায় আটকে থাকা সেই বিপুল জলরাশি বরফের প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে তাণ্ডব চালিয়ে নিচের দিকে ধেয়ে আসে। কাঠমান্ডুভিত্তিক ‘আইসিমোড’ (ICIMOD)-এর তথ্যানুযায়ী, মাত্র ৩০ মিনিটে ত্রিশূলী নদীর পানির উচ্চতা ৯ মিটার (প্রায় ৩০ ফুট) পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।

নেপাল পুলিশ ইতিমধ্যে চার শতাধিক মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, তবে বাস্তব পরিস্থিতি বহুগুণ ভয়াবহ। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের হিসাব মতে, নিহত ও আহত মিলে সম্ভাব্য সংখ্যা অন্তত কয়েক হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার চরম আশঙ্কা রয়েছে। কাদামাটি, পাথর ও প্রলয়ঙ্করী স্রোতের নিচে চাপা পড়ে আছে শত শত বহুতল ভবন, পাহাড়ি সড়ক, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু। এই বিপর্যয়ের বড় শিকার হয়েছেন ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া এবং মালয়েশিয়া থেকে আসা শত শত বিদেশি পর্যটক এবং কৈলাস মানস সরোবরের পুণ্যার্থী তীর্থযাত্রীরা। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ২৮৮ জন ভারতীয় নাগরিকের সাথে কোনো যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

আন্তর্জাতিক পাহাড়ি পরিবেশ গবেষণা সংস্থা ‘আইসিমোড’-এর বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছিলেন যে, হিমালয় অঞ্চল বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। জলবায়ু ঝুঁকি হ্রাস বিশেষজ্ঞ শাশ্বত সান্যাল উল্লেখ করেছেন, লেন্দে খোলা নদীতে গত ১৪ মাসের মধ্যে এটি দ্বিতীয়বারের মতো ভয়াবহ বন্যার ঘটনা। পাহাড়ের চূড়ায় অস্বাভাবিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও অতিবৃষ্টির ফলে হিমবাহগুলো অতি দ্রুত গলে যাচ্ছে এবং ভেতরের বরফের বাঁধ শক্তি হারাচ্ছে। এর ফলে সৃষ্ট হিমবাহ হ্রদ ভেঙে আছড়ে পড়ছে হাজার হাজার টন কাদা ও বরফগলিত পানি (GLOF)। এটি কেবল প্রকৃতির খামখেয়ালিপনা নয়, বরং মানবসৃষ্ট দূষণ এবং অনিয়ন্ত্রিত জলবায়ু পরিবর্তনের সুদূরপ্রসারী ফল।

ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সেন্টার ফর ডিজাস্টার স্টাডিজ’-এর পরিচালক বসন্ত রাজ অধিকারী সতর্ক করেছেন যে, নতুন করে ভারী বৃষ্টিপাত না হলেও পাহাড়ের গায়ে ঝুলে থাকা হাজার হাজার টন শিথিল পাথর ও কাদা যেকোনো মুহূর্তে আবারও খসে পড়তে পারে। এর ফলে বন্যা ও ভূমিধসের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ঢেউ’ আঘাত হানার চরম ঝুঁকি রয়েছে। বর্তমানে উপদ্রুত অঞ্চলগুলো সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকায় কাদা-পানি পেরিয়ে উদ্ধারকর্মীরা জীবনবাজি রেখে অনুসন্ধান চালাচ্ছেন। পাহাড় চূড়ায় আটকে পড়া পর্যটক ও তীর্থযাত্রীদের হেলিকপ্টারে উদ্ধারের চেষ্টা করা হলেও আবহাওয়ার প্রতিকূলতা বারবার বাধা সৃষ্টি করছে।

নেপালের এই চরম বিপদের দিনে প্রথম সাড়া দানকারী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ-এর নিকট প্রেরিত এক বার্তায় গভীর শোক প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, সংকটময় মুহূর্তে যেকোনো সহায়তায় বাংলাদেশ প্রস্তুত। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানালের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন এবং উদ্ধারকাজে অংশ নিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও স্পেশালাইজড মেডিকেল টিম পাঠানোর প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি, বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয় এবং এক মিনিট নীরবতা পালনসহ নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় মোনাজাত করা হয়। ভারত, চীন, যুক্তরাজ্য ও আন্তর্জাতিক রেডক্রসসহ (IFRC) বিশ্ব সম্প্রদায় এই ট্র্যাজেডিতে নেপালের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin