ঢাকা ০২:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দর্শনা চেকপোস্টে ভারতে পালানোর সময় হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার মঞ্চে এল হান্ট থিয়েটারের নতুন নাটক ‘তবুও প্রেম আসে’ সীতাকুণ্ডে কলাবাগানে তরুণীর হাত-পা বাঁধা লাশ, স্বামীসহ গ্রেপ্তার ৪ জ্বালানি তেলের প্রভাবে রাজধানীর বাজারে চালের দাম বৃদ্ধি ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের পাঁচ নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করল কেন্দ্রীয় কমিটি রায়গঞ্জে নারকেল গাছ পরিষ্কার করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু অসহায় মেয়েদের বিয়ে দেওয়া যার শখ, সম্পন্ন করলেন ১১৩তম আয়োজন হাসপাতালে জামায়াত নেতা মুজিবুর রহমানকে দেখতে গেলেন গোলাম পরওয়ার ২০২৭ সালে তিস্তা মহাপরিকল্পনা শুরুর আশা ত্রাণমন্ত্রীর আশুলিয়ায় ৫ ঝুটের গুদাম ও বাড়িতে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৪ ইউনিট

ঘুমের মধ্যে হঠাৎ শরীর ঝাঁকুনি দিয়ে ওঠার কারণ ও প্রতিকার

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬ ৩৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ঘুমের মধ্যে হঠাৎ মনে হওয়া যে আপনি উঁচু কোনো জায়গা থেকে পড়ে যাচ্ছেন এবং পরক্ষণেই শরীর ঝাঁকুনি দিয়ে জেগে ওঠা—এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি অনেকেই হন। কখনো শুধু পা, আবার কখনো পুরো শরীরেই এই আকস্মিক ঝাঁকুনি অনুভূত হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই ঘটনাকে 'হিপনিক জার্ক' হিসেবে অভিহিত করা হয়।

ঘুমিয়ে পড়ার সময় শরীরের পেশি ধীরে ধীরে শিথিল হতে থাকে। এই পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় কখনো পেশিতে অনিচ্ছাকৃত সংকোচন তৈরি হয়, যার ফলে মনে হতে পারে শরীর শূন্যে পড়ে যাচ্ছে বা বৈদ্যুতিক শক লাগছে। গবেষণায় দেখা গেছে, জীবনের কোনো না কোনো সময়ে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ মানুষ এই অভিজ্ঞতার শিকার হন। কারো ক্ষেত্রে ঝাঁকুনিটি এতই হালকা হয় যে তিনি টেরই পান না, আবার কারো ক্ষেত্রে এটি এতটাই তীব্র হয় যে ঘুম ভেঙে যায়।

ঘুমকে সাধারণত NREM ও REM—এই দুই প্রধান পর্যায়ে ভাগ করা হয়। NREM ঘুমের শুরুর দিকের পর্যায়গুলোতে শরীর জাগ্রত অবস্থা থেকে ধীরে ধীরে গভীর ঘুমের দিকে যায়। হিপনিক জার্ক সাধারণত ঘুমের এই প্রথম দিকের পর্যায়েই দেখা যায়। এ সময় হঠাৎ পড়ে যাওয়ার অনুভূতি, শরীরে শক লাগার মতো সংবেদন, পড়ে যাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত স্বপ্ন বা ভ্রমের অনুভূতি এবং হাত-পা শক্ত হয়ে যাওয়ার মতো বিষয় ঘটতে পারে।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর নির্দিষ্ট কোনো কারণ পাওয়া যায় না। তবে কিছু বিষয় এর মাত্রা বা ঘনত্ব বাড়িয়ে দিতে পারে। অতিরিক্ত ক্লান্তি, ঘুমের ঘাটতি, অনিয়মিত জীবনযাপন, ক্যাফেইন বা নিকোটিনের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা উদ্বেগ এই ঝাঁকুনির প্রবণতা বাড়াতে পারে।

মাঝেমধ্যে ঘুমের মধ্যে শরীর ঝাঁকুনি দেওয়া সাধারণত উদ্বেগের কারণ নয়। তবে যদি এমন লক্ষণ ঘন ঘন দেখা দেয়, তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। পুনরাবৃত্ত পেশির ঝাঁকুনি কখনো কখনো স্নায়বিক সমস্যা, ঘুমের ব্যাধি বা অন্য কোনো অন্তর্নিহিত সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তাই অস্বাভাবিক বা গুরুতর উপসর্গ যুক্ত হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor

নিউজটি শেয়ার করুন

ঘুমের মধ্যে হঠাৎ শরীর ঝাঁকুনি দিয়ে ওঠার কারণ ও প্রতিকার

আপডেট সময় : ০৩:৫৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

ঘুমের মধ্যে হঠাৎ মনে হওয়া যে আপনি উঁচু কোনো জায়গা থেকে পড়ে যাচ্ছেন এবং পরক্ষণেই শরীর ঝাঁকুনি দিয়ে জেগে ওঠা—এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি অনেকেই হন। কখনো শুধু পা, আবার কখনো পুরো শরীরেই এই আকস্মিক ঝাঁকুনি অনুভূত হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই ঘটনাকে 'হিপনিক জার্ক' হিসেবে অভিহিত করা হয়।

ঘুমিয়ে পড়ার সময় শরীরের পেশি ধীরে ধীরে শিথিল হতে থাকে। এই পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় কখনো পেশিতে অনিচ্ছাকৃত সংকোচন তৈরি হয়, যার ফলে মনে হতে পারে শরীর শূন্যে পড়ে যাচ্ছে বা বৈদ্যুতিক শক লাগছে। গবেষণায় দেখা গেছে, জীবনের কোনো না কোনো সময়ে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ মানুষ এই অভিজ্ঞতার শিকার হন। কারো ক্ষেত্রে ঝাঁকুনিটি এতই হালকা হয় যে তিনি টেরই পান না, আবার কারো ক্ষেত্রে এটি এতটাই তীব্র হয় যে ঘুম ভেঙে যায়।

ঘুমকে সাধারণত NREM ও REM—এই দুই প্রধান পর্যায়ে ভাগ করা হয়। NREM ঘুমের শুরুর দিকের পর্যায়গুলোতে শরীর জাগ্রত অবস্থা থেকে ধীরে ধীরে গভীর ঘুমের দিকে যায়। হিপনিক জার্ক সাধারণত ঘুমের এই প্রথম দিকের পর্যায়েই দেখা যায়। এ সময় হঠাৎ পড়ে যাওয়ার অনুভূতি, শরীরে শক লাগার মতো সংবেদন, পড়ে যাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত স্বপ্ন বা ভ্রমের অনুভূতি এবং হাত-পা শক্ত হয়ে যাওয়ার মতো বিষয় ঘটতে পারে।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর নির্দিষ্ট কোনো কারণ পাওয়া যায় না। তবে কিছু বিষয় এর মাত্রা বা ঘনত্ব বাড়িয়ে দিতে পারে। অতিরিক্ত ক্লান্তি, ঘুমের ঘাটতি, অনিয়মিত জীবনযাপন, ক্যাফেইন বা নিকোটিনের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা উদ্বেগ এই ঝাঁকুনির প্রবণতা বাড়াতে পারে।

মাঝেমধ্যে ঘুমের মধ্যে শরীর ঝাঁকুনি দেওয়া সাধারণত উদ্বেগের কারণ নয়। তবে যদি এমন লক্ষণ ঘন ঘন দেখা দেয়, তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। পুনরাবৃত্ত পেশির ঝাঁকুনি কখনো কখনো স্নায়বিক সমস্যা, ঘুমের ব্যাধি বা অন্য কোনো অন্তর্নিহিত সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তাই অস্বাভাবিক বা গুরুতর উপসর্গ যুক্ত হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor