ঢাকা ০৭:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইতালির ওয়াইনারি থেকে ৫০ লাখ ইউরোর ৩০ হাজার বোতল ওয়াইন চুরি কয়রায় নাশকতার মামলায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ৩ নেতা গ্রেপ্তার এক্সপ্রেসওয়েতে বিলাসবহুল বাসে তল্লাশি: ১৮০০ ইয়াবাসহ যাত্রী গ্রেপ্তার ট্রাম্পের সঙ্গে নোবেল ভাগ করার কৌতুক করলেন নাভি পিল্লাই রেমিট্যান্স শাটডাউনের হুমকি দেশবিরোধী ও মানবতাবিরোধী: রিজভী সমাজে বিভাজন নয়, ঐক্য বজায় রেখে কাজ করার আহ্বান সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর তজুমদ্দিনে স্পিকার গোল্ডকাপ ফুটবল উদ্বোধন, চতলা মেজর হাফিজ একাডেমির জয় জেডি ভ্যান্সের ‘চুক্তিভিত্তিক দাস’ মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ভারতের কর্তৃপক্ষের অবহেলা: ঘাটাইলের সাগরদীঘি বিনোদন কেন্দ্র এখন মাদকসেবীদের দখলে শান্ত ও মুশফিকের বিদায়ে চাপে বাংলাদেশ, চা বিরতিতে ২২৬/৫

পূর্বাচলে মিষ্টিমুখের নতুন ঠিকানা ‘মহারাজা সুইটস’

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৬:২৮:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



পূর্বাচলের নীলা মার্কেটের মিষ্টির সেই পুরোনো ঐতিহ্য ও স্বাদ যেন নতুন রূপে ফিরে এসেছে ‘মহারাজা সুইটস’-এ। একসময় ছোট ছোট ছাউনির নিচে গড়ে ওঠা মিষ্টির দোকানগুলোই ছিল এই এলাকার মূল আকর্ষণ। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেই কড়াইয়ে মিষ্টি ভাজার সুবাস আর গরম রসের ঘ্রাণে মুখরিত থাকত চারপাশ। রসগোল্লা, ছানার মিষ্টি, চমচম, সন্দেশ, লেংচা, রাজভোগ ও দইয়ের পাশাপাশি এখানকার বড় আকৃতির ‘বালিশ মিষ্টি’ ছিল দারুণ জনপ্রিয়। তবে সময়ের ব্যবধানে নীলা মার্কেটে হাঁসের মাংসের জনপ্রিয়তা বাড়লে মিষ্টির সেই রমরমা অবস্থায় কিছুটা ভাটা পড়ে। সেই পুরোনো ক্রেজ ফিরিয়ে আনতেই সম্প্রতি নীলা মার্কেটের কাছেই বড়ুলিয়া চত্বরে যাত্রা শুরু করেছে মহারাজা সুইটস।

নীলা মার্কেট বাসস্ট্যান্ড থেকে মাত্র ১০ টাকা অটো ভাড়ায় পৌঁছানো যায় পূর্বাচলের বড়ুলিয়া চত্বরের এই মিষ্টির দোকানে। শীতাতপনিয়ন্ত্রিত এই আউটলেটে পা রাখলেই চোখে পড়বে পালকির আদলে তৈরি চমৎকার দেয়ালচিত্র। দোতলায় ওঠার সিঁড়িসহ সুসজ্জিত এই দোকানে একসঙ্গে প্রায় ১৫০ জনের বসার ব্যবস্থা রয়েছে। মিষ্টির পাশাপাশি এখানে এখন মিলছে বেকারি আইটেম, কাবাব ও কফি। তবে কাচের শোকেসে সাজানো মিষ্টির বৈচিত্র্যই মূলত নজর কাড়ে ভোজনরসিকদের। রসমালাই, মালাই রোল, মালাই কেক, রাবড়ি জামুন, হাঁড়িভাঙা, মতিচুর লাড্ডু, কাজু কাটলি ও কাঁচাগোল্লাসহ শত পদের মিষ্টির পসরা সাজানো হয়েছে এখানে। গরমে ক্লান্ত ক্রেতাদের তৃষ্ণা মেটাতে রয়েছে এক গ্লাস ঠাণ্ডা মাঠার ব্যবস্থাও।

মহারাজা সুইটসের প্রতিষ্ঠাতা মায়িশা রহমান ও তাঁর স্বামী তথা প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নওসাদ হাসনাইন জানান এর পেছনের গল্প। অস্ট্রেলিয়া থেকে পড়াশোনা শেষ করে দেশে ফেরার পর করোনার সময় আটকে যান মায়িশা। ভিনদেশে না ফিরে দেশে নিজস্ব কিছু করার তাগিদ থেকে নিজেদের সাত হাজার বর্গফুটের জায়গায় গড়ে তোলেন মিষ্টির কারখানা। শুরুতে মাত্র একজন কারিগর ও তাঁর সহকারীকে নিয়ে কাজ শুরু করলেও, বর্তমানে এখানে ১০ জন কারিগরসহ মোট ৪০ জন কর্মী কর্মরত আছেন। স্থানীয় অটোরিকশাচালকদের কাছে শুরুতে এটি ‘এসিওয়ালা মিষ্টির দোকান’ নামে পরিচিতি পেয়েছিল।

প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে শুরু করে রাত ১২টা পর্যন্ত খোলা থাকে মহারাজা সুইটস, যা ছুটির দিনে কখনো কখনো রাত ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত গড়ায়। এখানে প্রতি কেজি মিষ্টির দাম ৮০০ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত, আর প্রতি পিস মিষ্টি পাওয়া যায় ৮০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে। খাওয়ার পাশাপাশি পার্সেল বা বিয়েবাড়ির ফরমায়েশি মিষ্টির ডালা সাজানোর সুব্যবস্থাও রয়েছে এখানে। সম্প্রতি উত্তরার এক বাসিন্দা এখান থেকে ২০ কেজি ওজনের একটি বিশাল মিষ্টির ডালা অর্ডার করেছিলেন, যা বহন করতে চারজন মানুষের প্রয়োজন হয়েছিল। এমন বিশেষ ডালার জন্য অন্তত এক সপ্তাহ আগে অর্ডার নিশ্চিত করতে হয়।

ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে কুড়িল বিশ্বরোডে এসে মাত্র ৩০ টাকা ভাড়ায় পৌঁছানো যায় নীলা মার্কেট বাসস্ট্যান্ডে। সেখান থেকে রাস্তার উল্টো পাশ থেকে ১০ টাকা অটো ভাড়ায় সরাসরি যাওয়া যায় মহারাজা সুইটসে। এছাড়া নিজস্ব গাড়ি নিয়েও যানজটহীন রাস্তায় সহজেই এখানে চলে আসা সম্ভব।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

পূর্বাচলে মিষ্টিমুখের নতুন ঠিকানা ‘মহারাজা সুইটস’

আপডেট সময় : ০৬:২৮:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

পূর্বাচলের নীলা মার্কেটের মিষ্টির সেই পুরোনো ঐতিহ্য ও স্বাদ যেন নতুন রূপে ফিরে এসেছে ‘মহারাজা সুইটস’-এ। একসময় ছোট ছোট ছাউনির নিচে গড়ে ওঠা মিষ্টির দোকানগুলোই ছিল এই এলাকার মূল আকর্ষণ। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেই কড়াইয়ে মিষ্টি ভাজার সুবাস আর গরম রসের ঘ্রাণে মুখরিত থাকত চারপাশ। রসগোল্লা, ছানার মিষ্টি, চমচম, সন্দেশ, লেংচা, রাজভোগ ও দইয়ের পাশাপাশি এখানকার বড় আকৃতির ‘বালিশ মিষ্টি’ ছিল দারুণ জনপ্রিয়। তবে সময়ের ব্যবধানে নীলা মার্কেটে হাঁসের মাংসের জনপ্রিয়তা বাড়লে মিষ্টির সেই রমরমা অবস্থায় কিছুটা ভাটা পড়ে। সেই পুরোনো ক্রেজ ফিরিয়ে আনতেই সম্প্রতি নীলা মার্কেটের কাছেই বড়ুলিয়া চত্বরে যাত্রা শুরু করেছে মহারাজা সুইটস।

নীলা মার্কেট বাসস্ট্যান্ড থেকে মাত্র ১০ টাকা অটো ভাড়ায় পৌঁছানো যায় পূর্বাচলের বড়ুলিয়া চত্বরের এই মিষ্টির দোকানে। শীতাতপনিয়ন্ত্রিত এই আউটলেটে পা রাখলেই চোখে পড়বে পালকির আদলে তৈরি চমৎকার দেয়ালচিত্র। দোতলায় ওঠার সিঁড়িসহ সুসজ্জিত এই দোকানে একসঙ্গে প্রায় ১৫০ জনের বসার ব্যবস্থা রয়েছে। মিষ্টির পাশাপাশি এখানে এখন মিলছে বেকারি আইটেম, কাবাব ও কফি। তবে কাচের শোকেসে সাজানো মিষ্টির বৈচিত্র্যই মূলত নজর কাড়ে ভোজনরসিকদের। রসমালাই, মালাই রোল, মালাই কেক, রাবড়ি জামুন, হাঁড়িভাঙা, মতিচুর লাড্ডু, কাজু কাটলি ও কাঁচাগোল্লাসহ শত পদের মিষ্টির পসরা সাজানো হয়েছে এখানে। গরমে ক্লান্ত ক্রেতাদের তৃষ্ণা মেটাতে রয়েছে এক গ্লাস ঠাণ্ডা মাঠার ব্যবস্থাও।

মহারাজা সুইটসের প্রতিষ্ঠাতা মায়িশা রহমান ও তাঁর স্বামী তথা প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নওসাদ হাসনাইন জানান এর পেছনের গল্প। অস্ট্রেলিয়া থেকে পড়াশোনা শেষ করে দেশে ফেরার পর করোনার সময় আটকে যান মায়িশা। ভিনদেশে না ফিরে দেশে নিজস্ব কিছু করার তাগিদ থেকে নিজেদের সাত হাজার বর্গফুটের জায়গায় গড়ে তোলেন মিষ্টির কারখানা। শুরুতে মাত্র একজন কারিগর ও তাঁর সহকারীকে নিয়ে কাজ শুরু করলেও, বর্তমানে এখানে ১০ জন কারিগরসহ মোট ৪০ জন কর্মী কর্মরত আছেন। স্থানীয় অটোরিকশাচালকদের কাছে শুরুতে এটি ‘এসিওয়ালা মিষ্টির দোকান’ নামে পরিচিতি পেয়েছিল।

প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে শুরু করে রাত ১২টা পর্যন্ত খোলা থাকে মহারাজা সুইটস, যা ছুটির দিনে কখনো কখনো রাত ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত গড়ায়। এখানে প্রতি কেজি মিষ্টির দাম ৮০০ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত, আর প্রতি পিস মিষ্টি পাওয়া যায় ৮০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে। খাওয়ার পাশাপাশি পার্সেল বা বিয়েবাড়ির ফরমায়েশি মিষ্টির ডালা সাজানোর সুব্যবস্থাও রয়েছে এখানে। সম্প্রতি উত্তরার এক বাসিন্দা এখান থেকে ২০ কেজি ওজনের একটি বিশাল মিষ্টির ডালা অর্ডার করেছিলেন, যা বহন করতে চারজন মানুষের প্রয়োজন হয়েছিল। এমন বিশেষ ডালার জন্য অন্তত এক সপ্তাহ আগে অর্ডার নিশ্চিত করতে হয়।

ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে কুড়িল বিশ্বরোডে এসে মাত্র ৩০ টাকা ভাড়ায় পৌঁছানো যায় নীলা মার্কেট বাসস্ট্যান্ডে। সেখান থেকে রাস্তার উল্টো পাশ থেকে ১০ টাকা অটো ভাড়ায় সরাসরি যাওয়া যায় মহারাজা সুইটসে। এছাড়া নিজস্ব গাড়ি নিয়েও যানজটহীন রাস্তায় সহজেই এখানে চলে আসা সম্ভব।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo