ইতালিতে নিহত তিন বাংলাদেশির লাশ নোয়াখালীতে, স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী
- আপডেট সময় : ০৯:১৬:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

ইতালির রাজধানী রোমে দুর্বৃত্তের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত একই পরিবারের তিন বাংলাদেশির মরদেহ শুক্রবার সকালে দেশে এসে পৌঁছেছে। সকাল ৯টার দিকে লাশবাহী একটি ফ্লাইট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পৈতৃক বাড়িতে নেওয়া হয়।
নিহতরা হলেন চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বাবুল (৪৪), তার স্ত্রী মমতাজ বেগম আরজু (৩৮) এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী কন্যা অরোরা ইসলাম আরিশা। এই ঘটনায় বেঁচে যাওয়া নিহত দম্পতির একমাত্র ছেলে অয়ন (২১) বাবা, মা ও ছোট বোনের মরদেহ নিয়ে দেশে ফিরেছেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ইতালিতে নিহতদের প্রথম জানাজা শেষে লাশ বাংলাদেশের উদ্দেশে পাঠানো হয়। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মরদেহগুলো গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে সেখানে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ সেখানে ভিড় করেন। স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে। এ সময় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্থানীয়রা বিক্ষোভ মিছিল করেন। নিহত কামাল উদ্দিন বাবুলের বাবা সিরাজুল ইসলাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে হত্যাকারী শাহাদাতের ফাঁসির দাবি জানান। তিনি বাংলাদেশ ও ইতালি সরকারের প্রতি এই অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান।
সিরাজুল ইসলাম অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত শাহাদাত কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্যসচিব। তিনি আরও জানান, শাহাদাত প্রায় চার বছর আগে স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে ইংল্যান্ডে পাড়ি জমান, পরে দাম্পত্য কলহের জেরে বিবাহবিচ্ছেদ হলে তিনি প্রায় এক বছর আগে ইতালিতে চলে যান। হামলার শিকার অয়ন জানান, শাহাদাত হোসেন তার বাবা, মা ও বোনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে। তাকেও হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করা হয়েছিল, যার ফলে তার মাথায় ১৬টি সেলাই রয়েছে। গত ২৬ জুন রোমের ক্যাসালোত্তি এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনার এক মাস ১৯ দিন পর শুক্রবার নিহতদের লাশ দেশে এনে দাফন সম্পন্ন করা হলো।


























