মরক্কোর ফুটবলপ্রধান লেকজার রাজনীতিতে যোগদান নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক
- আপডেট সময় : ০৯:০৬:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬ ২৫ বার পড়া হয়েছে

মরক্কোর পরবর্তী পার্লামেন্ট নির্বাচন আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনের আগে দেশজুড়ে রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু হলেও এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বাজেটবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফাউজি লেকজার একটি সিদ্ধান্ত। রয়্যাল মরোক্কান ফুটবল ফেডারেশনের (এফআরএমএফ) সভাপতি হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত লেকজা সম্প্রতি অথেনটিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টিতে (পিএএম) যোগ দিয়েছেন। তাঁর এই পদক্ষেপ দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।
ফাউজি লেকজা মরক্কোর ফুটবলের আধুনিক রূপকার হিসেবে স্বীকৃত। তাঁর নেতৃত্বেই মরক্কো ২০২২ ও ২০২৬ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার গৌরব অর্জন করে। প্রশাসনিক কাজেও তিনি সুনাম কুড়িয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনের গুরুত্ব অন্যরকম, কারণ বিজয়ী দল ২০৩০ সালের ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনের তদারকি করবে। মরক্কো, স্পেন ও পর্তুগাল যৌথভাবে এই আসরের আয়োজক। বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য অবকাঠামো ও পর্যটন খাতে বিশাল বিনিয়োগের সম্ভাবনা থাকায় বিশ্লেষকেরা পরবর্তী সরকারকে ‘বিশ্বকাপ সরকার’ হিসেবে অভিহিত করছেন।
আগাদিরের ইবনে জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবিধানিক আইন ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান গবেষক মুস্তাফা আহদার আল-জাজিরাকে জানান, নির্বাচনের তিন মাসেরও কম সময় আগে লেকজার এই যোগদান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বরং এটি মরক্কোর রাজনীতিতে বৃহত্তর এক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়; যেখানে প্রশাসনিক দক্ষতা, রাষ্ট্র–নেতৃত্বাধীন উন্নয়ন এবং জাতীয় মর্যাদা ক্রমশ রাজনৈতিক বৈধতার গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠছে। আহদার আরও বলেন, ২০১১ সালের সংবিধান অনুযায়ী মরক্কোর প্রত্যেক নাগরিকের যেকোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার স্বাধীনতা রয়েছে। পিএএম বর্তমান ক্ষমতাসীন জোটের অংশ এবং দলটি সমালোচনার মুখে থাকলেও লেকজার যোগদানই এখন মূল আলোচনার বিষয়বস্তু।
লেকজার উত্থান সফল সরকারি কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক সম্পদে পরিণত হওয়ার বিশ্বব্যাপী প্রবণতার প্রতিফলন। ২০২২ বিশ্বকাপে ‘আটলাস লায়নদের’ সেমিফাইনালে পৌঁছানো মরক্কোর আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও ‘সফট পাওয়ার’ বাড়িয়ে দিয়েছিল। তবে দেশটির ভোটারদের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি একধরনের সংশয় রয়েছে। ২০২১ সালের নির্বাচনে অর্ধেকের বেশি ভোটার ভোটদান থেকে বিরত ছিলেন। তরুণ প্রজন্মের বেকারত্ব ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ক্ষোভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে। আহদারের মতে, লেকজাকে নিয়ে চলমান বিতর্ক রাজনীতিতে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতার ক্রমবর্ধমান প্রবণতাকেই প্রতিফলিত করছে।


























