ঢাকা ০৬:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চট্টগ্রাম পতেঙ্গায় ৫ লক্ষ টাকার চোরাই কয়লা জব্দ সোনাগাজী পৌরসভার কোরবানি বর্জ্য ফেলার প্রতিবাদে মানববন্ধন কুমিল্লায় তদন্তে আসা পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে জখম ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশের অভিযানে ৮০ বোতল বিদেশী মদ উদ্ধার বরুড়ায় ৬ বছরের নিষ্পাপ শিশুকে ধর্ষণ ঘৃণ্য অপরাধী এখনও পলাতক নওগাঁ পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী আটক ডিবি পুলিশের অভিযানে মিঠাপুকুরে ইয়াবা সহ ২ মাদক ব‍্যবসায়ী আটক রংপুরে থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার, তদন্ত কমিটি গঠন ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের উদ্যোগে বেগমগঞ্জে আলোচনা সভা ও র‍্যালি অনুষ্ঠিত আমজাদ হাট যুবলীগ নেতা হত্যা মামলায় আরো দুই আসামি চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার

রাজারহাটে ৮ বছর আগে ভয়াবহ বন্যায় ভেঙে যাওয়া ব্রিজ আজও পুনর্নির্মাণ হয়নি: দুর্ভোগে এলাকাবাসী

স্টাফ রিপোর্টার রংপুর
  • আপডেট সময় : ১১:৫৮:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৫ ১৭৫ বার পড়া হয়েছে

রাজারহাটে ৮ বছর আগে ভয়াবহ বন্যায় ভেঙে যাওয়া ব্রিজ আজও পুনর্নির্মাণ হয়নি: দুর্ভোগে এলাকাবাসী

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

স্টাফ রিপোর্টার রংপুর

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের মেকলী ও ছাটকালুয়া গ্রামের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত কামারের ছড়া বিলে নির্মিত ব্রিজটি ছিল ওই এলাকার একমাত্র যাতায়াতের পথ। ব্রিজটি দিয়ে মেকলী, ছাটকালুয়া, চতুরভুজ ও গড়ের বাজারসহ কয়েক গ্রামের মানুষ নিয়মিত বাজার-স্কুলসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতেন। কিন্তু ২০১৭ সালের ভয়াবহ বন্যায় ব্রিজটির তলদেশের মাটি সরে গিয়ে সম্পূর্ণ ভেঙে যায়। সেই থেকে গ্রামবাসী কার্যত বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন।

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নে ৮ বছর আগে ভয়াবহ বন্যায় ভেঙে যাওয়া ব্রিজ আজও পুনর্নির্মাণ হয়নি। ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন অন্তত চার গ্রামের সহস্রাধিক মানুষ। স্থানীয়দের উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো ও ড্রামভিত্তিক ভেলা তৈরি করে অস্থায়ী যাতায়াত ব্যবস্থা চালু রাখা হলেও সেটিও এখন নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। রাতে কিংবা বর্ষার মৌসুমে চলাচল কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে।

ব্রিজ ভেঙে যাওয়ার পর স্থানীয়রা প্রথমে বাঁশের সাঁকো এবং পরে ড্রাম দিয়ে ভাসমান ভেলা তৈরি করেন। কিন্তু সেগুলোও টেকসই না হওয়ায় প্রতি বছরই নতুন করে বানাতে হয়। তাছাড়া এসব সাঁকো বেশ নড়বড়ে ও বিপজ্জনক হওয়ায় রাতের বেলা বা বর্ষায় চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে।

‎স্থানীয় বাসিন্দা মীর মোকছেদ রহমান (৫৫) বলেন, ব্রিজটা পুরনো ছিল, তাই বন্যায় ভেঙে যায়। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত আর ব্রিজ হয়নি। আমরা কখনো বাঁশের সাঁকো, কখনো ড্রামের ভেলা দিয়ে পার হচ্ছি। এতে কত কষ্ট হচ্ছে বলে বোঝানো যাবে না।

এলাকাবাসীর দাবি, প্রতিশ্রুতি পেলেও এখনো বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি। আট বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো ও ভেলার ওপর নির্ভর করে জীবনযাপন করছে তারা। এর ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষিপণ্য পরিবহনসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে গ্রামবাসী অবর্ণনীয় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

ছিনাই ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান বলেন, ছাটকালুয়া ও মেকলী গ্রামের মাঝের ব্রিজটি ২০১৭ সালের বন্যায় ভেঙে যায়। এরপর থেকে গ্রামবাসী নিজেরাই ভাসমান বাঁশের সাঁকো বানিয়ে যাতায়াত করছে। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

‎রাজারহাট উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুর রশিদ মণ্ডল জানান, ব্রিজটি নতুন করে নির্মাণের জন্য ‘বিলো ১০০ মিটার প্রকল্পের’ অধীনে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই কাজ শুরু হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

রাজারহাটে ৮ বছর আগে ভয়াবহ বন্যায় ভেঙে যাওয়া ব্রিজ আজও পুনর্নির্মাণ হয়নি: দুর্ভোগে এলাকাবাসী

আপডেট সময় : ১১:৫৮:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৫
print news

স্টাফ রিপোর্টার রংপুর

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের মেকলী ও ছাটকালুয়া গ্রামের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত কামারের ছড়া বিলে নির্মিত ব্রিজটি ছিল ওই এলাকার একমাত্র যাতায়াতের পথ। ব্রিজটি দিয়ে মেকলী, ছাটকালুয়া, চতুরভুজ ও গড়ের বাজারসহ কয়েক গ্রামের মানুষ নিয়মিত বাজার-স্কুলসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতেন। কিন্তু ২০১৭ সালের ভয়াবহ বন্যায় ব্রিজটির তলদেশের মাটি সরে গিয়ে সম্পূর্ণ ভেঙে যায়। সেই থেকে গ্রামবাসী কার্যত বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন।

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নে ৮ বছর আগে ভয়াবহ বন্যায় ভেঙে যাওয়া ব্রিজ আজও পুনর্নির্মাণ হয়নি। ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন অন্তত চার গ্রামের সহস্রাধিক মানুষ। স্থানীয়দের উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো ও ড্রামভিত্তিক ভেলা তৈরি করে অস্থায়ী যাতায়াত ব্যবস্থা চালু রাখা হলেও সেটিও এখন নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। রাতে কিংবা বর্ষার মৌসুমে চলাচল কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে।

ব্রিজ ভেঙে যাওয়ার পর স্থানীয়রা প্রথমে বাঁশের সাঁকো এবং পরে ড্রাম দিয়ে ভাসমান ভেলা তৈরি করেন। কিন্তু সেগুলোও টেকসই না হওয়ায় প্রতি বছরই নতুন করে বানাতে হয়। তাছাড়া এসব সাঁকো বেশ নড়বড়ে ও বিপজ্জনক হওয়ায় রাতের বেলা বা বর্ষায় চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে।

‎স্থানীয় বাসিন্দা মীর মোকছেদ রহমান (৫৫) বলেন, ব্রিজটা পুরনো ছিল, তাই বন্যায় ভেঙে যায়। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত আর ব্রিজ হয়নি। আমরা কখনো বাঁশের সাঁকো, কখনো ড্রামের ভেলা দিয়ে পার হচ্ছি। এতে কত কষ্ট হচ্ছে বলে বোঝানো যাবে না।

এলাকাবাসীর দাবি, প্রতিশ্রুতি পেলেও এখনো বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি। আট বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো ও ভেলার ওপর নির্ভর করে জীবনযাপন করছে তারা। এর ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষিপণ্য পরিবহনসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে গ্রামবাসী অবর্ণনীয় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

ছিনাই ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান বলেন, ছাটকালুয়া ও মেকলী গ্রামের মাঝের ব্রিজটি ২০১৭ সালের বন্যায় ভেঙে যায়। এরপর থেকে গ্রামবাসী নিজেরাই ভাসমান বাঁশের সাঁকো বানিয়ে যাতায়াত করছে। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

‎রাজারহাট উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুর রশিদ মণ্ডল জানান, ব্রিজটি নতুন করে নির্মাণের জন্য ‘বিলো ১০০ মিটার প্রকল্পের’ অধীনে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই কাজ শুরু হবে।