ঢাকা ০৫:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৩৫ বছরের পর আইনজীবী হওয়ার পথ বন্ধের উদ্যোগ শুধু রাজনৈতিক নয়, আমলাতন্ত্রেও সংস্কার জরুরি: ডেপুটি স্পিকার ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৯ জনের মৃত্যু, মোট আক্রান্ত ১ লাখ ৩ হাজার ৩৯৬ বগুড়ায় শিক্ষককে পিটিয়ে আহত করা শিক্ষার্থী বহিষ্কৃত, মামলার প্রস্তুতি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নিয়ন্ত্রণে ডিসিদের কঠোর নির্দেশনা দিল সরকার শাওমি থেকে আইফোন, গ্রে মার্কেটে সয়লাব দেশের স্মার্টফোন বাজার ডেঙ্গু প্রতিরোধে পাড়ায় মাইকিং ও খুতবায় প্রচারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ড. ইউনূসকে হেনস্তায় ব্যবস্থা নেবে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা সৌদির ফ্লাইট বিপর্যয়: ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের জন্য বেবিচকের সাত জরুরি নির্দেশনা বর্তমান সরকারের মেয়াদেই সচিবালয় আগারগাঁওয়ে স্থানান্তরের পরিকল্পনা

রাজারহাটে ৮ বছর আগে ভয়াবহ বন্যায় ভেঙে যাওয়া ব্রিজ আজও পুনর্নির্মাণ হয়নি: দুর্ভোগে এলাকাবাসী

স্টাফ রিপোর্টার রংপুর
  • আপডেট সময় : ১১:৫৮:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৫ ২৬৪ বার পড়া হয়েছে

রাজারহাটে ৮ বছর আগে ভয়াবহ বন্যায় ভেঙে যাওয়া ব্রিজ আজও পুনর্নির্মাণ হয়নি: দুর্ভোগে এলাকাবাসী

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি




স্টাফ রিপোর্টার রংপুর

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের মেকলী ও ছাটকালুয়া গ্রামের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত কামারের ছড়া বিলে নির্মিত ব্রিজটি ছিল ওই এলাকার একমাত্র যাতায়াতের পথ। ব্রিজটি দিয়ে মেকলী, ছাটকালুয়া, চতুরভুজ ও গড়ের বাজারসহ কয়েক গ্রামের মানুষ নিয়মিত বাজার-স্কুলসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতেন। কিন্তু ২০১৭ সালের ভয়াবহ বন্যায় ব্রিজটির তলদেশের মাটি সরে গিয়ে সম্পূর্ণ ভেঙে যায়। সেই থেকে গ্রামবাসী কার্যত বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন।

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নে ৮ বছর আগে ভয়াবহ বন্যায় ভেঙে যাওয়া ব্রিজ আজও পুনর্নির্মাণ হয়নি। ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন অন্তত চার গ্রামের সহস্রাধিক মানুষ। স্থানীয়দের উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো ও ড্রামভিত্তিক ভেলা তৈরি করে অস্থায়ী যাতায়াত ব্যবস্থা চালু রাখা হলেও সেটিও এখন নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। রাতে কিংবা বর্ষার মৌসুমে চলাচল কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে।

‎ব্রিজ ভেঙে যাওয়ার পর স্থানীয়রা প্রথমে বাঁশের সাঁকো এবং পরে ড্রাম দিয়ে ভাসমান ভেলা তৈরি করেন। কিন্তু সেগুলোও টেকসই না হওয়ায় প্রতি বছরই নতুন করে বানাতে হয়। তাছাড়া এসব সাঁকো বেশ নড়বড়ে ও বিপজ্জনক হওয়ায় রাতের বেলা বা বর্ষায় চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে।

‎স্থানীয় বাসিন্দা মীর মোকছেদ রহমান (৫৫) বলেন, ব্রিজটা পুরনো ছিল, তাই বন্যায় ভেঙে যায়। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত আর ব্রিজ হয়নি। আমরা কখনো বাঁশের সাঁকো, কখনো ড্রামের ভেলা দিয়ে পার হচ্ছি। এতে কত কষ্ট হচ্ছে বলে বোঝানো যাবে না।

‎এলাকাবাসীর দাবি, প্রতিশ্রুতি পেলেও এখনো বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি। আট বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো ও ভেলার ওপর নির্ভর করে জীবনযাপন করছে তারা। এর ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষিপণ্য পরিবহনসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে গ্রামবাসী অবর্ণনীয় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

ছিনাই ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান বলেন, ছাটকালুয়া ও মেকলী গ্রামের মাঝের ব্রিজটি ২০১৭ সালের বন্যায় ভেঙে যায়। এরপর থেকে গ্রামবাসী নিজেরাই ভাসমান বাঁশের সাঁকো বানিয়ে যাতায়াত করছে। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

‎রাজারহাট উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুর রশিদ মণ্ডল জানান, ব্রিজটি নতুন করে নির্মাণের জন্য ‘বিলো ১০০ মিটার প্রকল্পের’ অধীনে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই কাজ শুরু হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

রাজারহাটে ৮ বছর আগে ভয়াবহ বন্যায় ভেঙে যাওয়া ব্রিজ আজও পুনর্নির্মাণ হয়নি: দুর্ভোগে এলাকাবাসী

আপডেট সময় : ১১:৫৮:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার রংপুর

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের মেকলী ও ছাটকালুয়া গ্রামের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত কামারের ছড়া বিলে নির্মিত ব্রিজটি ছিল ওই এলাকার একমাত্র যাতায়াতের পথ। ব্রিজটি দিয়ে মেকলী, ছাটকালুয়া, চতুরভুজ ও গড়ের বাজারসহ কয়েক গ্রামের মানুষ নিয়মিত বাজার-স্কুলসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতেন। কিন্তু ২০১৭ সালের ভয়াবহ বন্যায় ব্রিজটির তলদেশের মাটি সরে গিয়ে সম্পূর্ণ ভেঙে যায়। সেই থেকে গ্রামবাসী কার্যত বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন।

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নে ৮ বছর আগে ভয়াবহ বন্যায় ভেঙে যাওয়া ব্রিজ আজও পুনর্নির্মাণ হয়নি। ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন অন্তত চার গ্রামের সহস্রাধিক মানুষ। স্থানীয়দের উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো ও ড্রামভিত্তিক ভেলা তৈরি করে অস্থায়ী যাতায়াত ব্যবস্থা চালু রাখা হলেও সেটিও এখন নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। রাতে কিংবা বর্ষার মৌসুমে চলাচল কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে।

‎ব্রিজ ভেঙে যাওয়ার পর স্থানীয়রা প্রথমে বাঁশের সাঁকো এবং পরে ড্রাম দিয়ে ভাসমান ভেলা তৈরি করেন। কিন্তু সেগুলোও টেকসই না হওয়ায় প্রতি বছরই নতুন করে বানাতে হয়। তাছাড়া এসব সাঁকো বেশ নড়বড়ে ও বিপজ্জনক হওয়ায় রাতের বেলা বা বর্ষায় চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে।

‎স্থানীয় বাসিন্দা মীর মোকছেদ রহমান (৫৫) বলেন, ব্রিজটা পুরনো ছিল, তাই বন্যায় ভেঙে যায়। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত আর ব্রিজ হয়নি। আমরা কখনো বাঁশের সাঁকো, কখনো ড্রামের ভেলা দিয়ে পার হচ্ছি। এতে কত কষ্ট হচ্ছে বলে বোঝানো যাবে না।

‎এলাকাবাসীর দাবি, প্রতিশ্রুতি পেলেও এখনো বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি। আট বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো ও ভেলার ওপর নির্ভর করে জীবনযাপন করছে তারা। এর ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষিপণ্য পরিবহনসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে গ্রামবাসী অবর্ণনীয় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

ছিনাই ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান বলেন, ছাটকালুয়া ও মেকলী গ্রামের মাঝের ব্রিজটি ২০১৭ সালের বন্যায় ভেঙে যায়। এরপর থেকে গ্রামবাসী নিজেরাই ভাসমান বাঁশের সাঁকো বানিয়ে যাতায়াত করছে। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

‎রাজারহাট উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুর রশিদ মণ্ডল জানান, ব্রিজটি নতুন করে নির্মাণের জন্য ‘বিলো ১০০ মিটার প্রকল্পের’ অধীনে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই কাজ শুরু হবে।