ঢাকা ১০:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাদারগঞ্জে অনিয়মের দায়ে দুই ফার্মেসিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা নেত্রকোনা-১ আসনের সাবেক এমপি মোশতাক আহমেদ রুহী গ্রেপ্তার নিউ ইয়র্কে নামছে না নেতানিয়াহুর উড়োজাহাজ মূল্যস্ফীতির চাপে নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখল কেন্দ্রীয় ব্যাংক টাকায় আন্তর্জাতিক লেনদেন সহজ করতে নতুন নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের পাকিস্তান–চীন নতুন সীমান্ত চুক্তি নিয়ে ভারতের তীব্র প্রতিক্রিয়া গুলশানে ককটেল বিস্ফোরণ মামলায় ১৫ আসামির ৩ দিনের রিমান্ড ক্ষমতার পাঁচ মাসে কেন হতাশ পশ্চিমবঙ্গের মানুষ, কী বলছে পরিস্থিতি মাদরাসা প্রধানদের ইআইআইএনভিত্তিক সিম কার্ড সচল রাখার নির্দেশ পাংশায় প্রবাসীর স্ত্রী রুনা হত্যায় প্রধান আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

প্রথম ভাঁজযোগ্য আইফোন ডুও আনল অ্যাপল, থাকছে বিশেষ প্রযুক্তি

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১১:০৬:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



দীর্ঘ ১৯ বছরের ইতিহাসে নিজেদের সবচেয়ে জনপ্রিয় পণ্যের বড় পরিবর্তনের অংশ হিসেবে মার্কিন প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান অ্যাপল প্রথমবারের মতো উন্মোচন করেছে ভাঁজযোগ্য স্মার্টফোন ‘আইফোন ডুও’। গত ৯ সেপ্টেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাপল পার্কে ৭৫ মিনিটের এক জমকালো অনুষ্ঠানে এই ডিভাইসের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। ভাঁজ করা অবস্থায় ফোনটি দেখতে অনেকটা পাসপোর্টের মতো, যা বইয়ের মতো খোলা যায়। খোলার পর ব্যবহারকারীরা একটি বড় পর্দা পান, যেখানে অনায়াসে দুটি অ্যাপ একসঙ্গে চালানো সম্ভব।

অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী জন টার্নাস নতুন এই ডিভাইসের ব্যাপারে বেশ আত্মবিশ্বাসী। তিনি জানান, বাজারের অন্যান্য ফোল্ডেবল ফোনের মতো এটি কেবল দুটি ফোন জোড়াতালি দেওয়া নয়, বরং এটি ফোল্ডেবল ফোন ব্যবহারের পুরো ধারণাটাই বদলে দিতে আসছে। ফোনটির বাইরের দিকে থাকছে ৫ দশমিক ৪ ইঞ্চির সুপার রেটিনা এক্সডিআর পর্দা, যা আইফোন ১৮ প্রোর পর্দার প্রায় ৯০ শতাংশ জায়গা জুড়ে থাকে। ভাঁজ খুললে ভেতরের দিকে পাওয়া যাবে ৭ দশমিক ৬ ইঞ্চির বড় পর্দা।

ডিভাইসটির কাঠামো গ্রেড-৫ টাইটানিয়াম দিয়ে তৈরি, যা আয়নার মতো চকচকে। পর্দার সুরক্ষায় ‘সিরামিক শিল্ড-২’ ব্যবহার করা হয়েছে, যা আগের প্রজন্মের তুলনায় তিন গুণ বেশি দাগপ্রতিরোধী। এতে আইপি-৬৮ প্রযুক্তির মাধ্যমে পানি ও ধুলাবালুপ্রতিরোধী সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। ফোনের মাঝখানের দাগ বা ক্রিজ দূর করতে বিশেষ ন্যানো-টেক্সচার ফিনিশ এবং শতাধিক যন্ত্রাংশ দিয়ে তৈরি বিশেষ হিঞ্জ ব্যবহার করা হয়েছে। ফোনটি ‘স্টার হোয়াইট’ ও ‘নাইট স্কাই’—এই দুটি রঙে পাওয়া যাবে।

কারিগরি দিক থেকে ফোনটি নতুন ‘এ-২০ প্রো’ চিপ এবং ১২ গিগাবাইট র‍্যাম দিয়ে চলবে। এতে আপগ্রেডেড থার্মাল ম্যানেজমেন্ট যুক্ত করা হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য এতে কোনো সিম স্লট বা ফেস আইডি নেই, বরং সাইড বাটনে টাচ আইডি এবং ই-সিম ব্যবহারের সুবিধা রাখা হয়েছে। দুই পাশে দুটি ব্যাটারি থাকায় ফোনটি ২৪ ঘণ্টা ব্যাকআপ দিতে সক্ষম এবং ২০ মিনিটে ৫০ শতাংশ চার্জ করা সম্ভব। এছাড়া এতে অ্যাপলের নিজস্ব ‘সি-২ মডেম’ যুক্ত করা হয়েছে।

ক্যামেরার ক্ষেত্রে এতে ৪৮ মেগাপিক্সেলের ফিউশন মেইন ও আলট্রা ওয়াইড ক্যামেরা রয়েছে। ডুও প্রিভিউ ফিচারের সাহায্যে বাইরের পর্দাতেই লাইভ প্রিভিউ দেখা যায়। সেলফি ও ভিডিও কলের জন্য ভেতরে রয়েছে ‘সেন্টার স্টেজ ফ্রন্ট ক্যামেরা’। ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণের জন্য ‘ক্যামেরা কন্ট্রোল’ বাটন ও ‘সিরি ক্যামেরা মোড’ যুক্ত করা হয়েছে। নতুন আইওএস ২৭ অপারেটিং সিস্টেমে চলা এই ফোনে অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স ও সিরি এআই-এর মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা রয়েছে। জিরো শাটার ল্যাগ ও অপটিক্যাল মানের ২এক্স টেলিফটো জুমের সুবিধাও এতে বিদ্যমান।

আগামী ২৩ অক্টোবর থেকে বাজারে পাওয়া যাবে আইফোন ডুও। এর প্রারম্ভিক দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৯৯৯ ডলার বা ২ লাখ ৪৫ হাজার ৮০৯ টাকা (প্রতি ডলার ১২২.৯৭ টাকা হিসাবে)। বাংলাদেশে আমদানি শুল্ক ও অন্যান্য কর যোগ হলে এর দাম আরও বাড়তে পারে। আগ্রহী গ্রাহকরা ১৬ অক্টোবর থেকে প্রি-অর্ডার করতে পারবেন। বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১ কোটি ৯৬ লাখ ভাঁজযোগ্য স্মার্টফোন বিক্রি হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল ডেটা করপোরেশনের প্রযুক্তিবিশ্লেষক ফ্রান্সিসকো জেরোনিমোর মতে, ২০২৭ সালের মধ্যে ভাঁজযোগ্য ফোনের বাজারের প্রায় ৪০ শতাংশ অ্যাপলের নিয়ন্ত্রণে চলে আসতে পারে।

পাশাপাশি ‘সিরি ক্যামেরা মোড’-এর মাধ্যমে ক্যামেরায় দেখা বিষয় সম্পর্কে সিরির সাহায্য নেওয়া যাবে।.ভাঁজযোগ্য ফোনের বাজারের কথা২০০৭ সালে বাজারে আসার পর গত দুই দশকে আইফোনই অ্যাপলের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়িক হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।

এবার আইফোন ডুও ভাঁজযোগ্য ফোনের বাজারে বড় পরিবর্তন আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।২০১৮ সাল থেকে বাজারে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ভাঁজযোগ্য স্মার্টফোন থাকলেও গ্রাহকদের মধ্যে তা এখনো খুব বেশি সাড়া ফেলতে পারেনি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

প্রথম ভাঁজযোগ্য আইফোন ডুও আনল অ্যাপল, থাকছে বিশেষ প্রযুক্তি

আপডেট সময় : ১১:০৬:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দীর্ঘ ১৯ বছরের ইতিহাসে নিজেদের সবচেয়ে জনপ্রিয় পণ্যের বড় পরিবর্তনের অংশ হিসেবে মার্কিন প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান অ্যাপল প্রথমবারের মতো উন্মোচন করেছে ভাঁজযোগ্য স্মার্টফোন ‘আইফোন ডুও’। গত ৯ সেপ্টেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাপল পার্কে ৭৫ মিনিটের এক জমকালো অনুষ্ঠানে এই ডিভাইসের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। ভাঁজ করা অবস্থায় ফোনটি দেখতে অনেকটা পাসপোর্টের মতো, যা বইয়ের মতো খোলা যায়। খোলার পর ব্যবহারকারীরা একটি বড় পর্দা পান, যেখানে অনায়াসে দুটি অ্যাপ একসঙ্গে চালানো সম্ভব।

অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী জন টার্নাস নতুন এই ডিভাইসের ব্যাপারে বেশ আত্মবিশ্বাসী। তিনি জানান, বাজারের অন্যান্য ফোল্ডেবল ফোনের মতো এটি কেবল দুটি ফোন জোড়াতালি দেওয়া নয়, বরং এটি ফোল্ডেবল ফোন ব্যবহারের পুরো ধারণাটাই বদলে দিতে আসছে। ফোনটির বাইরের দিকে থাকছে ৫ দশমিক ৪ ইঞ্চির সুপার রেটিনা এক্সডিআর পর্দা, যা আইফোন ১৮ প্রোর পর্দার প্রায় ৯০ শতাংশ জায়গা জুড়ে থাকে। ভাঁজ খুললে ভেতরের দিকে পাওয়া যাবে ৭ দশমিক ৬ ইঞ্চির বড় পর্দা।

ডিভাইসটির কাঠামো গ্রেড-৫ টাইটানিয়াম দিয়ে তৈরি, যা আয়নার মতো চকচকে। পর্দার সুরক্ষায় ‘সিরামিক শিল্ড-২’ ব্যবহার করা হয়েছে, যা আগের প্রজন্মের তুলনায় তিন গুণ বেশি দাগপ্রতিরোধী। এতে আইপি-৬৮ প্রযুক্তির মাধ্যমে পানি ও ধুলাবালুপ্রতিরোধী সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। ফোনের মাঝখানের দাগ বা ক্রিজ দূর করতে বিশেষ ন্যানো-টেক্সচার ফিনিশ এবং শতাধিক যন্ত্রাংশ দিয়ে তৈরি বিশেষ হিঞ্জ ব্যবহার করা হয়েছে। ফোনটি ‘স্টার হোয়াইট’ ও ‘নাইট স্কাই’—এই দুটি রঙে পাওয়া যাবে।

কারিগরি দিক থেকে ফোনটি নতুন ‘এ-২০ প্রো’ চিপ এবং ১২ গিগাবাইট র‍্যাম দিয়ে চলবে। এতে আপগ্রেডেড থার্মাল ম্যানেজমেন্ট যুক্ত করা হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য এতে কোনো সিম স্লট বা ফেস আইডি নেই, বরং সাইড বাটনে টাচ আইডি এবং ই-সিম ব্যবহারের সুবিধা রাখা হয়েছে। দুই পাশে দুটি ব্যাটারি থাকায় ফোনটি ২৪ ঘণ্টা ব্যাকআপ দিতে সক্ষম এবং ২০ মিনিটে ৫০ শতাংশ চার্জ করা সম্ভব। এছাড়া এতে অ্যাপলের নিজস্ব ‘সি-২ মডেম’ যুক্ত করা হয়েছে।

ক্যামেরার ক্ষেত্রে এতে ৪৮ মেগাপিক্সেলের ফিউশন মেইন ও আলট্রা ওয়াইড ক্যামেরা রয়েছে। ডুও প্রিভিউ ফিচারের সাহায্যে বাইরের পর্দাতেই লাইভ প্রিভিউ দেখা যায়। সেলফি ও ভিডিও কলের জন্য ভেতরে রয়েছে ‘সেন্টার স্টেজ ফ্রন্ট ক্যামেরা’। ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণের জন্য ‘ক্যামেরা কন্ট্রোল’ বাটন ও ‘সিরি ক্যামেরা মোড’ যুক্ত করা হয়েছে। নতুন আইওএস ২৭ অপারেটিং সিস্টেমে চলা এই ফোনে অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স ও সিরি এআই-এর মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা রয়েছে। জিরো শাটার ল্যাগ ও অপটিক্যাল মানের ২এক্স টেলিফটো জুমের সুবিধাও এতে বিদ্যমান।

আগামী ২৩ অক্টোবর থেকে বাজারে পাওয়া যাবে আইফোন ডুও। এর প্রারম্ভিক দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৯৯৯ ডলার বা ২ লাখ ৪৫ হাজার ৮০৯ টাকা (প্রতি ডলার ১২২.৯৭ টাকা হিসাবে)। বাংলাদেশে আমদানি শুল্ক ও অন্যান্য কর যোগ হলে এর দাম আরও বাড়তে পারে। আগ্রহী গ্রাহকরা ১৬ অক্টোবর থেকে প্রি-অর্ডার করতে পারবেন। বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১ কোটি ৯৬ লাখ ভাঁজযোগ্য স্মার্টফোন বিক্রি হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল ডেটা করপোরেশনের প্রযুক্তিবিশ্লেষক ফ্রান্সিসকো জেরোনিমোর মতে, ২০২৭ সালের মধ্যে ভাঁজযোগ্য ফোনের বাজারের প্রায় ৪০ শতাংশ অ্যাপলের নিয়ন্ত্রণে চলে আসতে পারে।

পাশাপাশি ‘সিরি ক্যামেরা মোড’-এর মাধ্যমে ক্যামেরায় দেখা বিষয় সম্পর্কে সিরির সাহায্য নেওয়া যাবে।.ভাঁজযোগ্য ফোনের বাজারের কথা২০০৭ সালে বাজারে আসার পর গত দুই দশকে আইফোনই অ্যাপলের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়িক হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।

এবার আইফোন ডুও ভাঁজযোগ্য ফোনের বাজারে বড় পরিবর্তন আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।২০১৮ সাল থেকে বাজারে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ভাঁজযোগ্য স্মার্টফোন থাকলেও গ্রাহকদের মধ্যে তা এখনো খুব বেশি সাড়া ফেলতে পারেনি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo