এআই কি সত্যিই ভয়ের কারণ, নাকি আমাদের প্রস্তুতির অভাব?
- আপডেট সময় : ০৮:৫৮:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে মানুষের মনে ভয়ের কারণ থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। এআই অত্যন্ত দ্রুতগতিতে কাজ করতে সক্ষম, তবে এই সক্ষমতাই কি আমাদের জন্য ভয়ের কারণ হওয়া উচিত? নাকি আমাদের প্রয়োজন নিজেদের আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করার সময়? ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, নতুন কোনো প্রযুক্তি বা জ্ঞান আসার সময় মানুষ সবসময়ই এক ধরনের দ্বিধা বা ভয় বোধ করেছে। গ্রিক দার্শনিক প্লেটোর 'ফেড্রাস' গ্রন্থে রাজা থামুসের সেই বিখ্যাত গল্পের কথাই ধরা যাক, যেখানে তিনি লিখেছিলেন যে লেখার প্রচলন মানুষের স্মৃতিশক্তি কমিয়ে দেবে। তারা অনেক কিছু জানে বলে মনে করলেও আসলে গভীরভাবে বুঝবে না। আজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রেও অনেকে একই ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
তবে নতুন প্রযুক্তিকে শুধু ভালো বা খারাপের দ্বন্দ্বে দেখা ঠিক হবে না। প্রযুক্তি মানুষের পরিচিত জগত বদলে দিতে পারে, কর্মসংস্থান ও নিয়মের পরিবর্তন ঘটাতে পারে, ফলে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় আমরা কিছুটা থামতে চাই। এআইয়ের ক্ষেত্রে কিছু বাস্তব চ্যালেঞ্জও রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো 'অ্যালাইনমেন্ট'। এর অর্থ হলো, এআই যেন ঠিক সেই কাজটিই করে যা আমরা চাই, কোনো ভুল ব্যাখ্যা যেন এর কাজের পথে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া এআইয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া অনেক সময় মানুষের কাছে স্বচ্ছ থাকে না। একটি কম্পিউটার আমাদের আচরণ বিশ্লেষণ করতে পারলেও সেই সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর পথটি সব সময় পরিষ্কার থাকে না। ফলে এআইকে ব্যবহারের পাশাপাশি এর কাজের ধরন বোঝার চেষ্টাও আমাদের চালিয়ে যেতে হবে।
এআইয়ের উন্নয়ন বন্ধ করা কোনো সমাধান নয়। বরং যন্ত্রের ক্ষমতা যদি মানুষের শেখার গতির চেয়ে বেশি হয়, তবে আমাদের নিজেদের শেখার গতিও বাড়াতে হবে। সরকার, শিক্ষক, শ্রমিক এবং অভিভাবক—সবাই আজ এআই নিয়ে চিন্তিত। সরকার আইন তৈরিতে ধীরগতির কারণে, শিক্ষকরা শিক্ষার কাজে এর সঠিক ব্যবহার নিয়ে, শ্রমিকরা কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তায় এবং অভিভাবকরা সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত। এআই শুধু কাজের ধরণ নয়, শেখার পদ্ধতিকেও বদলে দিচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, অভিজ্ঞরা এআই ব্যবহার করে নতুন কিছু শিখতে পারলেও, যাদের কোনো ভিত্তি নেই তারা শেখার কষ্ট এড়িয়ে যেতে পারে। এআইকে দিয়ে সরাসরি উত্তর না লিখিয়ে ধাপে ধাপে শেখার জন্য ব্যবহার করাই হলো বুদ্ধিমানের কাজ।
বিশ্বের শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের শেখার মান নিয়ে উদ্বেগ পিআইএসএ প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে, যা এআই আসার অনেক আগে থেকেই ছিল। এআইয়ের অপব্যবহার বা ভুল তথ্য ছড়ানোর ঝুঁকি থাকলেও, একে অন্ধভাবে ভয় পাওয়া বা অন্ধভাবে বিশ্বাস করার কোনোটিই সঠিক পথ নয়। হাজার বছর ধরে মানুষ নতুন জ্ঞানকে ভয় পেলেও তা থামিয়ে রাখা যায়নি। তাই এআইকে থামিয়ে দেওয়ার আগে আমাদের নিজেদের প্রশ্ন করা উচিত—আমরা কি যথেষ্ট দ্রুত শিখছি? ভবিষ্যতের আসল চ্যালেঞ্জ যন্ত্রের দ্রুত শেখা নয়, বরং মানুষের শেখার সুযোগ পেয়েও যথেষ্ট ভালোভাবে না শেখার ঝুঁকি হতে পারে।





























