ঢাকা ০৫:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তুরস্কের শানলিউরফায় ৫.৪ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত ইসলামাবাদে পিটিআইয়ের মিছিল ঘিরে দেশজুড়ে ধরপাকড় ও কড়াকড়ি ৫১তম বিসিএসে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ, আবেদন শুরু ১ অক্টোবর জানুয়ারি থেকে ইউপি নির্বাচন শুরুর পরিকল্পনা নির্বাচন কমিশনের আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা: নিহত ৪, পাল্টা ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের সংকট কাটলে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করবে সরকার মেধাভিত্তিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার্থীদের প্রতি ডেপুটি স্পিকারের আহ্বান আবু ইয়াকুব ইউসুফ আল-কুমি: ইবন আরাবির বর্ণনায় এক সুফি সাধক সোনারগাঁয়ে মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ১২ ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহে ট্যাব ও প্রশিক্ষণ শুরু সমাজসেবা অধিদপ্তরের

গ্রিনল্যান্ড চুক্তি: ট্রাম্পের কূটনৈতিক জয় নাকি বাহ্যিক কৌশল

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৪:২৯:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক এবং ডেনিশ স্বশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত নিরাপত্তাবিষয়ক নতুন সমঝোতা ভূ-রাজনীতির টেবিলে একটি ইতিবাচক মোড় হিসেবে দেখা দিচ্ছে। প্রায় দুই বছর ধরে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে গ্রিনল্যান্ডের ওপর যে চাপ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, তার অবসান হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই চুক্তির ফলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের সীমারেখা বজায় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চুক্তির বিস্তারিত বিষয়বস্তু এখনো পুরোপুরি প্রকাশ না পেলেও, এটি ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের জন্য একটি কাঙ্ক্ষিত ফলাফল বয়ে এনেছে। আলোচনার ক্ষেত্রটি পুনরায় কূটনীতির টেবিলে ফিরে আসায় আন্তর্জাতিক আইন, বিনিয়োগ এবং নিরাপত্তা নীতির জটিল বিষয়গুলো সমাধানের পথ প্রশস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সমর্থকদের কাছে এই চুক্তিকে একটি বড় বিজয় হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছেন। ট্রাম্পের রাজনৈতিক মিত্র ও সমর্থক গণমাধ্যমগুলো তার চাপ প্রয়োগের কৌশলকে সফল হিসেবে আখ্যায়িত করছে, যা মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

বাস্তবতা হলো, ১৯৫১ সালের প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং ২০০৪ সালের হালনাগাদকৃত চুক্তির মাধ্যমেই গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সামরিক অধিকার ছিল। স্নায়ুযুদ্ধের সময় সেখানে ১৭টি সামরিক ঘাঁটি ও ১০ হাজারের বেশি সেনা মোতায়েন থাকলেও বর্তমানে কেবল পিটুফিক স্পেস বেস এবং প্রায় ১৫০ জন মার্কিন সেনাসদস্য সেখানে রয়েছেন। ১৯ সেপ্টেম্বর ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্পের বার্তা অনুযায়ী, নতুন চুক্তিতে দুটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। প্রথমত, চুক্তিটি ‘ইনফিনিট লাইফ’ বা অসীম মেয়াদি, যা ন্যাটোর স্থায়িত্বের ওপর নির্ভরশীল নয়। দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্রের লিখিত অনুমোদন ছাড়া কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ গ্রিনল্যান্ডে ঘাঁটি বা স্পর্শকাতর বিনিয়োগ করতে পারবে না, যা কার্যত একটি ভেটো ক্ষমতা প্রদান করে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া বা চীনের প্রভাব ঠেকাতে ডেনিশ সরকার আগেই হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা রাখত। ২০১৬ সালে একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের নৌঘাঁটি কেনার চেষ্টা এবং ২০১৮ সালে বিমানবন্দরের প্রকল্পে চীনের অংশগ্রহণের প্রচেষ্টা ডেনমার্ক সফলভাবে আটকে দিয়েছিল। ফলে নতুন চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ কাগজ-কলমে বাড়লেও বাস্তবে এর প্রভাব সীমিত। ডেনিশ ও গ্রিনল্যান্ডিক প্রতিনিধিরা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ট্রাম্পকে তার ‘বিজয় দাবি করার সুযোগ’ করে দিয়েছেন, আবার নিজেদের সার্বভৌমত্বও অক্ষুণ্ণ রেখেছেন। এটি মূলত একটি বাহ্যিক বা চাক্ষুষ জয়। তবে চুক্তির আর্থিক দিক নিয়ে ট্রাম্পের ‘যুক্তরাষ্ট্রের কোনো খরচ হবে না’ মন্তব্যটি কিছুটা রহস্যজনক, যা ডেনিশ করদাতাদের জন্য স্বস্তিদায়ক নাও হতে পারে। চূড়ান্ত মূল্যায়ন সম্ভব হবে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা প্রকাশের পর।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

গ্রিনল্যান্ড চুক্তি: ট্রাম্পের কূটনৈতিক জয় নাকি বাহ্যিক কৌশল

আপডেট সময় : ০৪:২৯:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক এবং ডেনিশ স্বশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত নিরাপত্তাবিষয়ক নতুন সমঝোতা ভূ-রাজনীতির টেবিলে একটি ইতিবাচক মোড় হিসেবে দেখা দিচ্ছে। প্রায় দুই বছর ধরে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে গ্রিনল্যান্ডের ওপর যে চাপ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, তার অবসান হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই চুক্তির ফলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের সীমারেখা বজায় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চুক্তির বিস্তারিত বিষয়বস্তু এখনো পুরোপুরি প্রকাশ না পেলেও, এটি ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের জন্য একটি কাঙ্ক্ষিত ফলাফল বয়ে এনেছে। আলোচনার ক্ষেত্রটি পুনরায় কূটনীতির টেবিলে ফিরে আসায় আন্তর্জাতিক আইন, বিনিয়োগ এবং নিরাপত্তা নীতির জটিল বিষয়গুলো সমাধানের পথ প্রশস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সমর্থকদের কাছে এই চুক্তিকে একটি বড় বিজয় হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছেন। ট্রাম্পের রাজনৈতিক মিত্র ও সমর্থক গণমাধ্যমগুলো তার চাপ প্রয়োগের কৌশলকে সফল হিসেবে আখ্যায়িত করছে, যা মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

বাস্তবতা হলো, ১৯৫১ সালের প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং ২০০৪ সালের হালনাগাদকৃত চুক্তির মাধ্যমেই গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সামরিক অধিকার ছিল। স্নায়ুযুদ্ধের সময় সেখানে ১৭টি সামরিক ঘাঁটি ও ১০ হাজারের বেশি সেনা মোতায়েন থাকলেও বর্তমানে কেবল পিটুফিক স্পেস বেস এবং প্রায় ১৫০ জন মার্কিন সেনাসদস্য সেখানে রয়েছেন। ১৯ সেপ্টেম্বর ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্পের বার্তা অনুযায়ী, নতুন চুক্তিতে দুটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। প্রথমত, চুক্তিটি ‘ইনফিনিট লাইফ’ বা অসীম মেয়াদি, যা ন্যাটোর স্থায়িত্বের ওপর নির্ভরশীল নয়। দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্রের লিখিত অনুমোদন ছাড়া কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ গ্রিনল্যান্ডে ঘাঁটি বা স্পর্শকাতর বিনিয়োগ করতে পারবে না, যা কার্যত একটি ভেটো ক্ষমতা প্রদান করে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া বা চীনের প্রভাব ঠেকাতে ডেনিশ সরকার আগেই হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা রাখত। ২০১৬ সালে একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের নৌঘাঁটি কেনার চেষ্টা এবং ২০১৮ সালে বিমানবন্দরের প্রকল্পে চীনের অংশগ্রহণের প্রচেষ্টা ডেনমার্ক সফলভাবে আটকে দিয়েছিল। ফলে নতুন চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ কাগজ-কলমে বাড়লেও বাস্তবে এর প্রভাব সীমিত। ডেনিশ ও গ্রিনল্যান্ডিক প্রতিনিধিরা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ট্রাম্পকে তার ‘বিজয় দাবি করার সুযোগ’ করে দিয়েছেন, আবার নিজেদের সার্বভৌমত্বও অক্ষুণ্ণ রেখেছেন। এটি মূলত একটি বাহ্যিক বা চাক্ষুষ জয়। তবে চুক্তির আর্থিক দিক নিয়ে ট্রাম্পের ‘যুক্তরাষ্ট্রের কোনো খরচ হবে না’ মন্তব্যটি কিছুটা রহস্যজনক, যা ডেনিশ করদাতাদের জন্য স্বস্তিদায়ক নাও হতে পারে। চূড়ান্ত মূল্যায়ন সম্ভব হবে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা প্রকাশের পর।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo