রোনালদো ছাড়তেই পর্তুগাল হারাল ৫ লাখ ইনস্টাগ্রাম অনুসারী
- আপডেট সময় : ০৫:৩২:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

ম্যাচের মাত্র এক দিন আগে পর্তুগাল জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে হঠাৎ চলে গেছেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তিনি জানিয়েছেন, সময়মতো এর কারণ জানাবেন। এই ঘটনার পর পর্তুগিজ ফুটবল মহলে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে পক্ষে–বিপক্ষে আলোচনা, যেখানে প্রশ্ন উঠেছে যে জাতীয় দলে তাঁকে অসম্মান করা হয়েছে কিনা।
রোনালদোর এই ঘোষণার পরপরই পর্তুগাল ফুটবল দলের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অনুসারী কমতে শুরু করেছে। একদিনের মধ্যেই দলটির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে পাঁচ লাখের বেশি অনুসারী কমে গেছে। রোনালদো ক্যাম্প ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ার আগে পর্তুগাল জাতীয় দলের ইনস্টাগ্রাম অনুসারী ছিল প্রায় ২ কোটি ৪৯ লাখ ৫০ হাজার। এরপর প্রথম ১৮ ঘণ্টায় অনুসারী কমেছে ৫ লাখ ৪৬ হাজারের বেশি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অ্যাকাউন্টটির অনুসারী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৪৪ লাখে। একজন রোনালদো সমর্থক পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের বিরুদ্ধে ‘ডিজিটাল বয়কট’ চলার কথা জানিয়ে মন্তব্য করেছেন, ‘আমরা পর্তুগালকে অনুসরণ করিনি, আমরা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে অনুসরণ করেছি।’
এই ঘটনার সূত্রপাত উয়েফা নেশনস লিগের একটি ম্যাচকে কেন্দ্র করে। ওয়েলসের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানের জয়ে রোনালদো পর্তুগালের হয়ে শুরু থেকেই খেলেছিলেন। কিন্তু নরওয়ের বিপক্ষে পরের ম্যাচে কোচ হোর্হে জেসুস রোনালদোকে না খেলানোর বিষয়ে আগে থেকেই সমঝোতা হয়েছিল বলে দাবি করেন। সেই ম্যাচে রোনালদোর জায়গায় একাদশে ছিলেন গনসালো রামোস। তবে শেষ মুহূর্তে জেসুস রোনালদোকে জানান যে দ্বিতীয়ার্ধে ৩০ মিনিট তাঁকে মাঠে নামানো হবে। কিন্তু ম্যাচ চলাকালীন তিনি আবার সিদ্ধান্ত বদলান এবং শেষ পর্যন্ত রোনালদোকে মাঠে নামাননি।
এ বিষয়ে পরে সংবাদ সম্মেলনে জেসুস বলেন, ‘ম্যাচের গতিবিধি অনেক কিছু নির্ধারণ করে দেয়। তাঁকে নামানোর জন্য তখন সময়টা উপযুক্ত মনে হয়নি।’ নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের পর পর্তুগালের অন্য খেলোয়াড়েরা গ্যালারির দর্শকদের সামনে গেলেও রোনালদো সরাসরি লকার রুমে চলে যান। এরপর মঙ্গলবার তিনি দলের অনুশীলন ভেন্যুতে গেলেও অনুশীলন না করেই ফিরে আসেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে রোনালদো, কোচ জেসুস ও পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি পাওলো প্রোয়েনসার মধ্যে একটি বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
তবে জেসুসের সংবাদ সম্মেলনের পর সেই সমঝোতার সম্ভাবনাও নষ্ট হয়ে যায়। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানিয়েছিলেন, রোনালদোকে নিয়ে মাত্র দুটি প্রশ্নের উত্তর দেবেন। কিন্তু সংবাদ সম্মেলনের প্রায় পুরো আলোচনাই শেষ পর্যন্ত রোনালদোকে ঘিরে চলে আসে। সেখানে এক প্রশ্নের জবাবে জেসুস কড়া ভাষায় বলেন, ‘নিয়ম সবার জন্যই একই। কোচ খেলোয়াড়দের ক্যারিয়ার ও অতীত বিবেচনায় নেন। কিন্তু ম্যাচের সময় সবাইকে একইভাবে দেখা হয়। কারও মর্যাদা তাকে আলাদা কোনো অধিকার দেয় না। ক্লাবে সভাপতিই দায়িত্বে থাকেন। জাতীয় দলে আমিই দায়িত্বে। কোনো খেলোয়াড় কখনোই আমার সিদ্ধান্ত বদলাতে পারবে না। ফুটবলের আর কেউ পারবে না। কোনো সভাপতিও নয়। কখনোই নয়।’ এই কড়া বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পর জাতীয় দলের অনুশীলন শুরুর আগেই কোপেনহেগেনের পার্কেন স্টেডিয়াম ছেড়ে যান রোনালদো। কিছুক্ষণ পর ইনস্টাগ্রামে তিনি বলেন, ‘জাতীয় দলের কোচের সংবাদ সম্মেলনের পর এবং পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতির সঙ্গে কথা বলার পর আমি জাতীয় দলের ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’





























