ম্যানচেস্টার সিটির অনুশীলনে গানের সুরে জয়ের নতুন রসায়ন
- আপডেট সময় : ১১:১০:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

ম্যানচেস্টার সিটির বিখ্যাত ইতিহাদ কমপ্লেক্সের অনুশীলনের মাঠ এখন অনেকটা নাইটক্লাব বা উৎসবের আমেজ ধারণ করেছে। লাউডস্পিকার থেকে ভেসে আসা কানফাটা ডান্স মিউজিকের তালে ফুটবলাররা গা গরম করছেন, আর ডাগআউটে দাঁড়িয়ে মৃদু হাসছেন নতুন কোচ এনজো মারেসকা। পেপ গার্দিওলার রেখে যাওয়া বিশাল সাফল্যের উত্তরাধিকার সামলানোর চ্যালেঞ্জে মারেসকা বেছে নিয়েছেন এক ভিন্ন পথ; সুরকেই তিনি এখন অনুশীলনের নতুন ভাষা হিসেবে ব্যবহার করছেন।
লেস্টার সিটি ও চেলসিতে সফল হওয়ার পর ইতিহাদে এসেও মারেসকা তার এই গানের প্রচলন বজায় রেখেছেন। তবে কৌশলগত জটিল নির্দেশনা দেওয়ার সময় তিনি গান থামিয়ে দেন। অনুশীলনে কোন গান বাজবে, তা বাছাই করার পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে ফুটবলারদের। ডিফেন্ডার মাতেউস নুনেস জানিয়েছেন, অনুশীলনের আগে খেলোয়াড়রা এখন ডিজে হওয়ার বিষয়টি ভীষণ উপভোগ করছেন। মারেসকার মতে, গান শুনলে ফুটবলাররা প্রফুল্ল থাকে এবং তাদের কাজের মান উন্নত হয়।
এই অভিনব কৌশলের প্রভাব মাঠের পারফরম্যান্সেও স্পষ্ট। নতুন মৌসুমে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের প্রথম চার ম্যাচের চারটিতেই জয় পেয়েছে সিটি। এছাড়া চ্যাম্পিয়নস লিগে পোর্তোর বিরুদ্ধে ২-০ গোলের জয় এবং লিগ কাপে নরউইচ সিটিকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে তারা মৌসুমের দুর্দান্ত সূচনা করেছে।
অনুশীলনে সংগীত ব্যবহারের পেছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক ও মনস্তাত্ত্বিক যুক্তি। জার্মানির হ্যানোভার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, দ্রুতগতির ইলেকট্রনিক সংগীত ফুটবলারদের পাসিং, সময়জ্ঞান এবং তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সূক্ষ্মতা বাড়িয়ে দেয়। স্পোর্টস সাইকোলজিস্টদের মতে, ফুটবল অনেক সময় অতিরিক্ত হিসাবি ও রোবোটিক হয়ে পড়লে গান খেলোয়াড়দের মানসিক চাপ কমিয়ে আনন্দ ফিরিয়ে আনে। এছাড়া প্রতিদিনের কঠোর নির্দেশের মাঝে গান বাছাইয়ের মতো ছোট জায়গায় স্বাধীনতা পাওয়ায় খেলোয়াড়রা নিজেদের দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ মনে করেন, যা কোচের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করে।
কিংবদন্তি কোচ কার্লো আনচেলত্তি ও মার্সেলো লিপির অধীনে খেলার অভিজ্ঞতা থেকে খেলোয়াড়দের মন বোঝার এই কৌশল রপ্ত করেছেন মারেসকা। খেলোয়াড় ক্যারিয়ারের শুরুতে শাওয়ারের নিচে ইতালীয় পপ গান গেয়ে সতীর্থদের প্রিয় হয়ে ওঠা মারেসকা এখন গানের সুরকেই সিটিকে জয়ের ধারায় রাখার মূল হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন।





























