জিডি ট্রফিতে যুবাদের বাজিমাত, চ্যাম্পিয়ন অনূর্ধ্ব-১৯ দল
- আপডেট সময় : ০৪:৩০:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের মান বাড়াতে এবং তরুণ ক্রিকেটারদের বড় মঞ্চে নিজেদের মেলে ধরার সুযোগ দিতে আয়োজন করা হয়েছিল বিসিবি গেম ডেভেলপমেন্ট (জিডি) ট্রফি। টুর্নামেন্টটি শেষে অনূর্ধ্ব-১৯ ও অনূর্ধ্ব-১৭ দলের ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস ও অভিজ্ঞতা অর্জনে এটি কতটা কার্যকর ভূমিকা রেখেছে, তা নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা চলছে। টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া তিন দলের বয়সসীমায় পার্থক্য থাকলেও মাঠের লড়াইয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ ও অনূর্ধ্ব-২৩ দল ছিল সমানে সমান। অন্যদিকে, অনূর্ধ্ব-১৭ দল দলগতভাবে পিছিয়ে থাকলেও তাদের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে নজর কেড়েছেন।
কাগজে-কলমে অনূর্ধ্ব-২৩ দলই ছিল টুর্নামেন্টের সবচেয়ে শক্তিশালী দল, যাদের অনেকেই ইমার্জিং ও হাইপারফরম্যান্স (এইচপি) দলের হয়ে দেশ-বিদেশে খেলার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। তবে মাঠের পারফরম্যান্সে তাদের চেয়ে কোনো অংশে পিছিয়ে ছিল না অনূর্ধ্ব-১৯ দল। ৫ ম্যাচের মধ্যে ৩টিতে জয় পেয়ে টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে অনূর্ধ্ব-১৯ দল। অন্যদিকে ৫ ম্যাচের মধ্যে ২টিতে জয় পায় অনূর্ধ্ব-২৩ দল, তবে তাদের দুটি ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়। এমনকি ফাইনাল ম্যাচটিও বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ায় গ্রুপ পর্বে বেশি ম্যাচ জেতার সুবাদে বাইলজ অনুযায়ী অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়। সিনিয়রদের বিপক্ষে যুবাদের এই সাফল্য তাদের আসন্ন সফরগুলোতে বড় ধরনের আত্মবিশ্বাস জোগাবে।
টুর্নামেন্টে ব্যাটিংয়ে দারুণ উজ্জ্বল ছিলেন তরুণ জারিফ সিয়াম। ৪ ইনিংসে একটি ৯৯ রানের ইনিংসসহ সর্বোচ্চ ১৮০ রান করেছেন তিনি। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে জারিফ বলেন, ‘এই টুর্নামেন্টে যে ম্যাচগুলোতে ভালো করেছি, সেখান থেকে অনেক কিছু শিখছি। খারাপ করেছি, সেখান থেকেও শিখছি। সব মিলিয়ে অনেক কিছু শেখা হয়েছে। যে অভিজ্ঞতাগুলো হয়েছে, যে ভুলগুলো করেছি, পরেরবার কোনো বড় টুর্নামেন্টে ব্যাটিং করার সময় এগুলো আমাকে অনেক কাজে দেবে।’
ব্যাটিং তালিকার দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন অনূর্ধ্ব-১৯ দলের আহসান আল মুনিম, যিনি ৪ ইনিংসে করেছেন ১৬৩ রান। এছাড়া শীর্ষ পাঁচ ব্যাটারের মধ্যে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের আরও দুজন এবং অনূর্ধ্ব-২৩ দল থেকে মো. আব্দুল্লাহ ও আহরার আমিন স্থান করে নিয়েছেন। বোলিংয়ে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ১০টি করে উইকেট শিকার করেছেন অনূর্ধ্ব-১৯ দলের তাফিউল তামিম ও অনূর্ধ্ব-২৩ দলের শেখ পারভেজ জীবন। বোলিংয়ের শীর্ষ পাঁচে অনূর্ধ্ব-২৩ দলের ক্রিকেটারদেরই আধিক্য ছিল, যার মধ্যে স্বাধীন ইসলাম ৯টি, আহরার আমিন ৬টি এবং মাহফুজুর রাব্বি ৫টি উইকেট নিয়েছেন।
২০২৮ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এখন থেকেই দল গোছানোর কাজ করছেন কোচ হান্নান সরকার। সামনে যুবাদের বেশ কয়েকটি বিদেশি সফর রয়েছে। তার আগে জিডি ট্রফিতে এমন পারফরম্যান্স দলের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করেন হান্নান। তিনি বলেন, ‘আমাদের দলের অধিকাংশ খেলোয়াড় প্রথমবার মিরপুরে খেলার সুযোগ পেয়েছে। এই অভিজ্ঞতা তাদের পরবর্তী সময়ে সাহায্য করবে। পাশাপাশি সিনিয়রদের সঙ্গে খেলার সুযোগ পেল। আমাদের এই ব্যাচের বেশির ভাগ খেলোয়াড় তৃতীয় বিভাগে খেলে। অনেক খেলোয়াড় আছে, এখন পর্যন্ত কোনো লিগেই খেলেনি। তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ ছিল অনূর্ধ্ব-২৩ দলের সঙ্গে খেলা, যেখানে সব খেলোয়াড় প্রিমিয়ার লিগের। তাদের সঙ্গে খেলার মাধ্যমে যে সাহস আর অভিজ্ঞতাটা, সেটা ভবিষ্যতে কাজে দেবে।’
তরুণ ক্রিকেটারদের বিকাশে এই ধরনের টুর্নামেন্টের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে হান্নান সরকার আরও যোগ করেন, ‘টুর্নামেন্ট আর প্রীতি ম্যাচের মধ্যে কিন্তু পার্থক্য থাকে। টুর্নামেন্টে নিশ্চিতভাবেই আলাদা একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতার আবহ থাকে এবং সেখানে অনূর্ধ্ব-১৭ হয়তো একটু ছোট ছিল, তবে তবু তাদের জন্য এটা একটা বড় অভিজ্ঞতা ছিল। আর আমাদের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের জন্য এটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ, এই জন্য যে, অনূর্ধ্ব-২৩ দলের সঙ্গে খেলা নিশ্চিতভাবেই আমাদের জন্য একটা বড় অভিজ্ঞতা।’




























