পুরুষ প্রমাণিত হওয়ায় দুই নারী অ্যাথলেট আজীবন নিষিদ্ধ, পদক বাতিল
- আপডেট সময় : ১০:৫৬:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

লিঙ্গ নির্ধারণী পরীক্ষায় পুরুষ প্রমাণিত হওয়ায় জাতীয় স্তরের দুই অ্যাথলেট জান্নাত বেগম ও কবিতা রায়কে আজীবন নিষিদ্ধ করেছে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন। একই সঙ্গে জাতীয় প্রতিযোগিতায় অর্জিত তাঁদের সব পদক বাতিল করা হয়েছে। ফেডারেশনের নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আজীবন নিষিদ্ধ হওয়া দুই অ্যাথলেটের মধ্যে জান্নাত বেগম বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এবং কবিতা রায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রতিনিধি হিসেবে খেলতেন। ২৮ বছর বয়সী জান্নাত একজন থ্রোয়ার এবং ১৯ বছর বয়সী কবিতা স্প্রিন্টার হিসেবে নারী বিভাগে অংশ নিয়ে আসছিলেন। অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আলী ইমাম তপন জানান, চিকিৎসক বোর্ডের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জান্নাতের সোনা জয়সহ মোট ৯টি পদক এবং কবিতার প্রায় ৪টি পদক রয়েছে, যা এখন বাতিল করে অন্য প্রতিযোগীদের দিয়ে দেওয়া (বডিলি শিফট) হবে। তাঁরা আর কোনোদিন নারী হিসেবে খেলতে পারবেন না।
এর আগে এই দুই অ্যাথলেটের লিঙ্গ নিয়ে বিতর্ক উঠলে পূর্ববর্তী কমিটি তাঁদের লিঙ্গ নির্ধারণী পরীক্ষার জন্য বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে অনুরোধ জানায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে। গত ১১ মে বোর্ড তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ করে এবং ১৬ মে ফেডারেশনের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।
মেডিক্যাল বোর্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জান্নাত ও কবিতার শরীরে স্বাভাবিক নারীর তুলনায় অতিরিক্ত মাত্রায় পুরুষ হরমোন বা টেস্টোস্টেরন পাওয়া গেছে। জান্নাত বেগমের রক্তে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ছিল ১৯.৬৬ এনমোল/লিটার, যা ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকসের নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমা ২.৫ এনমোল/লিটারের চেয়ে প্রায় ৮ গুণ বেশি। অন্যদিকে, কবিতা রায়ের শরীরে এই হরমোনের মাত্রা পাওয়া গেছে ১৬.৫০ এনমোল/লিটার, যা বিশ্ব অ্যাথলেটিকসের নির্ধারিত সীমার চেয়ে সাড়ে সাড়ে ছয় গুণেরও বেশি। ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকসের নিয়ম অনুযায়ী, নারী বিভাগে অংশ নিতে হলে একজন অ্যাথলেটের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা টানা ২৪ মাস ধরে ২.৫ এনমোল/লিটারের নিচে থাকা বাধ্যতামূলক।
১৬ মে মেডিক্যাল বোর্ড তাঁদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন ফেডারেশনের কাছে জমা দেয়।.মেডিক্যাল বোর্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী জান্নাত ও কবিতার শরীরে নারীর স্বাভাবিক হরমোনের চেয়ে বেশি হরমোন ধরা পড়েছে।রক্তে জান্নাত বেগমের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ১৯ দশমিক ৬৬ এনমোল/লিটার, যা ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকসের নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমার (২ দশমিক ৫ এনমোল/
.ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকসের বিধিমালা অনুযায়ী নারী বিভাগে অংশগ্রহণের জন্য অ্যাথলেটের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা টানা ২৪ মাস ধরে ২ দশমিক ৫ এনমোল/লিটার-এর নিচে থাকা বাধ্যতামূলক।এ বিষয়ে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আলী ইমাম তপন প্রথম আলোকে বলেন, ‘চিকিৎসক বোর্ডের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত, ওরা দুজন নারী নয়, পুরুষ।





























