বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলেন হাসনাত আবদুল্লাহ
- আপডেট সময় : ১১:২৪:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসনে বিরোধী দলকে ছয় মাসের আল্টিমেটাম দিয়ে যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, তা গ্রহণ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। শনিবার রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এ কথা জানান এবং সরকারের প্রতি পাল্টা সমাধান পরিকল্পনা প্রস্তাব করেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ দাবি করেন, বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান ইতিমধ্যেই বিরোধী দলের কাছে রয়েছে। এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম স্বল্পমেয়াদী (৩০ দিন), মধ্যমেয়াদী (৬-১৮ মাস) ও দীর্ঘমেয়াদী মিলিয়ে মোট ১৫ দফা সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা দিয়েছেন। এ ছাড়া ভর্তুকি নীতি, ফুয়েল প্ল্যান এবং ডিজাস্টার রিকভারি প্ল্যান নিয়ে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট বক্তব্য রাখা হয়েছে, যা বিভিন্ন সেমিনার ও জাতীয় দৈনিকে আলোচিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বিশাল মন্ত্রিসভা ও উপদেষ্টা পরিষদের ৬২ জন সদস্য থাকা সত্ত্বেও এসব তথ্য তাঁর কাছে পৌঁছায়নি বলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।
তিনি জানান, প্রশাসনে ধারাবাহিক দলীয় পদায়নের ফলে বর্তমানে প্রাতিষ্ঠানিক স্মৃতি বা 'ইনস্টিটিউশনাল মেমরি' বলে কিছু অবশিষ্ট নেই। মহেশখালী এফএসআরইউ-তে আগুন লাগার ঘটনার পর স্বাধীন তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত না হওয়া এবং সচিবালয়ে অনভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের লবি গ্রুপের পরামর্শে কাজ করার সমালোচনা করেন তিনি।
হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, ডলার ও বকেয়ার অজুহাতে বিদ্যুৎ কেনা যাচ্ছে না বলে সরকার দাবি করছে। অথচ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অনুমোদিত 'মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি ২০২৫' এখনো বাস্তবায়ন করা হয়নি। এই কাঠামো অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে খরচ ছাড়াই বেসরকারি উৎপাদক সরাসরি বড় শিল্প গ্রাহকের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারে। তিনি বলেন, এই পলিসি বাস্তবায়নের জন্য কেবল SLA ফরম্যাট ও হুইলিং চার্জ চূড়ান্ত করা প্রয়োজন, যা কয়েক সপ্তাহের প্রশাসনিক কাজ মাত্র। তিনি অবিলম্বে বিশেষ সংসদীয় অধিবেশন ডাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ছয় মাসের সময়সীমা তারা মেনে নিচ্ছেন, কিন্তু এই ঘড়িটি সরকারের। মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি বাস্তবায়নে এর চেয়ে বেশি সময় লাগলে তা সরকারের সক্ষমতার ব্যর্থতার স্বীকারোক্তি হিসেবে গণ্য হবে।
পরিশেষে তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলকে চ্যালেঞ্জ দেন না, বরং সরকার তার কাজের জবাবদিহি করে। দেশ কেন ইতিহাসের সর্বোচ্চ লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ল, তা নিয়ে সরকারের জবাবদিহিতা থাকা উচিত।
প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০২৬, ২২: ২৮আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২৬, ২২: ৩২
তিন. ছয় মাসে প্রশাসনে যে হারে দলীয় পদায়ন হয়েছে, তাতে ইনস্টিটিউশনাল মেমরি বলে কিছু অবশিষ্ট নেই। ফলে ফুয়েল প্ল্যান নেই, কন্টিনজেন্সি প্ল্যান নেই, ডিজাস্টার রিকভারি প্ল্যান নেই। ভর্তুকি কাটা হয়েছে ঠিক সেখান থেকে যেখান থেকে বিদ্যুৎ আসে, আর ক্যাপাসিটি চার্জ অক্ষত। সচিবালয়ে যাঁরা এসেছেন তাঁরা নতুন, অনভিজ্ঞ, এবং লবি গ্রুপের পরামর্শে চলছেন। মহেশখালী FSRU-তে আগুন লাগার পর রক্ষণাবেক্ষণে ত্রুটি ছিল কি না, সেই স্বাধীন তদন্ত প্রতিবেদনটি আজও প্রকাশিত হয়নি। নাশকতা নাকি অবহেলা, সরকার নিজেই জানে না।




























