২০২৬ বিশ্বকাপের সেরা তারকা ও স্মরণীয় মুহূর্তের তালিকা প্রকাশ

- আপডেট সময় : ১১:৫৪:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

প্রায় ছয় সপ্তাহ ধরে ১০৪টি ম্যাচের রোমাঞ্চ শেষে পর্দা নেমেছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের। এবারের আসরে যেমন সৃষ্টি হয়েছে নতুন ইতিহাস, তেমনি ভেঙেছে বহু রেকর্ড। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর বিবিসি স্পোর্টসের সাংবাদিকরা টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়, উদীয়মান তারকা, স্মরণীয় মুহূর্ত, সবচেয়ে বড় হতাশা, সেরা সমর্থক, সেরা গোল ও সেরা সেভের একটি তালিকা তৈরি করেছেন।
বিশ্বকাপের অফিসিয়াল গোল্ডেন বল জিতেছেন স্পেনের অধিনায়ক রদ্রি। সিলভার বল পেয়েছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি এবং ব্রোঞ্জ বল জিতেছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে। তবে বিবিসির একাধিক সাংবাদিকের মতে, ৩৯ বছর বয়সেও মেসির পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ। কেউ বলেছেন, তিনি পুরো টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনার প্রাণভোমরা ছিলেন। আট ম্যাচে আট গোল ও চার অ্যাসিস্ট করে মেসি প্রমাণ করেছেন বয়স তার পারফরম্যান্সে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। অন্যদিকে, জুড বেলিংহাম, মাইকেল অলিসে কিংবা রদ্রিকেও অনেকে ব্যক্তিগত সেরা খেলোয়াড় হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
সেরা উদীয়মান ফুটবলার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন স্পেনের ১৯ বছর বয়সী ডিফেন্ডার পাও কুবারসি। পুরো টুর্নামেন্টে এক মিনিটও মাঠের বাইরে না থেকে তিনি স্পেনের রক্ষণভাগকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার দল পুরো আসরে মাত্র একটি গোল হজম করেছে। এছাড়া সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত তালিকায় মরক্কোর আইয়ুব বুয়াদ্দি, নরওয়ের আর্লিং হলান্ড, কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহা, যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালেক্স ফ্রিম্যান, সুইজারল্যান্ডের ইয়োহান মানজাম্বি এবং মেক্সিকোর গিলবার্তো মোরাসহ আরও কয়েকজন তরুণ ফুটবলার জায়গা পেয়েছেন।
বিবিসির প্রতিবেদকদের কাছে এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তগুলো ছিল ভিন্ন ভিন্ন। কেউ মেক্সিকো-ইংল্যান্ড ম্যাচের দুর্দান্ত পরিবেশকে সেরা অভিজ্ঞতা বলেছেন। কেউ আবার জার্মানিকে টাইব্রেকারে হারিয়ে প্যারাগুয়ের ঐতিহাসিক জয় কিংবা কেপ ভার্দের সিডনি কাবরালের আর্জেন্টিনার বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে করা দুর্দান্ত গোলকে টুর্নামেন্টের সেরা মুহূর্ত হিসেবে বেছে নিয়েছেন। অনেকের কাছে মেসির হ্যাটট্রিক কিংবা কেপ ভার্দের সাহসী লড়াইও ছিল অবিস্মরণীয়।
সবচেয়ে বড় হতাশা হিসেবে অনেকেই বেছে নিয়েছেন ব্রাজিলকে। কার্লো আনচেলত্তির অধীনে দলটির ধীরগতির ও নিষ্প্রভ ফুটবল সমালোচনার মুখে পড়ে। এছাড়া সেনেগালের ব্যর্থতা, পর্তুগালের শেষ ষোলো থেকেই বিদায়, স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের হতাশাজনক পারফরম্যান্স এবং ফাইনালের ভেন্যু হিসেবে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ব্যবস্থাপনাও সমালোচনার মুখে পড়ে।
সমর্থকদের আবহ নিয়েও প্রশংসা করেছেন বিবিসির সাংবাদিকরা। অধিকাংশই মেক্সিকোর সমর্থকদের উচ্ছ্বাস, আতিথেয়তা ও আবেগের প্রশংসা করেছেন। এছাড়া আর্জেন্টিনার হাজার হাজার সমর্থকের নিরবচ্ছিন্ন গান ও উন্মাদনা, নরওয়ের বিখ্যাত ‘ভাইকিং রো’ উদ্যাপন এবং ব্রাজিল, কলম্বিয়া ও কুরাসাওয়ের সমর্থকদের উপস্থিতিও নজর কেড়েছে।
টুর্নামেন্টের সেরা গোলের তালিকায় বিবিসির প্রধান ফুটবল লেখক ফিল ম্যাকনাল্টি বেছে নিয়েছেন কেপ ভার্দের বিপক্ষে লিওনেল মেসির অসাধারণ ফিনিশিংকে। এছাড়া সিডনি কাবরালের অতিরিক্ত সময়ের সমতাসূচক গোল, বসনিয়া-হার্জেগোভিনার কেরিম আলাজবেগোভিচের একক নৈপুণ্য, নরওয়ের আর্লিং হলান্ডের শক্তিশালী শট, হুলিয়ান আলভারেজের দূরপাল্লার গোল এবং আন্তোনিও নুসার দুর্দান্ত ফিনিশও সেরা গোলের তালিকায় স্থান পেয়েছে।
গোলরক্ষকদের মধ্যে হাইতির জনি প্লাসিদের দুর্দান্ত ডাবল সেভ, ইংল্যান্ডের জর্ডান পিকফোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ সেভ, নরওয়ের অরইয়ান নিয়ল্যান্ডের অবিশ্বাস্য প্রতিক্রিয়া, তিউনিসিয়ার আয়মান দাহমেনের সেভ, অস্ট্রেলিয়ার প্যাট্রিক বিচের ঝাঁপিয়ে বল ঠেকানো এবং ইরানের আলিরেজা বেইরানভান্দের অসাধারণ সেভকে টুর্নামেন্টের সেরাদের মধ্যে রাখা হয়েছে।



























