হরমুজ প্রণালিতে দুই ট্যাংকারে আগুন, কাতার ও ইরানের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
- আপডেট সময় : ১১:৩৭:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ ২০ বার পড়া হয়েছে

হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জ্বালানি তেলবাহী দুটি ট্যাংকারে বিস্ফোরণের পর বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-র মাধ্যমে দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, উদ্ধারকারী দলগুলো ট্যাংকার দুটিতে থাকা ক্রুদের উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।
আইআরজিসির দাবি, ট্যাংকার দুটি হরমুজ প্রণালির ‘দক্ষিণঘেঁষা অনিরাপদ অংশ’ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। এ ঘটনার পর আইআরজিসি জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক করে বলেছে, মার্কিন বাহিনীর দেওয়া ‘মিথ্যা তথ্যে’ ভরসা না করতে এবং ‘বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত’ নৌপথগুলো এড়িয়ে চলতে। নাবিকদের সুরক্ষায় এসব নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে ইরান।
বিবৃতিতে আইআরজিসি আরও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ড যতদিন অব্যাহত থাকবে, ততদিন হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল বন্ধ রাখা হবে। তারা হুমকি দিয়েছে যে, এই অঞ্চল থেকে এক ফোঁটা তেল-গ্যাস, এমনকি এক প্যাকেট রাসায়নিক সারও বাইরে রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না।
অন্যদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে তাদের সোমবার রাতের ধারাবাহিক অভিযান শেষ হয়েছে। সেন্টকমের ভাষ্যমতে, হরমুজ প্রণালিতে পণ্যবাহী জাহাজগুলোয় ইরানের হামলার সক্ষমতা মোকাবিলায় বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে ইরানের সামরিক কমান্ড কেন্দ্র, সামুদ্রিক সক্ষমতা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণকেন্দ্র এবং বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে কাতার জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও সংস্থাটির নিরাপত্তা পরিষদের কাছে একাধিক চিঠি পাঠিয়েছে। দোহা চিঠিতে তাদের ওপর ইরানের বারবার চালানো হামলাগুলোর বিশদ বিবরণ তুলে ধরেছে। এর মধ্যে ৭ জুলাই কাতারি ট্যাংকার ‘আল রেকায়াত’-এর ওপর হামলা এবং ১২ জুলাই কাতারের ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথা উল্লেখ রয়েছে। কাতার জানিয়েছে, ১২ জুলাইয়ের হামলাটি তাদের সশস্ত্র বাহিনী প্রতিহত করেছে।
কাতার চিঠিতে আরও বলেছে, এসব হামলা ‘আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বিধিমালা লঙ্ঘন’ করে চালানো হয়েছে। হামলায় ক্ষয়ক্ষতির জন্য দেশটি ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে এবং এসব হামলার বিপরীতে প্রতিক্রিয়া জানানোর অধিকার তাদের রয়েছে বলে সতর্ক করেছে।





























