রাজনৈতিক লোকজন আমার সঙ্গে আসুক, আমি পেছনে যাব না: সাবেক উপাচার্য
- আপডেট সময় : ১১:২৫:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

দলীয় রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে দেশের শিক্ষকেরা প্রতিনিয়ত হেনস্তার শিকার হচ্ছেন বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান। আজ শনিবার বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। ‘শিক্ষকদের সামাজিক সুরক্ষা ও প্রভাবমুক্ত শিক্ষাঙ্গন গড়তে করণীয়’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহযোগী সংগঠন বেসরকারি শিক্ষক অ্যালায়েন্স (বিএসএ)।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, রাজনীতি আমাদের বারবার আশাহত করেছে। যারা দলীয় রাজনীতির বাইরে, তারা এর প্রতি বিরক্ত ও বীতশ্রদ্ধ। তবে বিরাজনীতিকরণ কোনো সমাধান নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে যেখানে রাজনৈতিক লোকজন শিক্ষকদের সম্মান করবেন। তিনি আরও বলেন, আমি রাজনীতিকে বাদ দিতে বলছি না, বরং বলছি রাজনৈতিক লোকজন আমার সঙ্গে আসুক, কিন্তু আমি তাদের পেছনে যাব না। এর জন্য শিক্ষকদের মেরুদণ্ড সোজা করে শক্ত অবস্থানে দাঁড়াতে হবে এবং সব পর্যায়ের শিক্ষকদের একটি প্ল্যাটফর্মে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
শিক্ষকদের সম্মানজনক অবস্থান নিশ্চিত করতে তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দেন সাবেক এই উপাচার্য। তিনি বলেন, শিক্ষকদের নিজেদের মধ্যে সংহতি বজায় রাখতে হবে, পেশাগত উৎকর্ষের জন্য অনলাইনসহ বিভিন্ন কোর্সে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে এবং শিক্ষকদের দক্ষতা অনুযায়ী বহুমুখী দায়িত্ব প্রদান করতে হবে।
অনুষ্ঠানে এনসিপির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন শিক্ষকদের অর্থনৈতিক দুর্দশার চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অধিকাংশ শিক্ষক বর্তমান বেতনে সংসার চালাতে হিমশিম খান, আর অবসরের পর পেনশনের টাকা পেতেও তাদের অবর্ণনীয় কষ্ট পোহাতে হয়। তিনি অবসরে যাওয়ার তিন থেকে চার মাসের মধ্যে শিক্ষকদের পেনশনের সব টাকা পরিশোধের দাবি জানান। পাশাপাশি তিনি প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানির সমালোচনা করেন। বর্তমান সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেন, গায়ের জোরে অনেক সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, যেমন র্যাবের পরিবর্তে এসআরবি গঠন বা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের পরিবর্তে সাইবার সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে।
আলোচনা সভায় জামায়াতে ইসলামীর সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ কওমি মাদ্রাসার শিক্ষাব্যবস্থায় নজরদারির প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংকের (ইউটিএল) সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন অভিযোগ করেন যে অনেক শিক্ষক নেতা ক্লাসে না গিয়ে নেতাগিরি করেন, যা শিক্ষার্থী-শিক্ষক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
বিএসএর আহ্বায়ক আবদুর রহমান রিজভীর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, ইউটিএ-এর সদস্যসচিব শামীম হামিদী, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির মহাসচিব মো. জসিম উদ্দিন আহমেদ, অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ ফোরাম বাংলাদেশের মহাসচিব মো. আব্দুর রহমান, নন-এমপিও শিক্ষক কর্মচারী পরিষদের আহ্বায়ক শামিয়া জামান পান্না এবং ন্যাশনাল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক আবদুল হামিদ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিএসএর সদস্যসচিব সিরাজুল ইসলাম।





























