বোনকে মিরাস থেকে বঞ্চিত করা শরিয়ত লঙ্ঘন ও জাহেলি প্রথা
- আপডেট সময় : ০৭:২৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

উত্তরাধিকার সম্পত্তি থেকে বোনদের বঞ্চিত করার প্রবণতা আমাদের সমাজে একটি জঘন্য ও অমানবিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। অথচ পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহতায়ালা নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যই উত্তরাধিকারের সুনির্দিষ্ট বিধান নির্ধারণ করে দিয়েছেন, যা পরিবর্তন করার অধিকার কারও নেই। ইসলামে বোনের এই ন্যায্য অধিকার বুঝিয়ে দেওয়া কেবল একটি দায়িত্বই নয়, বরং এটি ঈমানের অন্যতম দাবি।
অনেকের মধ্যে একটি ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে যে, বোনদের কেবল খোঁজখবর নিলেই বুঝি ভাইয়ের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়। প্রকৃতপক্ষে, বোনদের শরিয়তসম্মত প্রাপ্য মিরাস বা উত্তরাধিকারের অংশ সম্পূর্ণভাবে বুঝিয়ে দেওয়ার পরই কেবল ভাইয়ের দায়িত্ব বা হক আদায় হয়। মিরাস বুঝিয়ে না দিয়ে কেবল বাহ্যিক খোঁজখবর নেওয়াকে ইসলামে এক ধরনের প্রতারণা হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। বোনের পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার পর তাদের খোঁজখবর নেওয়া, বিপদে পাশে দাঁড়ানো এবং স্নেহ-ভালোবাসা প্রদর্শন করা অতিরিক্ত সওয়াব বা নেকির কাজ।
বর্তমানে কোনো বোন যদি নিজের প্রয়োজনে বা বিপদে পড়ে তার ন্যায্য পাওনা দাবি করেন, তবে তাকে নানাভাবে তিরস্কার ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয়। এমনকি প্রাপ্য সম্পদ বুঝে নিলে বোনকে ভবিষ্যতে ভাইদের কাছ থেকে কোনো আশ্রয় বা সহায়তা পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়, যা তাকে নিজের ভাইদের কাছেই মাথা গোঁজার ঠাঁইহীন করে তোলে। এই ধরনের বৈষম্যমূলক ও অনৈতিক আচরণ মূলত প্রাক-ইসলামী বা জাহেলি যুগের অমানবিক প্রথারই একটি প্রতিচ্ছবি।
বোনদের মিরাস থেকে বঞ্চিত করার মাধ্যমে একদিকে যেমন আল্লাহর সরাসরি নির্দেশ অমান্য করা হয়, অন্যদিকে এটি আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার মতো মারাত্মক অপরাধের শামিল। ইসলামে পারিবারিক সম্পর্ককে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করাকে সম্পূর্ণ হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। এই কুপ্রথা সমাজে পারস্পরিক আস্থা ও শ্রদ্ধাবোধ নষ্ট করে এবং বিভেদ সৃষ্টি করে। তাই এই জাহেলি প্রথা পরিহার করে বোনদের প্রাপ্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া প্রত্যেক মুসলিমের ধর্মীয় ও নৈতিক দায়িত্ব।




























