ইসলামপন্থী রাজনীতিতে গণসার্বভৌমত্ব স্বীকার করা জরুরি: আলী রীয়াজ
- আপডেট সময় : ০১:৩৮:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে ইসলামপন্থী রাজনীতি করতে হলে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণ এবং গণসার্বভৌমত্বকে স্পষ্টভাবে স্বীকার করে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির ডিস্টিংগুইশড অধ্যাপক আলী রীয়াজ। জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা প্রয়াত ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের লেখা ‘বাংলাদেশ জামায়াত–ই–ইসলামী: ইটস হিস্ট্রি অ্যান্ড পলিটিকস’ শীর্ষক বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। বইটি প্রকাশ করেছে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল)।
আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে এই প্রকাশনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, বাংলাদেশে যারা ইসলামপন্থী রাজনীতি করতে চান, তাদের প্রথম কাজ হবে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন করা। আর সেই রাষ্ট্র গঠনের জন্য গণসার্বভৌমত্বের ধারণাটিকে স্পষ্টভাবে মেনে নিয়ে সামনে এগোতে হবে। অতীতের ভুলত্রুটিগুলো স্বীকার ও মোকাবিলার মাধ্যমেই কেবল এই আলোচনা একটি অর্থবহ ও ফলপ্রসূ জায়গায় পৌঁছাতে পারে।
ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক জামায়াতে ইসলামীকে সংস্কারের পথে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন উল্লেখ করে আলী রীয়াজ বলেন, বিশেষ করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে দলটির বিতর্কিত ও সংঘাতপূর্ণ ভূমিকার জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি তিনি বারবার সামনে এনেছিলেন। জামায়াতের নিজের স্বার্থেই এই বিতর্কের অবসান হওয়া প্রয়োজন। রাজনৈতিক দল হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে দলটির নেতাদের জন্য আবদুর রাজ্জাকের এই বই একটি দিকনির্দেশনা হতে পারে।
মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আরও বলেন, ১৯৭১ সালের ভূমিকার জন্য জামায়াতের ক্ষমা চাওয়া দল এবং দেশ উভয়ের জন্যই অত্যন্ত জরুরি। তবে এই বইটির মূল্যায়ন কেবল একাত্তরের ভূমিকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা ঠিক হবে না। বইটির পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম অধ্যায়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তাত্ত্বিক বিষয় রয়েছে, যেখানে জামায়াতের আদর্শিক অবস্থান এবং রাষ্ট্র ও নাগরিকের সার্বভৌমত্ব নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন তোলা হয়েছে। পাশাপাশি বর্তমান সাংগঠনিক কাঠামোয় দূরদর্শী নেতৃত্ব গড়ে ওঠার সুযোগ আছে কি না, বুদ্ধিবৃত্তিক স্থবিরতা এবং নেতৃত্বের ঘাটতি নিয়ে লেখকের গভীর পর্যবেক্ষণ বইটিতে উঠে এসেছে।
গুলশানের এই অনুষ্ঠানে ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের বইটির আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক উপরাষ্ট্রদূত জন ড্যানিলোভিচ এবং দ্য ডেইলি স্টারের কনসাল্টিং এডিটর কামাল আহমেদ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে আবদুর রাজ্জাকের দুই ছেলে, তাঁর শুভানুধ্যায়ী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।





























