এআই ব্যবহারে মারাত্মক জৈব অস্ত্রের ঝুঁকি বাড়ার শঙ্কা এমআইফাইভ প্রধানের
- আপডেট সময় : ১২:০৬:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অপব্যবহারে নতুন ধরনের জৈব অস্ত্র তৈরির ঝুঁকি ও এর ভয়াবহতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যেতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা এমআইফাইভ-এর প্রধান স্যার কেন ম্যাককালাম। সাম্প্রতিক এক বার্ষিক ভাষণে তিনি এ উদ্বেগের কথা প্রকাশ করেন। তাঁর এই বক্তব্যের পর কীভাবে এআই জৈব মারণাস্ত্র তৈরিতে সহায়তা করতে পারে এবং এর পেছনে কী ধরনের কারিগরি ও প্রযুক্তিগত বিষয় জড়িত রয়েছে, তা নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মূলত দুই ধরনের গোষ্ঠী এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করতে পারে। প্রথম শ্রেণিতে রয়েছে কোনো ধরনের পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়া গ্যারেজ বা ছোট গবেষণাগারে ক্ষতিকর প্যাথোজেন ও বিষাক্ত পদার্থ তৈরির চেষ্টায় থাকা একক বা ছোট সন্ত্রাসী দলগুলো। এআই চ্যাটবট তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য গুছিয়ে দেওয়া, পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরিকল্পনা তৈরি এবং কারিগরি জটিলতা নিরসনে একটি সহায়ক পথ নির্দেশক হিসেবে কাজ করার ঝুঁকি বাড়ায়। অন্যদিকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে রয়েছে বিপুল অর্থ ও প্রযুক্তিসমৃদ্ধ শক্তিশালী রাষ্ট্র বা বড় সংস্থা, যাদের কাছে দক্ষ বিজ্ঞানী, উচ্চ সুরক্ষাসম্পন্ন ল্যাব এবং সব ধরনের রাসায়নিক ও আধুনিক সরঞ্জাম বিদ্যমান।
'কিংস কলেজ লন্ডন'-এর বিজ্ঞান ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ের শিক্ষক ডা. ফিলিপা লেনটজস বর্তমান পরিস্থিতিকে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, এআই প্রযুক্তি নতুন বিজ্ঞানের অভিজ্ঞতা সরাসরি তৈরি না করলেও দক্ষ গবেষকদের কাজের সক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং ক্ষতিকর রাসায়নিক ও জৈব উপাদানকে আরও বেশি প্রাণঘাতী করার উপায় বের করে দিচ্ছে। এমনকি উচ্চ সক্ষমতাসম্পন্ন দলগুলো এআই ব্যবহার করে সম্পূর্ণ নতুন ধরনের প্যাথোজেন বা বিষাক্ত উপাদান নকশা করতে পারে, যার কোনো ওষুধ বা প্রতিষেধক বাজারে উপলব্ধ নেই।
বাস্তব ক্ষেত্রেও ইতোমধ্যে এ ধরনের অপচেষ্টার নজির মিলতে শুরু করেছে। গত বছর ভারতে এক চিকিৎসকসহ কয়েকজন ব্যক্তি এআই চ্যাটবট ও সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করে গৃহস্থালি সরঞ্জাম দিয়ে মারাত্মক 'রাইসিন' বিষ তৈরির ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলে পুলিশ তাদের চক্রান্ত উন্মোচন করে। এছাড়া গত বছরের সেপ্টেম্বরে খ্যাতনামা এআই কোম্পানি অ্যানথ্রপিক জানায়, নাম প্রকাশ না করা কয়েকটি দেশের বিজ্ঞানীরা তাদের চ্যাটবট 'ক্লড' ব্যবহার করে ক্ষতিকর ভাইরাস বা বিষাক্ত উপাদান নিয়ে কাজ করার চেষ্টা চালিয়েছিলেন। চ্যাটবটের নিরাপত্তা দেয়াল এড়াতে তারা নানা ধরনের কৌশলের আশ্রয় নেন।
এআই কীভাবে বিপজ্জনক তথ্য সরবরাহ করে মহামারির ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে তা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের শঙ্কা তীব্র হচ্ছে। 'ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি' (এমআইটি)-র একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, বৈজ্ঞানিক জ্ঞান বা অভিজ্ঞতা না থাকা শিক্ষার্থীরাও এআই চ্যাটবটের সহায়তায় মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে চারটি সম্ভাব্য মহামারি সৃষ্টিকারী প্যাথোজেন চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, কৃত্রিম ডিএনএ ব্যবহার করে সেসব প্যাথোজেন তৈরির উপায় এবং কোন কোন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই সরঞ্জাম পাঠাবে, তার তালিকাও তারা পেয়ে যায়।




























