অফিসার্স ক্লাবে দুর্ঘটনায় সাবেক অতিরিক্ত সচিবের মৃত্যু, দিশাহারা মেয়ে
- আপডেট সময় : ১২:২৫:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. মোশাররফ হোসেনের মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক। গত শুক্রবার সকালে রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবের নির্মাণাধীন ভবনের নিচতলায় সিঁড়ির পাশে তাঁকে রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। সেখান থেকে তাঁকে প্রথমে শাহবাগের বারডেম হাসপাতালে এবং পরে দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্যমতে, শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে মোশাররফ হোসেন মেয়ে তাসমিয়া মারজান শবনমকে সাঁতার শেখানোর জন্য অফিসার্স ক্লাবে যান। মেয়েকে সুইমিংপুলের কাছে রেখে তিনি নির্মাণাধীন ভবনটির ভেতরে প্রবেশ করেন। বেলা সোয়া ১১টার দিকে তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াছিন মিয়া জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে তিনি পথ খুঁজে না পেয়ে বারবার ওপরে-নিচে করছিলেন এবং একপর্যায়ে বেজমেন্ট-১-এর লিফটের ফাঁকা জায়গা থেকে নিচে পড়ে যান।
মোশাররফ হোসেনের বাড়ি মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার পশ্চিম দেওভোগ গ্রামে। তাঁর স্ত্রী ১৫ বছর আগে মারা গেছেন। এরপর থেকেই তিনি দুই মেয়েকে নিয়ে সংসার সামলাতেন। বড় মেয়ে সারিকা আজমির বিন্দু যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত। ছোট মেয়ে তাসমিয়া মারজান শবনম বাবার সঙ্গে বনানীর ৫ নম্বর সড়কের একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন। সেই বাবাই ছিলেন ২৮ বছর বয়সী তাসমিয়ার একমাত্র অবলম্বন। মোশাররফ হোসেনের ভগ্নিপতি জাকির হোসেন জানান, তিনি চোখেও খুব একটা ভালো দেখতেন না। তাসমিয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ শেষ করেছেন এবং তিনি অবিবাহিত। বাবার আকস্মিক মৃত্যুতে তাসমিয়া এখন সম্পূর্ণ দিশাহারা।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় রমনা থানায় অপমৃত্যুর মামলা করেছেন মোশাররফ হোসেনের ভাই মোতাহার হোসেন। স্বজনদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এবং পুলিশের অনুমতি সাপেক্ষে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সোমবার মুন্সিগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে তাঁকে দাফন করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বড় মেয়ে সারিকা আজমিরকে খবর দেওয়া হয়েছে এবং তিনি দেশে ফিরছেন। স্বজনদের ভাষ্যমতে, এই মৃত্যু নিয়ে পরিবারের কোনো সন্দেহ নেই।




























