প্রেমের টানে মাদারীপুরে চীনা যুবক, ধর্মান্তরিত হয়ে বিয়ের ইচ্ছা
- আপডেট সময় : ০৬:৫৩:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

সোশ্যাল অ্যাপে পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রেমের টানে চীন থেকে বাংলাদেশে ছুটে এসেছেন ওয়াং এরলিং নামের এক যুবক। হাজার হাজার মাইল পেরিয়ে তিনি এখন অবস্থান করছেন মাদারীপুরের এক কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীর বাড়িতে। অচেনা দুই তরুণের মাত্র কয়েক মাসের সম্পর্কের জেরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা ঘিরে উৎসুক শত শত মানুষ প্রতিদিন তাকে একনজর দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন।
জানা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার চাপাতলী গ্রামের মোস্তফা বেপারীর মেয়ে হাফিজা আক্তার। তিনি স্থানীয় একটি কলেজে পড়াশোনা করছেন। চার মাস আগে 'ওয়ার্ল্ড টক' (World Talk) অ্যাপের মাধ্যমে চীনের হেনান প্রদেশের বাসিন্দা ওয়াং এরলিংয়ের সঙ্গে হাফিজার পরিচয় হয়। প্রথমে তাদের মধ্যে সাধারণ বন্ধুত্ব থাকলেও নিয়মিত চ্যাটিংয়ের মাধ্যমে তা প্রেমের সম্পর্কে গড়ায়। চীনের একটি ওয়ার্কশপে কর্মরত ওয়াং এরলিং কৃষক মোস্তফা বেপারীর ছয় সন্তান—চার ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে চতুর্থ সন্তান হাফিজাকে বিয়ে করতে বাংলাদেশে আসেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দূরদেশি এই যুবকের আসার খবর ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন হাফিজার বাড়িতে উপস্থিত হয়। মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ছেলেটির পাসপোর্ট ও অন্যান্য নথিপত্র যাচাই-বাছাই করেছে। যুবকটি চীন থেকে এসেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া গেছে। ওসি আরও উল্লেখ করেন, ওই চীনা যুবককে কলেজপড়ুয়া মেয়েটি বিয়ে করবে কি না, সেটি সম্পূর্ণ তাদের পারিবারিক সিদ্ধান্তের বিষয়।
পাসপোর্ট ও অন্যান্য কাগজপত্র সঠিক থাকলে দ্রুতই হাফিজাকে বিয়ে করতে চান ওয়াং এরলিং। এ জন্য প্রয়োজনে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতেও প্রস্তুত। বিয়ে সম্পন্ন করে স্ত্রীকে নিজ দেশে নিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করে চীনা যুবকটি বলেন, "আমার মুসলিম হতে কোনো আপত্তি নেই। আমি আসার আগেই আমার পরিবারের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে এসেছি। বিয়ে করে বউকে সঙ্গেই নিয়ে নিজ দেশে ফিরতে চাই।"
এদিকে দুই পরিবারের তরফ থেকেই বিয়ের ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে হাফিজা আক্তার বলেন, "ওয়াং এরলিংয়ের ছবি দেখে আমার ভালো লাগে। পরে আমাদের মধ্যে প্রেম হয়। পরিবারের সম্মতিতেই আমরা দুজনে বিয়ে করতে চাই। ওয়াং এরলিং আমাকে চীন নিয়ে যেতে চেয়েছে, আমিও সেখানে যেতে আগ্রহী।" অন্যদিকে মেয়েটির বাবা কৃষক মোস্তফা বেপারী বলেন, "আমার মেয়ে যেখানে সুখে থাকবে, আমি সেখানেই ওর বিয়ে দেবো। যা কিছু হবে, সব সামাজিকতা রক্ষা করেই হবে।" প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব কাগজপত্র যাচাই শেষে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে জানা গেছে।
























