এতিমদের অধিকার রক্ষা ও তাদের প্রতি ইসলামের নির্দেশনাবলী
- আপডেট সময় : ০৯:৪৯:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

ইসলামে এতিমদের দায়িত্ব গ্রহণ এবং তাদের অধিকার রক্ষার বিষয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট ও কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দাদা যদি কোনো কারণে তাদের জন্য কোনো দান বা অসিয়ত করে যেতে না পারেন, তবুও এতিমদের বঞ্চিত করার কোনো সুযোগ নেই। সুরা নিসার ৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহতায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন যে, সম্পদ বণ্টনের সময় যদি এতিম ও মিসকিন উপস্থিত হয়, তবে তাদের কিছু প্রদান করতে হবে এবং তাদের সঙ্গে সদালাপ করতে হবে। এটি মুসলিম সমাজের জন্য এতিমদের অধিকার নিশ্চিত করার একটি বড় বার্তা।
এতিমদের ধনসম্পদ সুরক্ষার বিষয়ে ইসলাম অত্যন্ত আপসহীন। পবিত্র কোরআনের সুরা নিসার ২ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, এতিমদের তাদের সম্পদ বুঝিয়ে দাও এবং তাদের ভালো জিনিসের পরিবর্তে তোমাদের খারাপ জিনিস গ্রহণ করো না। এছাড়া তাদের সম্পদ নিজের সম্পদের সঙ্গে মিশিয়ে গ্রাস করাকে মহাপাপ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, যা এতিমদের আর্থিক সুরক্ষায় ইসলামের কঠোর অবস্থানেরই বহিঃপ্রকাশ।
শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়, এতিমদের মানসিক ও সামাজিক বিকাশের প্রতিও ইসলাম সমান গুরুত্ব দেয়। সুরা নিসার ৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহতায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন যে, এতিমরা বিয়ের উপযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত তাদের প্রতি বিশেষ নজর রাখতে হবে। যখন তারা সমঝদার হয়ে উঠবে, তখনই তাদের সম্পদ তাদের বুঝিয়ে দিতে হবে। এটি প্রমাণ করে যে, তাদের বেড়ে ওঠা এবং পরিপক্ব হওয়ার প্রক্রিয়ায় অভিভাবকদের ভূমিকা অপরিহার্য।
নবীজি মুহাম্মদ (সা.) এতিম ও অসহায়দের সাহায্য করার ফজিলত সম্পর্কে অসংখ্য হাদিস বর্ণনা করেছেন। বোখারি শরীফের ৫৩৫৩ নম্বর হাদিসে বলা হয়েছে, বিধবা ও গরিবদের সাহায্যকারী ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারী কিংবা রাতে ইবাদতকারী এবং দিনে রোজাদার ব্যক্তির সমান মর্যাদা পায়। এতিম ও অসহায়দের সেবাকে এমন মহান ইবাদতের সমতুল্য করা হয়েছে, যা তাদের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শনের গুরুত্বকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
ইসলামের এই ব্যাপক নির্দেশনাগুলো যদি মুসলিম সমাজে সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে কোনো অসহায় ব্যক্তিই সমাজে অবহেলিত থাকবে না। বরং একটি সহানুভূতিশীল ও সুসংগঠিত সমাজব্যবস্থা গড়ে উঠবে, যেখানে প্রত্যেকেই একে অপরের সাহায্যে এগিয়ে আসবে।



























