মহাষ্টমী ও কুমারী পূজার আয়োজনে মুখরিত দেশজুড়ে মণ্ডপগুলো
- আপডেট সময় : ০৬:২৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

বোধন, অধিবাস ও আমন্ত্রণ এবং মৃণ্ময়ীতে প্রাণসঞ্চারের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া শারদীয় দুর্গোৎসবের আজ মহাষ্টমী। নতুন পোশাক পরিধান করে নারী-পুরুষসহ সব বয়সী ভক্তরা দেবীকে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণের জন্য মণ্ডপে ভিড় করছেন। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি ও মন্ত্রোচ্চারণে মুখরিত হয়ে উঠেছে প্রতিটি মণ্ডপ। পঞ্জিকা অনুযায়ী, আজ সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটের মধ্যে মহাষ্টমী বিহিত পূজা ও কল্পারম্ভ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর সকাল ৭টা ৫৫ মিনিট থেকে ৮টা ৪৩ মিনিটের মধ্যে সম্পন্ন হবে সন্ধিপূজা।
মহাষ্টমী উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো কুমারী পূজা। শাস্ত্রমতে, এদিন পূজিত কুমারী কন্যাকে দেবীর ষষ্ঠ রূপ 'উমা' হিসেবে গণ্য করা হয়। ভক্তদের কাছে এটি ঈশ্বর আরাধনার পাশাপাশি মানববন্দনা ও নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠার একটি মাধ্যম। এক থেকে ১৬ বছর বয়সী অজাতপুষ্প, সুলক্ষণা ব্রাহ্মণ বা অন্য গোত্রের অবিবাহিত কুমারী নারীকে দেবীজ্ঞানে পূজা করা হয়। রামকৃষ্ণ মিশনের কথামতে, শুদ্ধাত্মা কুমারীর মধ্যে ভগবতীর রূপ অধিক প্রকাশ পায়। বয়সের ক্রমানুসারে কুমারীদের বিভিন্ন নামে ডাকা হয়, যার মধ্যে ছয় বছর বয়সী কন্যাকে বলা হয় 'উমা'। ঢাকার রামকৃষ্ণ মিশনসহ সারা দেশের বিভিন্ন মণ্ডপে আজ সকাল সাড়ে ৯টা থেকে কুমারী পূজার আয়োজন করা হয়েছে।
পুরাণমতে, কোলাসুর নামক অসুর স্বর্গ-মর্ত্য অধিকার করলে দেবগণ মহাকালীর শরণাপন্ন হন। দেবীদের আবেদনে সাড়া দিয়ে দেবী মানবকন্যারূপে জন্মগ্রহণ করে কুমারী বেশে কোলাসুরকে বধ করেন। সেই থেকে মর্ত্যে কুমারী পূজার প্রচলন শুরু হয়।
উৎসবের পরবর্তী সূচি অনুযায়ী, আগামীকাল মহানবমী তিথিতে সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটের মধ্যে মহানবমী বিহিত পূজা ও কল্পারম্ভ অনুষ্ঠিত হবে এবং মণ্ডপে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হবে। সর্বশেষ ২১শে অক্টোবর দশমী তিথিতে দর্পণ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানো হবে। শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এবার মা দুর্গার আগমন ঘোড়ায় হওয়ায় তা সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার ইঙ্গিত বহন করে এবং নৌকায় গমন শস্য বৃদ্ধি ও ভালো ফলনের পাশাপাশি অতিবৃষ্টি বা বন্যার আশঙ্কার কথা নির্দেশ করে।




























