কানাডার সামরিক ঘাঁটিতে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড, নিহত অন্তত ৭
- আপডেট সময় : ০৫:০৬:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে

কানাডার আলবার্টা প্রদেশের ওয়েইনরাইট শহরের কাছে অবস্থিত কানাডিয়ান ফোর্সেস বেস ওয়েইনরাইট নামক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রশিক্ষণ ঘাঁটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল নিউজের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় অন্তত সাতজন নিহত এবং কয়েক ডজন ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তবে কানাডার সামরিক ও সরকারি কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত হতাহতের সঠিক সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে ঘাঁটির প্রশিক্ষণ এলাকায় আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রবল বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং সামরিক স্থাপনার সীমানা পেরিয়ে আশপাশের গ্রামীণ এলাকাতেও পৌঁছে যায়। স্থানীয় সময় বিকেল ৪টার দিকে ঘটনার সূত্রপাত হয় বলে সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। সামরিক বাহিনীর পাশাপাশি বেসামরিক জরুরি সেবাকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় কাজ করেছেন।
কানাডার জাতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডেভিড ম্যাকগিন্টি শনিবার রাতে ঘাঁটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, সাম্প্রতিক সময়ে এমন ঘটনার কথা তার মনে পড়ে না। বিস্ফোরণের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে, তবে পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় এর বিস্তারিত কারণ সম্পর্কে এখনই কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
এদিকে গ্লোবাল নিউজ একাধিক সামরিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, ঘাঁটিতে সরাসরি গোলাবর্ষণ করে প্রশিক্ষণ চালানোর সময় এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। প্রশিক্ষণের একপর্যায়ে গ্যাসের পাইপলাইন অথবা গ্যাসকূপে আঘাত লাগার ফলে আগুন ধরে বিস্ফোরণ ঘটে বলে সূত্রগুলো দাবি করেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, তার দপ্তর এ ঘটনার প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। আলবার্টার মুখ্যমন্ত্রী ড্যানিয়েল স্মিথ ঘটনাটিকে মর্মান্তিক হিসেবে উল্লেখ করে বহু সামরিক সদস্যের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। এছাড়া ন্যাটো সামরিক কমিটির চেয়ারম্যান অ্যাডমিরাল জিউসেপ্পে কাভো দ্রাগোন রবিবার এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন এবং কানাডার পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি জানান, ওয়েইনরাইটে কানাডার সেনাদের পাশাপাশি মিত্রদেশগুলোর সেনারাও প্রশিক্ষণ নেন এবং নিহতরা সম্মিলিত নিরাপত্তার জন্য দায়িত্ব পালন করছিলেন।
কানাডার অন্যতম বৃহৎ এই সামরিক প্রশিক্ষণ ঘাঁটিতে কানাডিয়ান ম্যানুভার ট্রেনিং সেন্টার রয়েছে, যেখানে বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি অনুকরণ করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। নিয়মিত মহড়া চলাকালে এই বিস্ফোরণ হওয়ায় বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ, হতাহতের সংখ্যা এবং নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আপাতত উদ্ধারকাজ, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা এবং আগুনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রধান অগ্রাধিকার।


























