ঢাকা ০২:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নারায়ণগঞ্জের আমলাপাড়ায় ‘মা’ থিমে সেজেছে দুর্গাপূজা মণ্ডপ ধীরে ধীরে মৃত্যু বরণ না করে জীবনকে উপভোগ করার আহ্বান সাংবাদিক আলিফ হত্যার বিচার দাবিতে নাটোরে সাংবাদিকদের মানববন্ধন ওসমানী উদ্যানে ৯০ ফুট উঁচু জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের অসহযোগিতার অভিযোগ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বেড়েছে ডলারের দাম, সোমবারের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ছেন ইশরাক হোসেন শারদীয় দুর্গাপূজায় টানা ৫ দিন বন্ধ ব্যাংক ও শেয়ারবাজার দুর্গাপূজায় টানা ৫ দিন বন্ধ ব্যাংক ও শেয়ারবাজার শারদীয় দুর্গাপূজায় টানা ৫ দিন বন্ধ ব্যাংক ও শেয়ারবাজার

ইয়েমেন যুদ্ধে ইসরায়েলি সহায়তার প্রস্তাব সৌদির জন্য কৌশলগত ফাঁদ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১১:৩৪:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদি আরবকে সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রস্তাবকে সাহায্য হিসেবে না দেখে একটি রাজনৈতিক ও কৌশলগত ফাঁদ হিসেবে দেখার সুযোগ রয়েছে। এই প্রস্তাবের মূল উদ্দেশ্য সৌদি আরবকে সুরক্ষা দেওয়া নয়, বরং উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামোর কেন্দ্রে ইসরায়েলকে অন্তর্ভুক্ত করা, স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনকে ত্বরান্বিত করা এবং সামরিক ও রাজনৈতিক চাপের নতুন পথ তৈরি করা।

কৌশলগত বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের সহায়তার অজুহাতে ইয়েমেন যুদ্ধে জড়ানোর সুযোগ দিলে তা রিয়াদকে কোনো অতিরিক্ত সামরিক শক্তি দেবে না। উল্টো প্রতিপক্ষ হুতি ও তাদের মিত্রদের হাতে বড় সুযোগ তুলে দেবে। তারা তখন প্রচার করার সুযোগ পাবে যে সৌদি আরব স্বাধীনভাবে লড়ছে না, বরং মার্কিন-ইসরায়েলি জোটের অংশ হিসেবে লড়াই করছে। এতে সৌদি আরবের রাজনৈতিক বৈধতা মারাত্মক ক্ষুণ্ন হবে এবং হুতিদের সামরিক বয়ানকে শক্তিশালী করে সংঘাত নতুন মাত্রায় নিয়ে যাবে।

ইয়েমেন ফ্রন্টে ইসরায়েলের নিজস্ব সক্ষমতা নিয়েও বড় ধরনের প্রশ্ন রয়েছে। হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিরোধে তেল আবিব কার্যকর সাফল্য দেখাতে পারেনি। ইয়েমেনের হোদাইদাহ বন্দরে হামলা চালিয়েও তারা লোহিত সাগরের অস্থিতিশীলতা কিংবা এইলাত বন্দরের গভীর সংকট কাটাতে ব্যর্থ হয়েছে। যে দেশ ইয়েমেনি হামলার হাত থেকে নিজেদের ভূখণ্ডই পুরোপুরি রক্ষা করতে পারছে না, তাদের পক্ষে সৌদি আরবকে সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দেওয়া অবাস্তব।

উপসাগরীয় অঞ্চলের বর্তমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় নিরাপত্তা কেবল একটি সামরিক বিষয় নয়, এটি ভবিষ্যতের উন্নয়ন মডেলের মূল ভিত্তি। জ্বালানি খাতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে তেল-পরবর্তী অর্থনৈতিক কাঠামোর দিকে যাওয়ার জন্য সৌদি আরবের প্রয়োজন বিদেশি বিনিয়োগ ও নিরাপদ পরিবেশ। তবে বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি অব্যাহত থাকলে রিয়াদে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়বে। সংঘাতের প্রতিটি অতিরিক্ত দিন স্থিতিশীল দেশ হিসেবে সৌদি আরবের ভাবমূর্তি দুর্বল করছে এবং মানসিক আতঙ্ক তৈরি করে বিনিয়োগ পরিবেশ ব্যাহত করছে।

আঞ্চলিক উত্তেজনার সুযোগ নিয়ে ইসরায়েল নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে। আরব দেশগুলো নিজেদের মধ্যে সংঘাত ও অভ্যন্তরীণ যুদ্ধে জড়িয়ে থাকলে ইসরায়েল গাজা, পশ্চিম তীর, দক্ষিণ লেবানন ও সিরিয়ায় কৌশলগত সুবিধা পায়। তারা ইরান বা হুতিদের একমাত্র শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করে এই বিভাজনকে নিরাপত্তা অংশীদারত্বে রূপ দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে সৌদি আরব যদি কেবল ইয়েমেন বা ইরানকেই অস্তিত্বের একমাত্র হুমকি মনে করে যুদ্ধে মেতে থাকে, তবে তারা ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের তৈরি দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের ফাঁদেই বন্দী থাকবে।

এর অর্থ এই নয় যে হুতি বা ইরানের ভূমিকা প্রশ্নের ঊর্ধ্বে, কিংবা সৌদি আরবের সীমান্ত ও জনগণকে রক্ষা করার অধিকার নেই। তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অর্থ সীমাহীন যুদ্ধে আটকে থাকা বা সহায়তার নামে ইসরায়েলকে সুযোগ করে দেওয়া নয়। প্রকৃত উপসাগরীয় নিরাপত্তা দামি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কিংবা পরিবর্তনশীল মার্কিন প্রতিশ্রুতির ওপর গড়ে ওঠে না। ইয়েমেন ফ্রন্ট বন্ধ করা, গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা চালানো, অনাগ্রাসন চুক্তি করা এবং নৌচলাচল নিরাপদ করাই এখন মূল অগ্রাধিকার।

নেতানিয়াহু ইয়েমেনে শান্তি চান না; তিনি চান দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ, যেন সৌদি আরব অস্ত্র ও সুরক্ষার জন্য সব সময় নির্ভর করে থাকে। মধ্যস্থতার মাধ্যমে অমান ও ইরান ভূমিকা রাখলে রক্তপাত বন্ধ করে ব্যাপক আঞ্চলিক সমঝোতা সম্ভব। সৌদি আরব ইসরায়েলি সহায়তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে সঠিক কাজই করেছে। তবে কেবল প্রত্যাখ্যানই যথেষ্ট নয়; ইয়েমেন অধ্যায় পুরোপুরি বন্ধ করতে এখন একটি সাহসী রাজনৈতিক উদ্যোগ প্রয়োজন, যাতে এই সংঘাত দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে গিলে খেতে না পারে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

ইয়েমেন যুদ্ধে ইসরায়েলি সহায়তার প্রস্তাব সৌদির জন্য কৌশলগত ফাঁদ

আপডেট সময় : ১১:৩৪:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদি আরবকে সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রস্তাবকে সাহায্য হিসেবে না দেখে একটি রাজনৈতিক ও কৌশলগত ফাঁদ হিসেবে দেখার সুযোগ রয়েছে। এই প্রস্তাবের মূল উদ্দেশ্য সৌদি আরবকে সুরক্ষা দেওয়া নয়, বরং উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামোর কেন্দ্রে ইসরায়েলকে অন্তর্ভুক্ত করা, স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনকে ত্বরান্বিত করা এবং সামরিক ও রাজনৈতিক চাপের নতুন পথ তৈরি করা।

কৌশলগত বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের সহায়তার অজুহাতে ইয়েমেন যুদ্ধে জড়ানোর সুযোগ দিলে তা রিয়াদকে কোনো অতিরিক্ত সামরিক শক্তি দেবে না। উল্টো প্রতিপক্ষ হুতি ও তাদের মিত্রদের হাতে বড় সুযোগ তুলে দেবে। তারা তখন প্রচার করার সুযোগ পাবে যে সৌদি আরব স্বাধীনভাবে লড়ছে না, বরং মার্কিন-ইসরায়েলি জোটের অংশ হিসেবে লড়াই করছে। এতে সৌদি আরবের রাজনৈতিক বৈধতা মারাত্মক ক্ষুণ্ন হবে এবং হুতিদের সামরিক বয়ানকে শক্তিশালী করে সংঘাত নতুন মাত্রায় নিয়ে যাবে।

ইয়েমেন ফ্রন্টে ইসরায়েলের নিজস্ব সক্ষমতা নিয়েও বড় ধরনের প্রশ্ন রয়েছে। হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিরোধে তেল আবিব কার্যকর সাফল্য দেখাতে পারেনি। ইয়েমেনের হোদাইদাহ বন্দরে হামলা চালিয়েও তারা লোহিত সাগরের অস্থিতিশীলতা কিংবা এইলাত বন্দরের গভীর সংকট কাটাতে ব্যর্থ হয়েছে। যে দেশ ইয়েমেনি হামলার হাত থেকে নিজেদের ভূখণ্ডই পুরোপুরি রক্ষা করতে পারছে না, তাদের পক্ষে সৌদি আরবকে সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দেওয়া অবাস্তব।

উপসাগরীয় অঞ্চলের বর্তমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় নিরাপত্তা কেবল একটি সামরিক বিষয় নয়, এটি ভবিষ্যতের উন্নয়ন মডেলের মূল ভিত্তি। জ্বালানি খাতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে তেল-পরবর্তী অর্থনৈতিক কাঠামোর দিকে যাওয়ার জন্য সৌদি আরবের প্রয়োজন বিদেশি বিনিয়োগ ও নিরাপদ পরিবেশ। তবে বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি অব্যাহত থাকলে রিয়াদে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়বে। সংঘাতের প্রতিটি অতিরিক্ত দিন স্থিতিশীল দেশ হিসেবে সৌদি আরবের ভাবমূর্তি দুর্বল করছে এবং মানসিক আতঙ্ক তৈরি করে বিনিয়োগ পরিবেশ ব্যাহত করছে।

আঞ্চলিক উত্তেজনার সুযোগ নিয়ে ইসরায়েল নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে। আরব দেশগুলো নিজেদের মধ্যে সংঘাত ও অভ্যন্তরীণ যুদ্ধে জড়িয়ে থাকলে ইসরায়েল গাজা, পশ্চিম তীর, দক্ষিণ লেবানন ও সিরিয়ায় কৌশলগত সুবিধা পায়। তারা ইরান বা হুতিদের একমাত্র শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করে এই বিভাজনকে নিরাপত্তা অংশীদারত্বে রূপ দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে সৌদি আরব যদি কেবল ইয়েমেন বা ইরানকেই অস্তিত্বের একমাত্র হুমকি মনে করে যুদ্ধে মেতে থাকে, তবে তারা ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের তৈরি দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের ফাঁদেই বন্দী থাকবে।

এর অর্থ এই নয় যে হুতি বা ইরানের ভূমিকা প্রশ্নের ঊর্ধ্বে, কিংবা সৌদি আরবের সীমান্ত ও জনগণকে রক্ষা করার অধিকার নেই। তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অর্থ সীমাহীন যুদ্ধে আটকে থাকা বা সহায়তার নামে ইসরায়েলকে সুযোগ করে দেওয়া নয়। প্রকৃত উপসাগরীয় নিরাপত্তা দামি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কিংবা পরিবর্তনশীল মার্কিন প্রতিশ্রুতির ওপর গড়ে ওঠে না। ইয়েমেন ফ্রন্ট বন্ধ করা, গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা চালানো, অনাগ্রাসন চুক্তি করা এবং নৌচলাচল নিরাপদ করাই এখন মূল অগ্রাধিকার।

নেতানিয়াহু ইয়েমেনে শান্তি চান না; তিনি চান দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ, যেন সৌদি আরব অস্ত্র ও সুরক্ষার জন্য সব সময় নির্ভর করে থাকে। মধ্যস্থতার মাধ্যমে অমান ও ইরান ভূমিকা রাখলে রক্তপাত বন্ধ করে ব্যাপক আঞ্চলিক সমঝোতা সম্ভব। সৌদি আরব ইসরায়েলি সহায়তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে সঠিক কাজই করেছে। তবে কেবল প্রত্যাখ্যানই যথেষ্ট নয়; ইয়েমেন অধ্যায় পুরোপুরি বন্ধ করতে এখন একটি সাহসী রাজনৈতিক উদ্যোগ প্রয়োজন, যাতে এই সংঘাত দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে গিলে খেতে না পারে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo