প্যারোলে মুক্তি পেয়ে স্বামীর দাফনে অংশ নিলেন দীপু মনি
- আপডেট সময় : ১২:৪৭:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী দীপু মনির স্বামী এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তৌফীক নাওয়াজ। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বেলা পৌনে ৩টার দিকে বৃষ্টির মধ্যে বাবা আমিনর রহমানের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়। এই কবরস্থানের পাশেই রয়েছে তার মা খায়রন নেছার কবর। স্বামীর শেষ বিদায়ে অংশ নিতে ১২ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পেয়ে কবরস্থানে উপস্থিত ছিলেন কারাবন্দি দীপু মনি। তাদের মেয়ে দ্বীপান্বিতা নাওয়াজ বাবার কবরে মাটি দেন। দাফন প্রক্রিয়া শেষে বনানী গোরস্তান মসজিদের ইমাম মাওলানা ওমর ফারুকের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মোনাজাতে পরিবারের সদস্যরা ও উপস্থিত সকলে অংশ নেন।
মোনাজাত শেষ করে স্বামীর আত্মার শান্তির জন্য সবার কাছে দোয়া চান দীপু মনি। এ সময় পুরো দাফন কার্যক্রমকে ঘিরে ঢাকা মহানগর পুলিশ ও কারাগারের নিরাপত্তাকর্মীরা কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলেন। স্বামীর দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর দীপু মনি একই কবরস্থানে থাকা তার বাবা এবং আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এম এ ওয়াদুদের কবর জিয়ারত করেন। বাবার কবর জিয়ারত শেষ করে বৃষ্টির মধ্যেই তাকে আবার প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় দীপু মনির প্যারোলের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকায় এর আগেই তাকে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
এর আগে, স্বামীর জানাজা ও দাফনে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে সকালে মুন্সীগঞ্জ কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্তি পান দীপু মনি। সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে কঠোর পুলিশি পাহারায় প্রিজন ভ্যানে করে তাকে ঢাকার উদ্দেশে নিয়ে আসা হয় এবং সোয়া ৮টার দিকে তিনি কলাবাগানের বাসভবনে পৌঁছান। তৌফীক নাওয়াজের মরদেহও সকালে কলাবাগানের বাসায় আনা হয়েছিল এবং ভবনের গ্যারেজের নিচে ফ্রিজার ভ্যানে রাখা হয়েছিল। ওই সময় স্থানীয় বশির উদ্দিন রোড মসজিদের মুয়াজ্জিনসহ পাঁচজন ব্যক্তি মরদেহের পাশে বসে কোরআন তেলাওয়াত করেন। বাড়িটির চারপাশ ঘিরে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে ছিল এবং সেখানে যাতায়াতকারী ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। স্বজনরা জানান, স্বামীকে হারিয়ে দীপু মনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এবং সকাল থেকে কোনো খাবার গ্রহণ করতে চাননি।
বেলা সোয়া ১২টার পর তৌফীক নাওয়াজের মরদেহবাহী ফ্রিজার ভ্যানটি গুলশানের আজাদ মসজিদের উদ্দেশে রওনা দেয় এবং এর পরপরই দীপু মনিকেও প্রিজন ভ্যানে করে সেখানে নেওয়া হয়। বাদ জোহর আজাদ মসজিদে তৌফীক নাওয়াজের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার পুরো সময় দীপু মনি প্রিজন ভ্যানেই অবস্থান করছিলেন। নামাজ শেষ হওয়ার পর তিনি ভ্যান থেকে নেমে শেষবারের মতো স্বামীর মুখ দেখেন, যা সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে। জানাজা পরিচালনা করেন আজাদ মসজিদের প্রধান ইমাম মাওলানা আবদুর রহিম। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন তৌফীক নাওয়াজের ছোট ভাই তাইমুর নাওয়াজ।
জানাজায় মরহুমের পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের পাশাপাশি তৌফীক নাওয়াজের বন্ধু, সহকর্মী ও সাবেক সহপাঠীরা অংশ নেন। উপস্থিতদের মধ্যে ছিলেন আইনজীবী মহসীন রশিদ, মনিরুল আলম ও সৈয়দ আশরাফুল হক। এছাড়া আওয়ামী লীগের তুলনামূলক কম পরিচিত কয়েকজন নেতাকর্মীকেও সেখানে দেখা যায়। জানাজা শেষে আজাদ মসজিদের সামনের সড়কে স্লোগান দেওয়ার সময় একজনকে আটক করে পুলিশ।
তৌফীক নাওয়াজ গত মঙ্গলবার রাতে ঢাকার কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে (সাবেক ইউনাইটেড হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনি ও লিভারের বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন এবং ২০১৯ সালে স্ট্রোক করেছিলেন। পেশাগত জীবনে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তৌফীক নাওয়াজ ধ্রুপদি সংগীতের চর্চাও করতেন। সর্বশেষ গত ২৭ মে হুইলচেয়ারে করে কারাবন্দি স্ত্রী দীপু মনিকে দেখতে আদালতে এসেছিলেন তিনি। দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর দীপু মনিকে বহনকারী প্রিজন ভ্যানটি মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারের উদ্দেশে রওনা হয়েছে।




























