ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা: শেখ হাসিনার সামনে কী পথ খোলা?
- আপডেট সময় : ০২:৫৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতা থেকে বিদায় নেওয়ার পর থেকেই ভারতে অবস্থান করছেন। সম্প্রতি দিল্লির এক সংবাদ সম্মেলন থেকে তিনি ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। তার এই ঘোষণা এবং এ সংক্রান্ত কূটনৈতিক তৎপরতা বর্তমানে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
বিশেষ করে তার এই সংবাদ সম্মেলনের পর ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং পরবর্তীতে দিল্লি গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
এই দ্রুত কূটনৈতিক তৎপরতা দুই দেশের মধ্যে এক ধরনের টানটান পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়। বাংলাদেশে বৈঠক শেষে দিনেশ ত্রিবেদীকে ঠিক কী কারণে দিল্লি ছুটে যেতে হলো, তা অবশ্য পরিষ্কার নয়। তবে দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে হঠাৎ এই যে এক ধরণের টানটান পরিস্থিতি, তার পেছনে দিল্লির প্রেস ব্রিফিংয়েরও যে একটা ভূমিকা আছে, সেটা স্পষ্ট। কারণ ঐ ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী কথা বলেন।
শেখ হাসিনার ঢাকায় ফেরার ক্ষেত্রে দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। একটি হচ্ছে, তার কাছে বৈধ কোনো পাসপোর্ট নেই। বাংলাদেশ সরকার তার পাসপোর্ট বাতিল করেছে। ফলে পাসপোর্ট ছাড়া তিনি কীভাবে ফিরবেন, সেটা একটা প্রশ্ন। তবে তার দেশে ফেরার ক্ষেত্রে এ দুটি বিষয়ও সরাসরি সেভাবে বাধা নয়। মূল বিষয় হচ্ছে, আগামী ডিসেম্বরে তিনি সত্যিই দেশে ফেরার চেষ্টা করবেন কি-না এবং তখন বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশে ফিরতে দেবে কি-না?
বাংলাদেশ অবশ্য শেখ হাসিনার বিষয়ে আগেই তার অবস্থান পরিষ্কার করেছে। দেশটি শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠিও পাঠিয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশ সরকার তাকে ফেরত চায়। কিন্তু তার ফেরার কী সুযোগ আছে? এখানেও দুটি পথ স্পষ্ট।
একটি হচ্ছে, তিনি ‘নিজের সিদ্ধান্তে নিজের পছন্দমতো সময়ে’ ভারতের সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেন। তবে এটার জন্য তার দরকার হবে বৈধ পাসপোর্ট। পাসপোর্ট না থাকলে উপায় হচ্ছে, ট্রাভেল ডকুমেন্ট সংগ্রহ করে সীমান্ত পার হওয়া। সাবেক কূটনীতিক ও বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের সভাপতি এম হুমায়ুন কবীর এ বিষয়ে বলেন, তিনি তো বাংলাদেশের নাগরিক। নিজ দেশে ফেরত আসতে চাইলে সেটা তার অধিকার।
একইসঙ্গে পাসপোর্ট পাওয়াও তার অধিকার। তার যদি ভ্যালিড পাসপোর্ট থাকে, তিনি সেটা ব্যবহার করতে পারবেন। না থাকলে তিনি বাংলাদেশ সরকারের কাছে ট্রাভেল পারমিটের জন্য আবেদন করতে পারবেন। সে আবেদনের ভিত্তিতে সরকার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সরকারের সিদ্ধান্ত যদি ইতিবাচক হয় তাহলে তিনি পারমিট নিয়ে বাংলাদেশে আসতে পারেন।
তবে শেষ পর্যন্ত যদি শেখ হাসিনা নিজে ফিরে না আসেন তাহলে আরেকটি উপায় হচ্ছে, তার প্রত্যর্পণ। অর্থাৎ ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ‘প্রত্যর্পণযোগ্য অপরাধের মামলা’য় অভিযুক্ত বা ফেরার আসামি ও বন্দিদের একে অপরের কাছে হস্তান্তরের জন্য যে চুক্তি আছে সেই চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়া।
তবে চুক্তিতে নানা ফাঁক-ফোকড় আছে। ফলে চাইলেই যে সেই আইন অনুযায়ী প্রত্যর্পণ হবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই, বাধ্যবাধকতাও নেই। তাছাড়া বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক অনুরোধের দুই বছর পরও যখন এই প্রক্রিয়ার কোনো অগ্রগতি হয়নি, তখন সেটা অদূর ভবিষ্যতে আদৌ সম্ভব কি-না তা নিয়ে সন্দেহ করার যথেষ্ট কারণ আছে।
তবে শেখ হাসিনা যেখানে নিজেই ফিরতে চান, সেখানে প্রত্যর্পণ আইন প্রয়োগের প্রয়োজন দেখছেন না জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন এলিনা খান। তিনি বলেন, উনি কিন্তু অলরেডি ভারত সরকারের তত্ত্বাবধানেই অবস্থান করছেন। এটাকে আমরা জেল কাস্টোডি মনে করছি না।
এখানে উনি নিজেই প্রত্যাবর্তনের সদিচ্ছা পোষণ করেছেন যে, উনি আসতে চান। বাংলাদেশ সরকারও বলছে, উনি আসুক, তাকে ফেরত পাঠানো হোক। এলিনা খান বলেন, তাহলে সেখানে ভারতের কোনো চুক্তি বা এ ধরনের কোনো সমস্যা আছে বলি মনে করছি না।
কারণ শেখ হাসিনা যদি বলতেন যে, আমি যাবো না, তাহলে একটা প্রশ্ন আসতো যে, ওই আইন অনুযায়ী তাকে পাঠানো হোক। কিন্তু উনিও আসতে চাচ্ছেন, এখানে সরকারও তাকে চাচ্ছে। সুতরাং উনার আসতে কোনো বাধা আছে বলে আমি মনে করি না। এটা নির্ভর করছে, তিনি কীভাবে ফেরেন তার ওপর। তবে বাংলাদেশের বাস্তবতায় নেগোসিয়েশনের পরিস্থিতি সেভাবে দেখা যাচ্ছে না বলেই মনে করা হচ্ছে। ফলে যদি ‘নেগোসিয়েশন ছাড়াই’ তিনি ফেরেন, তাহলে সেক্ষেত্রে তাকে ফিরেই আত্মসমর্পণ করতে হবে অথবা গ্রেফতার হতে হবে।




























