সংস্কার ও নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে সরকারের তীব্র সমালোচনা আসিফ মাহমুদের
- আপডেট সময় : ০৬:০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

নির্বাচনের পর সব সমস্যার সমাধান হবে—দীর্ঘদিন ধরে এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে আয়োজিত এক গণসমাবেশে তিনি বর্তমান সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার ক্ষমতায় আসার পাঁচ-ছয় মাস পার হলেও দেশে কোনো সংস্কার হয়নি, গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট কাটেনি এবং সাধারণ মানুষের পেটে ভাত নেই।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, চাঁদাবাজি, দখলদারত্ব এবং বিরোধীদের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধের দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। আসিফ মাহমুদ বলেন, নির্বাচনের আগে ফ্যামিলি কার্ডসহ নানা সুবিধা আর পেটে ভাতের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে জনগণের কাছে কোনো কিছুই সহজলভ্য নয়।
চাঁদাবাজির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে চাঁদাবাজির বিভিন্ন কৌশলের কথা শোনা যাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, অনেক ক্ষেত্রে জমিতে গরু-মহিষ চরাতে গেলেও ছাত্রদলকে চাঁদা দিতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি বছরে এক কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু ছয় মাসের আগেই ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির চাঁদাবাজির মাধ্যমে ৫০ লাখ কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয়ে গেছে। তিনি মন্তব্য করেন, এই চাঁদাবাজি দিয়ে তাদের পরিবার চলছে, কিন্তু সাধারণ মানুষ জাহান্নামে যাচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, বিএনপি আগের ব্যবস্থার মধ্যেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করছে যেখানে ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকবে। সরকারি দলের ২১৩ জন সংসদ সদস্য দলের নির্ধারিত প্রার্থীর বাইরে ভোট দিতে পারবেন না, দিলে তাদের সংসদ সদস্য পদ থাকবে না—এটি একটি আইওয়াশ মাত্র। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ছয় মাস পার হলেও এখনো কোনো তারিখ পাওয়া যায়নি। জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় অনুযায়ী সংস্কারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ আশা করা যেত।
বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিএনপি ১৭ বছর ধরে গণতন্ত্র ও সংস্কারের কথা বলে রাজনীতি করছে, অথচ তাদের নিয়োগ দেওয়া প্রশাসকরা সরকারি ও সিটি করপোরেশনের টাকায় নিজেদের নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, যাদের প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া উচিত নয়। এছাড়া, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি ফিরলে তার সঠিক বিচার নিশ্চিত করার জন্য তারা প্রস্তুত আছেন।




























