সাংবাদিকদের নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র দেওয়া বাধ্যতামূলক: প্রেস কাউন্সিল
- আপডেট সময় : ১২:১৫:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সাংবাদিকদের নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সচিব (যুগ্মসচিব) মো. আবদুস সবুর। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকরা কোনো বাধা বা আইনি জটিলতার সম্মুখীন হলে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল তাদের পাশে থাকবে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, কোনো সাংবাদিক ব্যক্তিগতভাবে ফৌজদারি অপরাধে জড়ালে তার দায়ভার প্রেস কাউন্সিল বা কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান গ্রহণ করবে না।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে যশোর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব ও অধিকার বিষয়ক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের উদ্যোগে এবং যশোর জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আয়োজিত এই কর্মশালায় যশোরের বিভিন্ন উপজেলার ৪৫ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের মধ্যে বাংলাভিশনের জেলা প্রতিনিধি রাজেক জাহাঙ্গীর (২৪), দৈনিক গ্রামের কাগজের সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার ফয়সল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার এসএম আরিফুজ্জামান ও স্বপ্না দেবনাথ, নতুন সকালের বার্তার স্টাফ রিপোর্টার তরিকুল ইসলাম তারেক, দৈনিক লোকসমাজের ফটো সাংবাদিক এম আর খান মিলন (৭১), স্টাফ রিপোর্টার মাসুদ রানা বাবুসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আবদুস সবুর বলেন, সাংবাদিকদের শ্রমিক হিসেবে বিবেচনা করে তাদের নিয়োগপত্র প্রদান করা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। পরিচয়পত্র থাকলে পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের আইনগত অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়। তথ্য সংগ্রহের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে তথ্য সংগ্রহের সময় সাংবাদিককে প্রথমেই নিজের পরিচয়পত্র দেখাতে হবে এবং প্রয়োজনীয় তথ্যের বিষয়বস্তু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জানাতে হবে। তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী কোনো তথ্য পাওয়া সম্ভব না হলে তার কারণও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে জানাতে হবে। তিনি আরও বলেন, কেবল তথ্য না পেলেই সংবাদ করা বা অভিযোগ তোলা সমীচীন নয়, বরং আইনের বিধানগুলো আগে জানা জরুরি।
প্রশাসন ও সাংবাদিকদের সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রশাসন সাংবাদিকদের প্রতিপক্ষ নয়; উভয় পক্ষই জনগণের সেবার জন্য কাজ করে। তাই কাজের মধ্যে সমন্বয় থাকা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, কোনো সাংবাদিক দুর্নীতি বা আইনবিরোধী কর্মকাণ্ড দেখতে পেলে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারেন। কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা না নিলে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিষয়টি সামনে আনা যেতে পারে। কপি-পেস্ট সাংবাদিকতার সমালোচনা করে তিনি সাংবাদিকদের নিজস্ব মেধা ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে সংবাদ তৈরির আহ্বান জানান।
প্রশিক্ষণে সংবাদপত্র প্রকাশের আইনি প্রক্রিয়া নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। সচিব জানান, ১৯৭৩ সালের ‘ছাপাখানা ও প্রকাশনা (ঘোষণা ও নিবন্ধীকরণ) আইন’ অনুযায়ী মুদ্রাকর ও প্রকাশকের ঘোষণাপত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ঘোষণাপত্র প্রামাণীকরণে অস্বীকৃতি জানালে বা ৬০ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে প্রেস আপিল বোর্ডে আবেদনের সুযোগ রয়েছে।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুজন সরকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা তথ্য অফিসের সিনিয়র তথ্য অফিসার রেজাউল করিম, তথ্য অফিসার এলিন সাঈদ এবং প্রেসক্লাব যশোরের নেতৃবৃন্দসহ অন্যান্য সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। দিনব্যাপী এই কর্মশালায় সাংবাদিকতার মান উন্নয়ন, তথ্য অধিকার আইন, পেশাগত দায়িত্ব এবং কপি-পেস্ট সাংবাদিকতা পরিহারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।


























