আ.লীগ ও শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দাফন হয়েছে: সালাহউদ্দিন আহমদ

- আপডেট সময় : ০৪:২০:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, শেখ হাসিনা ভারতে বসে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি, গণতন্ত্র এবং এ দেশের মানুষের বিরুদ্ধে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য যে বয়ান দিয়ে যাচ্ছেন, তার দায় ভারত এড়াতে পারে না। শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ‘ফ্যাসিস্ট সরকার পতনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দল ও ইউট্যাবের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছিল।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা আগেই বলেছি আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দাফন হয়েছে। দিল্লিতে বসে তিনি যে রাজনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছেন, তা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিপন্থী। তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, আইসিটি কোর্ট তাকে দণ্ডিত করেছে এবং তার বিরুদ্ধে ফাঁসির রায়সহ আরও মামলা চলমান। এমন একজন দণ্ডিত অপরাধীকে ভারতে বসে বিশ্বমিডিয়ার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়াকে সমর্থন করা যায় না বলে তিনি মন্তব্য করেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এর প্রতিবাদ জানানো হয়েছে এবং তারা নিজেরাও এর প্রতিবাদ করছেন বলে জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, শেখ হাসিনার কোনো অনুশোচনা নেই এবং তিনি বাংলাদেশের মানুষের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেননি। উল্টো তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে জঙ্গিবাদী তৎপরতা হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুযায়ী এ আন্দোলনে ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, যেখানে শিশু ও নারীও ছিল। আকাশ থেকে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে গুলি করে মানুষ হত্যার পর তাকে গণতান্ত্রিক নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া যায় কি না, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, আমরা ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাই এবং দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরশীলতা রয়েছে। তবে বাংলাদেশের স্বার্থ ও পারস্পরিক মর্যাদা সমুন্নত রেখেই এই সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, আমরা কখনো আওয়ামী লীগ হতে পারব না।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এটি কেবল ৩৬ দিনের আন্দোলনের ফসল নয়, বরং ১৭ বছরের ধারাবাহিক গণতান্ত্রিক আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতি। তিনি শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। রাষ্ট্র সংস্কারের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ১০ বছরের বেশি না রাখা, সংসদ সদস্যদের স্বাধীন ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং আপার ও লোয়ার হাউসের মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ চেক অ্যান্ড ব্যালান্স পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্বকে বিচ্ছিন্ন করে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের চেষ্টা করছেন, তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বাংলাদেশে আর ‘চেতনা বিক্রির রাজনীতি’ চলবে না। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আরও বলেন, যারা শেখ হাসিনার আমল ভালো ছিল বলে প্রচার করছেন, তাদের বিষয়টি ভেবে দেখা দরকার।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আমরা চেতনা বিক্রির রাজনীতি বহুবার দেখেছি। ১৯৭১-এর চেতনা বিক্রির রাজনীতি বাংলাদেশে মারাত্মকভাবে ফেল করেছে। আমরা ভবিষ্যতে চেতনা বিক্রির রাজনীতি করতে চাই না। যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্বকে বিচ্ছিন্ন করতে চায় এবং তার ওপর ভিত্তি করে রাজনৈতিক দল গঠন বা রাজনীতি করতে চায়, তাদের কাছে আমার বক্তব্য—বাংলাদেশে আর চেতনা বিক্রির রাজনীতি চলবে না।


























