বড় সংস্কারের পাশাপাশি ছোট সংস্কারেও নজর দেওয়ার আহ্বান হোসেন জিল্লুরের

- আপডেট সময় : ০৪:০৮:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান বলেছেন, বড় সংস্কারের পাশাপাশি ছোট ছোট প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রক্রিয়াগত সংস্কারের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি ছোট সংস্কারের দিকে মনোযোগ না দেওয়া হয়, তবে বড় সংস্কারগুলো কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থেকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় পিপিআরসি আয়োজিত ‘অভ্যুত্থান–উত্তর বাংলাদেশে তারুণ্যের বহুমুখী সম্ভাবনা’ শীর্ষক এক অনলাইন আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। হোসেন জিল্লুর রহমান উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের প্রশাসন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এখনো ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রব্যবস্থার নানা প্রবণতা, সংস্কৃতি ও ক্ষমতার ধরন বিদ্যমান। এগুলো পরিবর্তনের জন্য সংবিধান বা রাষ্ট্রকাঠামোর বড় সংস্কারের পাশাপাশি অসংখ্য ছোট ও প্রক্রিয়াগত সংস্কার প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের জন্য শুধু রাজনৈতিক বা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সংস্কার যথেষ্ট নয়; বরং মাঠপর্যায়, কমিউনিটি ও রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক পরিসরেও সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। শিক্ষার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, শুধু একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করলেই শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে না। এর জন্য শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং শিক্ষার মান নিশ্চিত করার পরিবেশ তৈরির মতো সুনির্দিষ্ট পরিবর্তনের দিকে তাকাতে হবে। স্বাস্থ্য খাতের ক্ষেত্রেও তিনি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তরুণদের সক্রিয়তার প্রশংসা করে হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, পরিবর্তনের জন্য তরুণদের শক্তি একটি বড় সম্পদ, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত ‘সিস্টেম চেঞ্জ’ বা ব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য তাদের শক্তির পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যায়ের সম্মিলিত শক্তি ও ইতিবাচক বন্ধন প্রয়োজন। তিনি পরিবর্তনের প্রক্রিয়াকে ঢাকা বা এলিট পরিসরের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বিকেন্দ্রীকরণের ওপর জোর দেন। প্রযুক্তি ব্যবহার, রাজনৈতিক নেতৃত্ব তৈরি কিংবা প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিকেন্দ্রীকরণ জরুরি বলে তিনি মনে করেন।
ব্যক্তিগত আচরণের পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পরিবর্তনের শেষ বিচারে প্রশ্ন হলো—আমরা নিজেরা পরিবর্তিত হচ্ছি কি না এবং আমাদের আচরণ ও মূল্যবোধের উন্নয়ন হচ্ছে কি না। জুলাইয়ের আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী বাংলাদেশকে মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক এবং মেধার বিকাশের উপযোগী দেশ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
প্যানেল আলোচনায় অলটারনেটিভসের ন্যাশনাল অর্গানাইজিং কমিটির সংগঠক তাজনূভা জাবীন বলেন, অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাষ্ট্র পুনর্গঠনে বিভিন্ন পেশার তরুণদের অংশগ্রহণ প্রয়োজন এবং রাজনীতিতে নারীদের সুযোগ তৈরি করা জরুরি। আলোচনায় আরও অংশ নেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম এম খালিকুজ্জামান, বেঙ্গল ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্টের সহপ্রতিষ্ঠাতা মুনীম মোবাশ্বের, কৃষি উদ্যোক্তা উম্মে কুলসুম পপি, শিক্ষার্থী ডাও সিং নু মারমা এবং ফসল ডটকমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাকিব হোসাইন।


























