ঢাকা ০২:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফিফা সভাপতির চ্যালেঞ্জার হতে পারেন নরওয়ের লিসে ক্লাভেনেস অনুমতি ছাড়া ছবি তোলা ও ছড়ানো কি আইনত অপরাধ? আসামের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০০ পরিবারের ঘর তৈরি করছেন সালমান খান ইয়াশের ‘টক্সিক’ ট্রেলার: সঙ্গে কিয়ারা-নয়নতারা ও অ্যাকশনের নতুন জগৎ সালমান শাহের সঙ্গে প্রথম কাজের স্মৃতিচারণ করলেন তুষার খান দক্ষিণ সুদান ও আবেই সফরে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান স্বাভাবিক হচ্ছে গ্যাস সরবরাহ, সিএনজি স্টেশনে কমছে ভোগান্তি জ্বর নিয়েই শুটিংয়ে অবিকা, শেষ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি কে হচ্ছেন দেশের ২৩তম প্রেসিডেন্ট, সিদ্ধান্ত কেবল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সিরাজুল ইসলাম আপসহীন ছিলেন: মির্জা ফখরুল

সংসদীয় বিধি ও চর্চা লঙ্ঘনের অভিযোগ টিআইবির

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০২:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে আইন প্রণয়ন এবং সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠনের প্রক্রিয়ায় কার্যপ্রণালি বিধি ও দীর্ঘদিনের সংসদীয় চর্চা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে দাবি করেন, সরকারি দল সংখ্যাগরিষ্ঠতার একচ্ছত্র ব্যবহারের মাধ্যমে সংসদের জবাবদিহি ও কার্যকারিতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

টিআইবির অভিযোগ অনুযায়ী, কার্যপ্রণালির ৭৭ বিধি অনুযায়ী কোনো বিল উত্থাপনের পর সেটি স্থায়ী বা বাছাই কমিটিতে পাঠানো কিংবা জনমত যাচাইয়ের সুযোগ থাকলেও ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’-এর ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে জনমত যাচাই বা বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাবগুলোও আমলে নেওয়া হয়নি, এমনকি সংশোধনী প্রস্তাব দেওয়ার সুযোগও ছিল না। এছাড়া, রেওয়াজ অনুযায়ী বিল উত্থাপনের অন্তত তিন দিন আগে অনুলিপি সরবরাহের নিয়ম থাকলেও এই বিলের অনুলিপি সদস্যদের হাতে দেওয়া হয়েছে ঠিক উত্থাপনের আগমুহূর্তে, যা পর্যালোচনার কোনো সুযোগ রাখেনি।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ এবং ‘পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই সম্পূরক কার্যসূচির মাধ্যমে উত্থাপন করা হয়েছে। বিরোধী দলের আপত্তি উপেক্ষা করে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে এ ধরনের আইন পাসের ঘটনা বর্তমান সংসদ ও কর্তৃত্ববাদী আমলের সংসদের মধ্যে পার্থক্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বলে ইফতেখারুজ্জামান মন্তব্য করেন।

সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে কার্যপ্রণালি বিধির ১৮৮ অনুচ্ছেদ লঙ্ঘনের অভিযোগও এনেছে টিআইবি। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক বলেন, স্বার্থের সংঘাতে বিতর্কিত পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীকে অর্থ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয়েছে। তিনি মনে করেন, মন্ত্রিসভার সদস্য হয়ে অন্য মন্ত্রণালয়ের ওপর কার্যকর নজরদারি করা সম্ভব নয়, যা সংসদীয় কমিটির মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত করে। নব্বই-পরবর্তী কোনো সংসদে এমন নজির নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

জুলাই জাতীয় সনদের অঙ্গীকারের প্রসঙ্গ টেনে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিভিন্ন সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদ বিরোধী দলের সদস্যদের দেওয়ার বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছিল। অনুপাত অনুযায়ী ২৬ শতাংশ কমিটির সভাপতি বিরোধী দলের হওয়ার কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। তিনি বিতর্কিত কমিটিগুলো পুনর্গঠন এবং সংবিধানের ৭৮(৫) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদীয় কমিটির ক্ষমতা বাড়াতে অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে দ্রুত নতুন আইন প্রণয়নের আহ্বান জানান।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

সংসদীয় বিধি ও চর্চা লঙ্ঘনের অভিযোগ টিআইবির

আপডেট সময় : ১০:০২:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
print news

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে আইন প্রণয়ন এবং সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠনের প্রক্রিয়ায় কার্যপ্রণালি বিধি ও দীর্ঘদিনের সংসদীয় চর্চা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে দাবি করেন, সরকারি দল সংখ্যাগরিষ্ঠতার একচ্ছত্র ব্যবহারের মাধ্যমে সংসদের জবাবদিহি ও কার্যকারিতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

টিআইবির অভিযোগ অনুযায়ী, কার্যপ্রণালির ৭৭ বিধি অনুযায়ী কোনো বিল উত্থাপনের পর সেটি স্থায়ী বা বাছাই কমিটিতে পাঠানো কিংবা জনমত যাচাইয়ের সুযোগ থাকলেও ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’-এর ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে জনমত যাচাই বা বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাবগুলোও আমলে নেওয়া হয়নি, এমনকি সংশোধনী প্রস্তাব দেওয়ার সুযোগও ছিল না। এছাড়া, রেওয়াজ অনুযায়ী বিল উত্থাপনের অন্তত তিন দিন আগে অনুলিপি সরবরাহের নিয়ম থাকলেও এই বিলের অনুলিপি সদস্যদের হাতে দেওয়া হয়েছে ঠিক উত্থাপনের আগমুহূর্তে, যা পর্যালোচনার কোনো সুযোগ রাখেনি।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ এবং ‘পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই সম্পূরক কার্যসূচির মাধ্যমে উত্থাপন করা হয়েছে। বিরোধী দলের আপত্তি উপেক্ষা করে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে এ ধরনের আইন পাসের ঘটনা বর্তমান সংসদ ও কর্তৃত্ববাদী আমলের সংসদের মধ্যে পার্থক্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বলে ইফতেখারুজ্জামান মন্তব্য করেন।

সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে কার্যপ্রণালি বিধির ১৮৮ অনুচ্ছেদ লঙ্ঘনের অভিযোগও এনেছে টিআইবি। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক বলেন, স্বার্থের সংঘাতে বিতর্কিত পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীকে অর্থ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয়েছে। তিনি মনে করেন, মন্ত্রিসভার সদস্য হয়ে অন্য মন্ত্রণালয়ের ওপর কার্যকর নজরদারি করা সম্ভব নয়, যা সংসদীয় কমিটির মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত করে। নব্বই-পরবর্তী কোনো সংসদে এমন নজির নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

জুলাই জাতীয় সনদের অঙ্গীকারের প্রসঙ্গ টেনে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিভিন্ন সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদ বিরোধী দলের সদস্যদের দেওয়ার বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছিল। অনুপাত অনুযায়ী ২৬ শতাংশ কমিটির সভাপতি বিরোধী দলের হওয়ার কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। তিনি বিতর্কিত কমিটিগুলো পুনর্গঠন এবং সংবিধানের ৭৮(৫) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদীয় কমিটির ক্ষমতা বাড়াতে অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে দ্রুত নতুন আইন প্রণয়নের আহ্বান জানান।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo