ঢাকা ১১:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্থানীয় সরকার শক্তিশালী হলেই রাষ্ট্র ও গণতন্ত্র মজবুত হবে: মির্জা ফখরুল সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুতিদের নৌ-অবরোধের তীব্র নিন্দা জানাল বাংলাদেশ ২০২৭ সালের জুনে শুরু হতে পারে নিকোলাস মাদুরোর বিচার ঝিনাইদহে আকস্মিক স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে ক্লাস নিলেন ইউএনও ময়মনসিংহে দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে মিলল নিখোঁজ যুবকের মরদেহ খুলনার বটিয়াঘাটায় পরিত্যক্ত ঘরে মিলল যুবকের গলাকাটা মরদেহ জমি দখল ও চাঁদা দাবির অভিযোগে এনসিপি নেতা কাফির বিরুদ্ধে মামলা ঝিনাইদহে বিজয় দিবসের আগেই বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুরের নতুন ভাস্কর্য, কমিটি গঠন পোশাক খাতের সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা চাইল বিজিএমইএ গোপালগঞ্জে বিচারকের ছুড়ে মারা পেপারওয়েটে আইনজীবী আহত, আমলি ক্ষমতা প্রত্যাহার

গোপালগঞ্জে বিচারকের ছুড়ে মারা পেপারওয়েটে আইনজীবী আহত, আমলি ক্ষমতা প্রত্যাহার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০৪:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

গোপালগঞ্জের একটি আদালতে এজলাস চলাকালে বিচারকের ছুড়ে মারা কাচের পেপারওয়েটের আঘাতে সাবিহা সুলতানা নামের এক শিক্ষানবিশ নারী আইনজীবী আহত হয়েছেন। গত বুধবার দুপুরে গোপালগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২–এ এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর অভিযুক্ত বিচারক মো. সুজন মিয়ার আমলি ক্ষমতা (কগনিজেন্স পাওয়ার) প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।

আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় এজলাসে মামলা পরিচালনাকালে পেছনের সারিতে কয়েকজন আইনজীবীর কথাবার্তা বলা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারক সুজন মিয়া। প্রথমে তিনি টেবিলে চাপড়ে তাঁদের নীরব থাকার ইঙ্গিত দেন। তবে পরিস্থিতি শান্ত না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি নিজের টেবিল থেকে একটি কাচের পেপারওয়েট ছুড়ে মারেন। সেই পেপারওয়েটটি গিয়ে সরাসরি শিক্ষানবিশ আইনজীবী সাবিহা সুলতানার মাথার ডান পাশে আঘাত করে। এতে তিনি রক্তাক্ত হন। উপস্থিত আইনজীবীরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান এবং সেখানে তাঁকে সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাবিহা সুলতানা জানান, ঘটনার সময় তিনি এজলাসে চুপচাপ বসে নিজের সেরেস্তার নথিপত্র দেখছিলেন। হঠাৎ একটি বস্তু এসে তাঁর মাথায় আঘাত করলে রক্ত পড়তে শুরু করে। পরে তিনি দেখতে পান মেঝেতে একটি পেপারওয়েট পড়ে আছে। বুধবার রাতে তিনি জানান, তাঁর কপালে কোনো সেলাই লাগেনি, তবে মাথায় এখনো প্রচণ্ড ব্যথা রয়েছে।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর জেলা আইনজীবী সমিতির নেতারা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে মৌখিকভাবে তীব্র প্রতিবাদ ও অভিযোগ জানান। পরবর্তীতে বিচারক সুজন মিয়ার আমলি ক্ষমতা প্রত্যাহার সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। গোপালগঞ্জ জজ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম প্রজ্ঞাপন জারির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এম এ আলম সেলিম ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, একজন বিচারকের কাছ থেকে এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি আরও জানান, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের যেহেতু কোনো বিচারককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার এখতিয়ার নেই, তাই তাঁরা সাময়িকভাবে ওই আদালতের কার্যক্রম অন্য বিচারকের মাধ্যমে পরিচালনার দাবি জানান। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাঁদের এই দাবি মেনে নিয়েছেন। এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করতে বৃহস্পতিবার সকালে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা জজের সঙ্গে আইনজীবীদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

গোপালগঞ্জে বিচারকের ছুড়ে মারা পেপারওয়েটে আইনজীবী আহত, আমলি ক্ষমতা প্রত্যাহার

আপডেট সময় : ১১:০৪:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
print news

গোপালগঞ্জের একটি আদালতে এজলাস চলাকালে বিচারকের ছুড়ে মারা কাচের পেপারওয়েটের আঘাতে সাবিহা সুলতানা নামের এক শিক্ষানবিশ নারী আইনজীবী আহত হয়েছেন। গত বুধবার দুপুরে গোপালগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২–এ এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর অভিযুক্ত বিচারক মো. সুজন মিয়ার আমলি ক্ষমতা (কগনিজেন্স পাওয়ার) প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।

আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় এজলাসে মামলা পরিচালনাকালে পেছনের সারিতে কয়েকজন আইনজীবীর কথাবার্তা বলা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারক সুজন মিয়া। প্রথমে তিনি টেবিলে চাপড়ে তাঁদের নীরব থাকার ইঙ্গিত দেন। তবে পরিস্থিতি শান্ত না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি নিজের টেবিল থেকে একটি কাচের পেপারওয়েট ছুড়ে মারেন। সেই পেপারওয়েটটি গিয়ে সরাসরি শিক্ষানবিশ আইনজীবী সাবিহা সুলতানার মাথার ডান পাশে আঘাত করে। এতে তিনি রক্তাক্ত হন। উপস্থিত আইনজীবীরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান এবং সেখানে তাঁকে সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাবিহা সুলতানা জানান, ঘটনার সময় তিনি এজলাসে চুপচাপ বসে নিজের সেরেস্তার নথিপত্র দেখছিলেন। হঠাৎ একটি বস্তু এসে তাঁর মাথায় আঘাত করলে রক্ত পড়তে শুরু করে। পরে তিনি দেখতে পান মেঝেতে একটি পেপারওয়েট পড়ে আছে। বুধবার রাতে তিনি জানান, তাঁর কপালে কোনো সেলাই লাগেনি, তবে মাথায় এখনো প্রচণ্ড ব্যথা রয়েছে।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর জেলা আইনজীবী সমিতির নেতারা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে মৌখিকভাবে তীব্র প্রতিবাদ ও অভিযোগ জানান। পরবর্তীতে বিচারক সুজন মিয়ার আমলি ক্ষমতা প্রত্যাহার সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। গোপালগঞ্জ জজ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম প্রজ্ঞাপন জারির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এম এ আলম সেলিম ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, একজন বিচারকের কাছ থেকে এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি আরও জানান, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের যেহেতু কোনো বিচারককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার এখতিয়ার নেই, তাই তাঁরা সাময়িকভাবে ওই আদালতের কার্যক্রম অন্য বিচারকের মাধ্যমে পরিচালনার দাবি জানান। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাঁদের এই দাবি মেনে নিয়েছেন। এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করতে বৃহস্পতিবার সকালে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা জজের সঙ্গে আইনজীবীদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo