ঢাকা ০৯:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শহিদ ডা. কবিরুলের মেয়ের এসএসসি সাফল্যে পাশে দাঁড়ালেন ডা. রফিকূল পরিবর্তনহীন পুলিশ: এখনো ঘুস ও বদলি বাণিজ্যের পুরোনো বৃত্তেই ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে মার্কিন বিনিয়োগের আহ্বান শিল্পমন্ত্রীর ঘুষ না পেয়ে ঠিকাদারের হাত ভাঙার অভিযোগ সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে কোনো আপস নয়: নুরুন্নিসা সিদ্দিকা ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দুই সন্তানকে হাওরে ফেলে হত্যা, ঘাতক বাবা গ্রেপ্তার রাষ্ট্রপতি প্রার্থী চূড়ান্ত করতে বৃহস্পতিবার বৈঠকে বসছে বিএনপি ১২ বছরে ১১৭ কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন পেল সরকার ফ্যাসিবাদের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশে কোকোর মৃত্যু: রিজভী বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে শপিংমল ও দোকানপাট রাত ৮টার মধ্যে বন্ধের নির্দেশ

৫ মে মানুষ কেঁদেছে, ৫ আগস্ট সবাই রাজপথে নেমেছিল: মঞ্জু

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২০:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

এবি পার্টির (আমার বাংলাদেশ পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের নৃশংসতা দেখে মানুষ গুমরে কেঁদেছে, কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই রাজপথে নেমে এসেছে। তারা একতাবদ্ধ হয়ে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলে ফ্যাসিবাদী শক্তিকে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছে। এটিই হচ্ছে গণঅভ্যুত্থানের আসল তাৎপর্য ও বাস্তবতা।

বুধবার (২২ জুলাই) সকালে রাজধানীর বিজয়নগরে এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ‘আলেম, ওলামা ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধ: রক্তবিধৌত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের জয়’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাদাতুল্লাহ টুটুল।

মজিবুর রহমান মঞ্জু ১৯৭১ সালের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সে সময় পরাজিত অপশক্তি আত্মসমর্পণ করে পাকিস্তানে পালিয়ে গেলেও তাদের এ দেশীয় দোসর ও রাজাকার-আলবদররা পরবর্তীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে আশ্রয় নেয়। তাদের একটি বড় অংশ তৎকালীন আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছিল। এবারও ফ্যাসিবাদী শক্তির পতনের পর তাদের কিছু দালাল ও প্রেতাত্মা দেশে রয়ে গেছে। তারা এখন নানাভাবে ফ্যাসিবাদকে পুনরায় প্রাসঙ্গিক করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আলেম-ওলামাদের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, সাধারণ সময়ে আলেম সমাজ সক্রিয় দলীয় রাজনীতি থেকে দূরে থাকলেও জাতীয় সংকটে তারা সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, ১৯৪৭ সালের দেশভাগ, ভাষা আন্দোলন এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ দেশের প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে আলেমদের অবদান অত্যন্ত গৌরবোজ্জ্বল। জুলাই আন্দোলনেও সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আলেম-ওলামারা দলে দলে রাজপথে নেমে এসেছিলেন।

আন্দোলনের ধারাবাহিকতা উল্লেখ করে এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে আসেন। এরপর পর্যায়ক্রমে college, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা এতে যুক্ত হন। সবশেষে সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ, নারী-পুরুষ ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা রাজপথে নেমে এলে আন্দোলন সফলতায় রূপ নেয়। তিনি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও আলেমদের জাতির শ্রেষ্ঠ বীর হিসেবে আখ্যায়িত করে গভীর শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে যারা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ফ্যাসিবাদের পক্ষ নিয়েছিলেন, তাদের কঠোর সমালোচনা করেন。

আলোচনা সভায় ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের সদস্যসচিব মাওলানা সানাউল্লাহ বলেন, মূলত ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনার মাধ্যমেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীজ রোপিত হয়েছিল। তৎকালীন সরকার নিজেদের ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে আলেমদের ওপর জঙ্গিবাদের তকমা ব্যবহার করেছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন।

ইসলামি যুব সমাজের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল আল মাসুদ খান তার বক্তব্যে বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সরাসরি কোনো স্বার্থ না থাকলেও তারা দেশের স্বার্থে আবাবিল পাখির মতো ঝাঁকে ঝাঁকে রাজপথে নেমে এসেছিলেন এবং আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন।

উক্ত আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক শাহ আব্দুর রহমান, গণশিক্ষা ও পাঠাগারবিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার ফারুক, মহানগর দক্ষিণের সদস্যসচিব বারকাজ নাসির আহমদ, সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, রিপন মাহমুদ, সহকারী অর্থ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, সহকারী দপ্তর সম্পাদক মশিউর রহমান মিলু, মহানগর দক্ষিণ যুব পার্টির আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান এবং রমনা থানার আহ্বায়ক আব্দুল কাদের মুন্সীসহ দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

বুধবার (২২ জুলাই) এবি পার্টির জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২য় বার্ষিকীতে ‘আলেম, ওলামা ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধ: রক্তবিধৌত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের জয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ৭১-এ পরাজিত শক্তি আত্মসমর্পণ করে এবং পাকিস্তানে পালিয়ে যায়। কিন্তু তাদের দালাল ও প্রেতাত্মা রাজাকার আলবদরেরা আবার সংগঠিত হয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে আশ্রয় নেয়। তালিকা অনুযায়ী তাদের বড় অংশ ছিল আওয়ামী লীগের। এবারও ফ্যাসিবাদ পালিয়ে যাওয়ার পর তাদের কিছু দালাল ও প্রেতাত্মা এ দেশে রয়ে গেছে। তারা এখন ইনি

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor

নিউজটি শেয়ার করুন

৫ মে মানুষ কেঁদেছে, ৫ আগস্ট সবাই রাজপথে নেমেছিল: মঞ্জু

আপডেট সময় : ১০:২০:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
print news

এবি পার্টির (আমার বাংলাদেশ পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের নৃশংসতা দেখে মানুষ গুমরে কেঁদেছে, কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই রাজপথে নেমে এসেছে। তারা একতাবদ্ধ হয়ে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলে ফ্যাসিবাদী শক্তিকে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছে। এটিই হচ্ছে গণঅভ্যুত্থানের আসল তাৎপর্য ও বাস্তবতা।

বুধবার (২২ জুলাই) সকালে রাজধানীর বিজয়নগরে এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ‘আলেম, ওলামা ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধ: রক্তবিধৌত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের জয়’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাদাতুল্লাহ টুটুল।

মজিবুর রহমান মঞ্জু ১৯৭১ সালের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সে সময় পরাজিত অপশক্তি আত্মসমর্পণ করে পাকিস্তানে পালিয়ে গেলেও তাদের এ দেশীয় দোসর ও রাজাকার-আলবদররা পরবর্তীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে আশ্রয় নেয়। তাদের একটি বড় অংশ তৎকালীন আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছিল। এবারও ফ্যাসিবাদী শক্তির পতনের পর তাদের কিছু দালাল ও প্রেতাত্মা দেশে রয়ে গেছে। তারা এখন নানাভাবে ফ্যাসিবাদকে পুনরায় প্রাসঙ্গিক করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আলেম-ওলামাদের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, সাধারণ সময়ে আলেম সমাজ সক্রিয় দলীয় রাজনীতি থেকে দূরে থাকলেও জাতীয় সংকটে তারা সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, ১৯৪৭ সালের দেশভাগ, ভাষা আন্দোলন এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ দেশের প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে আলেমদের অবদান অত্যন্ত গৌরবোজ্জ্বল। জুলাই আন্দোলনেও সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আলেম-ওলামারা দলে দলে রাজপথে নেমে এসেছিলেন।

আন্দোলনের ধারাবাহিকতা উল্লেখ করে এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে আসেন। এরপর পর্যায়ক্রমে college, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা এতে যুক্ত হন। সবশেষে সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ, নারী-পুরুষ ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা রাজপথে নেমে এলে আন্দোলন সফলতায় রূপ নেয়। তিনি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও আলেমদের জাতির শ্রেষ্ঠ বীর হিসেবে আখ্যায়িত করে গভীর শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে যারা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ফ্যাসিবাদের পক্ষ নিয়েছিলেন, তাদের কঠোর সমালোচনা করেন。

আলোচনা সভায় ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের সদস্যসচিব মাওলানা সানাউল্লাহ বলেন, মূলত ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনার মাধ্যমেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীজ রোপিত হয়েছিল। তৎকালীন সরকার নিজেদের ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে আলেমদের ওপর জঙ্গিবাদের তকমা ব্যবহার করেছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন।

ইসলামি যুব সমাজের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল আল মাসুদ খান তার বক্তব্যে বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সরাসরি কোনো স্বার্থ না থাকলেও তারা দেশের স্বার্থে আবাবিল পাখির মতো ঝাঁকে ঝাঁকে রাজপথে নেমে এসেছিলেন এবং আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন।

উক্ত আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক শাহ আব্দুর রহমান, গণশিক্ষা ও পাঠাগারবিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার ফারুক, মহানগর দক্ষিণের সদস্যসচিব বারকাজ নাসির আহমদ, সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, রিপন মাহমুদ, সহকারী অর্থ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, সহকারী দপ্তর সম্পাদক মশিউর রহমান মিলু, মহানগর দক্ষিণ যুব পার্টির আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান এবং রমনা থানার আহ্বায়ক আব্দুল কাদের মুন্সীসহ দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

বুধবার (২২ জুলাই) এবি পার্টির জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২য় বার্ষিকীতে ‘আলেম, ওলামা ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধ: রক্তবিধৌত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের জয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ৭১-এ পরাজিত শক্তি আত্মসমর্পণ করে এবং পাকিস্তানে পালিয়ে যায়। কিন্তু তাদের দালাল ও প্রেতাত্মা রাজাকার আলবদরেরা আবার সংগঠিত হয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে আশ্রয় নেয়। তালিকা অনুযায়ী তাদের বড় অংশ ছিল আওয়ামী লীগের। এবারও ফ্যাসিবাদ পালিয়ে যাওয়ার পর তাদের কিছু দালাল ও প্রেতাত্মা এ দেশে রয়ে গেছে। তারা এখন ইনি

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor