ঢাকা ০৯:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যাত্রীবাহী বগি ফেলে এক কিলোমিটার দূরে ছুটল ট্রেনের ইঞ্জিন ঠাকুরগাঁও-১ উপ-নির্বাচন সুষ্ঠু করতে বদ্ধ পরিকর ইসি হরমুজে মার্কিন ড্রোন আটকের দাবি ইরানের, যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি অস্বীকার শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেওয়া যাবে না: উপ-উপাচার্য লাতিন আমেরিকার বাজারে রপ্তানি বাড়াতে নতুন উদ্যোগ বাংলাদেশের জুলাই-আগস্টে ৮৬২৬ কোটি টাকার বিদেশি ঋণ পরিশোধ করল বাংলাদেশ বাংলাদেশকে হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই: অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক সংবিধান সংশোধনের নামে নতুন গণভোট জাতির সাথে তামাশা: রাশেদ প্রধান কিছু করে দেখান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ইউটিউবার সালমান মুক্তাদির আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ‘ছোটদের সময় প্রকাশনী’র ৮ নতুন বইয়ের প্রকাশ

সংবিধান সংস্কারের নামে প্রহসন হলে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি নাহিদ ইসলামের

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৯:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬ ৩৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



সংবিধান সংস্কারের নামে প্রহসন না করে দ্রুত গণভোটের মাধ্যমে জনগণের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। এই দাবি পূরণ না হলে ওলামা অ্যালায়েন্সসহ জুলাই বিপ্লবের সব অংশীজন ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রাজপথে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

সোমবার রাজধানীর বিএমএ অডিটরিয়ামে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স আয়োজিত ‘রক্তাক্ত জুব্বা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, আন্দোলন ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। তবে সরকার চাইলে এখনো সংসদের ভেতরে আলোচনার মাধ্যমে উদ্ভূত সমস্যার সমাধান করার সুযোগ রয়েছে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ইসলামী ও রাজনৈতিক দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে পুঁজি করে কেউ রাজনীতি করছে না উল্লেখ করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, রাষ্ট্র সংস্কার, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠন এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার যে আকাঙ্ক্ষা ছিল, তা বাস্তবায়নের দাবি তোলা হচ্ছে। সরকার যদি একে ‘জুলাই চেতনা বিক্রি’ বলে আখ্যা দেয়, তবে সেটি তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক ব্যাখ্যা। কিন্তু দেশের মানুষ আসল বাস্তবতা খুব ভালো করেই জানে। তিনি মনে করিয়ে দেন, জুলাই বিপ্লবের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী বর্তমান সরকার এবং এই বিপ্লবের ওপর ভর করেই তারা রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে। অথচ ক্ষমতায় বসার পর তারা জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে।

আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, আগামীতে জুলাই বিপ্লবের দুই বছর পূর্তিতে বিভিন্ন অংশীজনের অবদান মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ১৮ থেকে ২০ জুলাই যখন সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ ছিল, তখন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাই রাজপথে নেমে আন্দোলনে নতুন গতি এনে দিয়েছিল। ২০১৩ সালের আন্দোলন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যাটবিরোধী আন্দোলন, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ছাত্রসমাজের মধ্যে এই বৃহত্তর ঐক্য গড়ে উঠেছিল। যেকোনো জাতীয় সংকটে এই ঐক্য বজায় রেখে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি。

ওলামা ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের অবদানের কথা স্মরণ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ওলামাদের অনন্য ভূমিকা ছিল। অথচ বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ইসলাম ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ওপর ‘জঙ্গিবাদ’ তকমা দিয়ে চরম দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, ‘রক্তাক্ত জুব্বা’ শুধু জুলাই বিপ্লবের প্রতীক নয়, বরং গত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের ওপর চলা নির্যাতনেরও প্রতীক। ভবিষ্যতে এই জুব্বা সংগ্রাম ও বিদ্রোহের অনুপ্রেরণা জোগাবে।

সেমিনারে তিনি জুলাই বিপ্লব, শাপলা চত্বরের আন্দোলন এবং মোদিবিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত ওলামা ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সম্মাননা দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকার একদিকে রাষ্ট্রপতির আদেশকে অবৈধ ও সংবিধানবিরোধী বলছে, অন্যদিকে সেই রাষ্ট্রপতিকেই পদে বহাল রেখেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সরকারকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া ২০২৬ সালের নির্বাচন বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর যে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, তাকে শুধু সংবিধানের গণ্ডিতে ব্যাখ্যা না করে জনগণের রায় ও আকাঙ্ক্ষার আলোকে মূল্যায়ন করতে হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

সংবিধান সংস্কারের নামে প্রহসন হলে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি নাহিদ ইসলামের

আপডেট সময় : ০৮:৪৯:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

সংবিধান সংস্কারের নামে প্রহসন না করে দ্রুত গণভোটের মাধ্যমে জনগণের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। এই দাবি পূরণ না হলে ওলামা অ্যালায়েন্সসহ জুলাই বিপ্লবের সব অংশীজন ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রাজপথে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

সোমবার রাজধানীর বিএমএ অডিটরিয়ামে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স আয়োজিত ‘রক্তাক্ত জুব্বা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, আন্দোলন ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। তবে সরকার চাইলে এখনো সংসদের ভেতরে আলোচনার মাধ্যমে উদ্ভূত সমস্যার সমাধান করার সুযোগ রয়েছে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ইসলামী ও রাজনৈতিক দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে পুঁজি করে কেউ রাজনীতি করছে না উল্লেখ করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, রাষ্ট্র সংস্কার, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠন এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার যে আকাঙ্ক্ষা ছিল, তা বাস্তবায়নের দাবি তোলা হচ্ছে। সরকার যদি একে ‘জুলাই চেতনা বিক্রি’ বলে আখ্যা দেয়, তবে সেটি তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক ব্যাখ্যা। কিন্তু দেশের মানুষ আসল বাস্তবতা খুব ভালো করেই জানে। তিনি মনে করিয়ে দেন, জুলাই বিপ্লবের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী বর্তমান সরকার এবং এই বিপ্লবের ওপর ভর করেই তারা রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে। অথচ ক্ষমতায় বসার পর তারা জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে।

আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, আগামীতে জুলাই বিপ্লবের দুই বছর পূর্তিতে বিভিন্ন অংশীজনের অবদান মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ১৮ থেকে ২০ জুলাই যখন সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ ছিল, তখন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাই রাজপথে নেমে আন্দোলনে নতুন গতি এনে দিয়েছিল। ২০১৩ সালের আন্দোলন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যাটবিরোধী আন্দোলন, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ছাত্রসমাজের মধ্যে এই বৃহত্তর ঐক্য গড়ে উঠেছিল। যেকোনো জাতীয় সংকটে এই ঐক্য বজায় রেখে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি。

ওলামা ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের অবদানের কথা স্মরণ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ওলামাদের অনন্য ভূমিকা ছিল। অথচ বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ইসলাম ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ওপর ‘জঙ্গিবাদ’ তকমা দিয়ে চরম দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, ‘রক্তাক্ত জুব্বা’ শুধু জুলাই বিপ্লবের প্রতীক নয়, বরং গত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের ওপর চলা নির্যাতনেরও প্রতীক। ভবিষ্যতে এই জুব্বা সংগ্রাম ও বিদ্রোহের অনুপ্রেরণা জোগাবে।

সেমিনারে তিনি জুলাই বিপ্লব, শাপলা চত্বরের আন্দোলন এবং মোদিবিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত ওলামা ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সম্মাননা দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকার একদিকে রাষ্ট্রপতির আদেশকে অবৈধ ও সংবিধানবিরোধী বলছে, অন্যদিকে সেই রাষ্ট্রপতিকেই পদে বহাল রেখেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সরকারকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া ২০২৬ সালের নির্বাচন বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর যে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, তাকে শুধু সংবিধানের গণ্ডিতে ব্যাখ্যা না করে জনগণের রায় ও আকাঙ্ক্ষার আলোকে মূল্যায়ন করতে হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh