ঈশ্বরদীতে রান্নার ঝামেলা এড়াতে ড্যাগে রান্না মাংসে ঝুঁকছেন ক্রেতারা
- আপডেট সময় : ০৪:৩০:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

পাবনার ঈশ্বরদীতে ড্যাগে রান্না করা গরুর মাংসের প্রতি মানুষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। স্বাদ, ঝাল-মসলার বৈচিত্র্য এবং সহজলভ্যতার কারণে স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্তের মানুষও এই খাবারের দিকে ঝুঁকছেন। বিশেষ করে বাড়িতে রান্নার ঝামেলা এড়াতে অনেকেই এখন শহরের বিভিন্ন খাবারের দোকান ও বাজার থেকে ড্যাগে রান্না করা মাংস কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর কিংবা বিকেল পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন দোকানে এই মাংস কিনতে ক্রেতাদের ভিড় দেখা যায়। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈশ্বরদীর বিভিন্ন বাজার ও ভাজাপোড়ার দোকানে বড় ড্যাগে মাংস রান্না করে বিক্রি করা হয়। দুপুরের খাবারের সময় এসব দোকানে ক্রেতাদের আনাগোনা বিশেষভাবে বৃদ্ধি পায়। অনেকে ভাত, খিচুড়ি বা রুটির সঙ্গে খাওয়ার জন্য পছন্দের মাংস কিনছেন।
বিক্রেতারা জানিয়েছেন, চাহিদা বাড়ায় প্রতিদিন আগের তুলনায় বেশি পরিমাণে মাংস রান্না করতে হচ্ছে। সকালেই অনেক দোকানে মাংসের বড় অংশ বিক্রি হয়ে যায়। ছুটির দিন ও বিশেষ দিনে এই চাহিদা আরও বেড়ে যায়।
ঈশ্বরদী পৌর শহরের বকুলের মোড়ে অবস্থিত রাশেদুলের খিচুড়ি হাউজের বিক্রেতা আমদ আলী জানান, তিনি বিয়ে ও অন্যান্য অনুষ্ঠানের আদলে ড্যাগে গরুর মাংস রান্না করে বিক্রি করেন। তিনি বলেন, “আগে সীমিত পরিমাণে মাংস রান্না করতাম। এখন ক্রেতা বেড়ে যাওয়ায় বেশি পরিমাণে রান্না করতে হয়। ভালো মানের মাংস ও মসলা ব্যবহার করায় ক্রেতারা বারবার আসছেন।”
গৌরীপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সহকারী অধ্যাপক ফরিদ আহমেদ ড্যাগে রান্না করা মাংস কিনতে এসে বলেন, এই মাংসের স্বাদ অনেকটা ঘরোয়া রান্নার মতো। তুলনামূলক কম সময়ে পছন্দের মাংস কেনার সুযোগ থাকায় কর্মজীবী ও ব্যস্ত মানুষের মধ্যেও এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে। ব্যস্ত জীবনে রান্নার সময় ও পরিশ্রম বাঁচাতে অনেকেই এখন তৈরি খাবারের দিকে ঝুঁকছেন, আর ড্যাগে রান্না করা মাংস সেই চাহিদা পূরণে সহায়তা করছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, মানুষের খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন এবং দ্রুত খাবার পাওয়ার চাহিদার কারণে ড্যাগে রান্না করা মাংসের বাজার ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে। জনপ্রিয়তার সঙ্গে খাবারের মান, পরিচ্ছন্নতা ও সঠিক ওজন বজায় রেখে স্বাদ অক্ষুণ্ন রাখতে পারলে এটি ঈশ্বরদীর অন্যতম জনপ্রিয় স্থানীয় খাবারে পরিণত হতে পারে। ক্রেতারাও বিক্রেতাদের কাছে খাবারের মান, পরিচ্ছন্নতা ও সঠিক ওজন নিশ্চিত করার প্রত্যাশা করছেন।



























